পোস্টগুলি

গল্প লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

একটি শুভ্র প্রার্থনা

ছবি
জায়নামাজে দুয়ায় বসে কাঁদছেন রোকেয়া। কান্নার দমকেই বোঝা যাচ্ছে কতোটা আকুলতা তাঁর মুনাজাতে। যেন অসহায় কোন বাঁদি মনিবের দুয়ারে প্রাণভিক্ষার দাবীতে ফোঁপাচ্ছে। মানুষ তার রবের নিকট কতোটা যে অসহায়, রোকায়া জামানিকে দেখে কিছুটা হলেও আঁচ করা যায়।  তিনি কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে বলছেন, “আয় আল্লাহ! আয় পরওয়ারদেগার! আর কত অপেক্ষা করা যায়! আর কতকাল এতোদূরে বসে থাকতে হবে! সারাজীবনের সাধ এবার তো পূরণ করুন! জীবনের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছি, সারাজীবনের যত পুঁজি একত্র করে আপনার দুয়ারে আঁচল পেতেছি। এবার তো দেখিয়ে দিন আপনার হারামাইনের আলো! এবার তো যেতে দিন আপনার ঘরের দরজায়! এবার একটু আশ্রয় দিন আপনার কাবার ছায়ায়! আপনার হাবীবের রওজায় গিয়ে সালাম পেশ করার তাওফিক দিন মালিক! আমার সারাজীবনের কষ্ট-সাধনা এবার কবুল করুন”! মুনাজাত শেষ করলেন রোকেয়া জামানি। খুবই আল্লাহভীরু নারী তিনি। স্বামী মারা যাবার পর একমাত্র ছেলে রাকিবকে নিয়েই কাটিয়ে দিয়েছেন সারাটা জীবন। আত্মীয়স্বজনের পীড়ায় পড়েও ছোট্ট রাকিবের মুখের দিকে তাকিয়ে আর বিয়ে করেননি তিনি।  একজন বিধবার এ সমাজে মূল্য কতোটুকু? তাই বিভিন্ন জায়গায় চাকরীর আবেদন করা সত্ত্বেও তার ...

গল্পঃ আবিরা ও একটু জমিন

ছবি
এক] শরতের থমথমে বিষণ্ন আকাশ। মেঘে মেঘে গলাগলি করে যেনো একঘরে হয়ে আছে। একটু পরপর গুরুম গুরুম শব্দে বৃষ্টি ভাঙার জানান দিয়ে যাচ্ছে নীলাকাশ। ঘরে ফেরার তাড়ায় ব্যাকুল ভঙ্গিতে ছোটাছুটি করছে লোকজন। আজ শুধু তাড়া নেই 'আবিরা'র। এই তো ক'দিন আগেও একটা ঠিকানা ছিলো তার। বাস্তুহারা হওয়া সত্ত্বেও মাথা গোঁজার এক অনিশ্চিত অথচ প্রচ্ছন্ন ছায়া ছিলো। নিজেকে পুড়িয়ে যেমন দেবদারু বৃক্ষটা, আরামপ্রত্যাশী মানুষকে নিজ ছায়া বিলিয়ে চলে, ঠিক তেমনি রোদ্রের প্রখরতা,বাদলা দিনের তাণ্ডব আর সহস্র চোখ রাঙানী উপেক্ষা করে আবিরাকে তার মায়া বিতরণ করতো তার স্নেহময়ী মা; আলেয়া খন্দকার। তিনি বড্ড অবেলায় ছেড়ে গেছেন নয় বছরের আবিরাকে। চার বছরের আবরারকে সপে গেছেন তার হাতে। আজ মায়ের সর্বশেষ সম্বল আবরারকে বুকে আঁকড়ে ধরেই পথে পথে ঘুরছে আবিরা। পায়ে ছেঁড়া চটি,গায়ে একমাত্র জামা আর পেটে ক্ষুধার অন্ন তালাশে হন্যে হয়ে ঘুরছে সে। ক্ষুধার্ত আবিরা; ক্ষুধার্ত নিষ্পাপ আবরার। হাটতে হাটতে এক অভিজাত রেস্তোরার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে সে। বড় করুণ স্বরে হোটেলবয়কে বললো,"ভাইয়া! আমি আর আমার ছোটভাই সারাদিন কিছু খাইনি। কিছু খেতে দেবেন"? হোটেলব...

পৃথিবীতে হয়তো সন্ধ্যে...

ছবি
দরোজা খুলতেই চমকে উঠলো আফরা, "তুমি"? প্রাণোচ্ছলতায় ভরপুর সদা সুহাসিনী এক তরুণী দাঁড়িয়ে আমার সামনে। আমার আফরা। বাবার দেয়া 'আফরা আঞ্জুম'। কুদরতের শৈল্পিক হাতে খুবই নিপুণভাবে সাজানো হয়েছে ওকে। মুখময় সে কী মায়া! তাই আমি ওর নাম দিয়েছি 'মায়াবী'। জ্ঞানের তীব্র আকুলতা যেমন আছে ওর ভেতর,তেমনি আছে  খোদা-প্রেমের তপ্ত  তিয়াসও। অবসরের সময়টাকে হেলায় হারানোর মতো নয় সে আদৌ। সময় পেলেই কুরআন কিংবা বিবিধ বইয়ের জ্ঞান-সরোবরে ডুব দিয়ে যায়। সেদিন প্রয়োজনীয় কিছু কাজ সেরে বাসায় ফিরতে গভীর রাত হয়ে গেছে। পথরোধ করে দাঁড়িয়েছিলো হঠাৎ বৃষ্টি। সামান্য বর্ষণেই মেঘে মেঘে ছেয়ে গেছে আকাশ। চাঁদ যেনো ঢাকা পড়ে গেছে সেই মেঘরাজ্যের আড়ালে। অন্ধকার রাতে পুরোদস্তুর ভিজে গেছি আমি। কাকভেজা যাকে বলে, ঠিক তাইই। বাসায় ফিরতেই দেখি, জায়নামাযে বসে কুরআন তিলাওয়াতে মগ্ন আফরা। আমাকে দেখে তিলাওয়াত শেষ করে কাছে এসে বললো,"এতো রাত করলে যে? ফোনটাও সুইচঅফ করে রেখেছো"। আমি বললাম,"বাহিরে প্রচন্ড বৃষ্টি। তাই আটকা পড়ে গিয়েছিলাম। আর ফোনটাও দু'দিন যাবৎ সমস্যা করছে"। "বাবা কতোবার বলেছে একটা ...