এক টুকরো শৈশব- ইসহাক নাজির
মক্তবে পড়তে আসা বাচ্চাদের বাবারা তাদের সোনামণিকে, সেই পাখি ডাকা ভোরে, নূরানী মক্তবে দিয়ে যাবার দৃশ্য, আমাকে যেনো আমার ফেলে আসা দূর শৈশবে হারিয়ে যেতে খানিকটা বাধ্যই করে। সেই প্রতিটি বাচ্চার মধ্যে আমি যেনো আমাকে, আর বাচ্চার বাবাদের মধ্যে আমার আব্বুকেই দেখতে পাই। মনে পড়ে যায়,সেই সোনালী সকালগুলোর কথা। ছুটির অপেক্ষায় আম্মুর দ্বোরগোড়ে দাঁড়িয়ে কাটানো সময়গুলোও এখনো মুছে যায়নি স্মৃতিপট থেকে। রোদ্দুর দুপুরে টিফিন ক্যারিয়ারে করে খানা নিয়ে আসা আব্বু থেকে তাঁর ওয়াদাকৃত দৈনিক এক পৃষ্ঠা সবকে "দশ" টাকা আদায়ের কথাটাও দেখছি এখনো তেমনি স্মৃতিতে ভাস্বর রয়েছে। হেফজখানার প্রথম জীবনে আম্মু খানা নিয়ে এসে বারান্দায় বসিয়ে নিজ হাতে মুখে তুলে লোকমা লোকমা খাইয়ে দিতেন- এগুলো তো এখনো মনে পড়লে তীব্রতর লজ্জায় আর বিনম্র শ্রদ্ধায় মাথাটা নুঁয়ে আসে। এমনই ছিল আমার শৈশব! শৈশবের সোনালীরাই একদিন ভবিষ্যতের আকাশে সূর্য হয়ে হাসে। আমার আকাশেও আমি সেই সূর্যের উদয়ন প্রত্যাশী। তাই খানিকটা সময় স্মৃতিমন্থন করলাম। এক টুকরো শৈশব- ইসহাক নাজির। ০৮-০৯-২০২০ইং