পোস্টগুলি

জুলাই ১০, ২০২০ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

আমার কথাঃ তোমায় মনে পড়ে মা গো! তোমায় মনে পড়ে!

খুব ভোরে আঁধার মিলিয়ে যাবার আগেই আজ আমরা বেরিয়ে পড়ি। সেই সকাল থেকেই ঝিরিঝিরি বৃষ্টি‌ আর বাদলা হাওয়ার দৈত সমীরণে ব্রহ্মপুত্রের বুকে ভেসে চলছে আমাদের ত্রাণ বোঝাই ট্রলার। অবিরত বর্ষণে দিগন্তের সবুজকে আজ ঝাপসা দেখাচ্ছে। উপরের ঘোলাটে আর্দ্র আকাশ, নিচে অন্ত্যহীন-বিস্তৃত দরিয়ার হাতছানি এবং ভরা যৌবনা ব্রহ্মপুত্রের রূপ-সৌন্দর্য! অথচ এসবের কিছুই আমার মন  ভোলাতে পারছে না। মন পড়ে আছে সেই সুদূর-আকর্ষণী আমার আম্মুর কোলে। আজকের এই দিনে, যে দিন বছরে একদিনেই এসে একদিনেই চলে যায়, সেই দিন আমার আম্মু-আব্বুর স্পর্শহীন বিদায় নেয়নি কখনো। অথচ আজ আমি আম্মু-আব্বু থেকে চারশো কিলো দূরের বন্যাঞ্চল কুড়িগ্রামে সফররত। আজকের ঘন বর্ষণ আমার স্মৃতিতে জাগিয়ে তোলে একটি বৃষ্টিভেজা মধ্যদুপুরের কথা।১৯৯৭'র ৭ই জুলাই, বেলা বারোটা৷ আজকের মতো সেদিনও ছিলো প্রবল বৃষ্টির দিন৷ নদীর পানিতে আমাদের ট্রলার ভেসে চলার মতো আমার মস্তিষ্কে ভেসে বেড়ায় তেইশ বছর পূর্বেকার আমার যুবতী এবং প্রসূতি মায়ের কথা। আজ চারশো কিলো দূরত্বের এই সফরে আম্মুকে একটু দেখার আকুলতার মতো সেদিনও বুঝি আমাকে একটু দেখার  পিপাসায় কাতরে উঠছিলো আম্মু। আম্মুর মুখ...

এপার-ওপার

ছবি
এসেছি ঢামেকে (ঢাকা মেডিকেল কলেজ)। নামাজ আদায়ের জন্য তো আমরা বলতে গেলে একরকম মসজিদে  পড়েই থাকি৷ তবু হাসপাতাল আর কবরস্থান- এই দু জায়গায় আমাদের আসতে হয়। অন্য কারো টানে না হোক, অন্ততপক্ষে আন্তরিক শুদ্ধিকরণার্থে হলেও আসতে হয়,আসা উচিৎ। যেখানে দিনরাত্রি চলে জন্ম আর মৃত্যুর অমোঘ খেলা! হাসলো কেউ কাঁদছে বা অন্যজনা! কারো হয়তো দোলনা দোলে,কারো জন্য প্রস্তুত করা হয় বেলা-অবেলার শবযাত্রা! গতরাতে ফোন কলে জানলাম- ছোট চাচ্চু আর ছোট আন্টির প্রণয়-সূত্রে প্রথমবারের মতো তাদের কোল জুড়ে, ঘর আলোকিত করতে খোদার রহমত হয়ে এসেছে ফুটফুটে এক সুদর্শন। তার সু-আগতের জন্যই এসেছি কোলাহলমুখর এই ঢামেকে। অজস্র জন্ম আর মৃত্যুর সাক্ষি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে যে। স্মৃতি হাতড়ে দেখি, যে আমাকে পৃথিবীর আলোয় আলোকিত করেছিলো ঠিক,তবে আমার নানাভাইয়ের আলো চিরতরে কেড়ে নিয়েছিলো,শেষ রক্ষা করতে পারেনি-এসেছি সেই ঢামেকেই। প্রথমে নির্দিষ্ট কেবিন খোঁজার বিড়ম্বনা। খোঁজ মেলার পর শত প্রসবিনীর ছায়া মাড়িয়ে নির্দিষ্ট পথ ধরে হেটে চললাম। সরকারী হাসপাতালের প্রতি আমার এই একটা অভিযোগ, সরকারিভাবেই যে যার মতো শুয়ে-বসে সময় পার করছে। অবশ্য এখন এতো না। তবুও পারস...