পোস্টগুলি

নভেম্বর ১৮, ২০২০ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

রোজনামচাঃ একটি বিকেল , একটি সন্ধ্যা

ছবি
১] একটি দেখা, স্কুল জীবন পার করে এসেছিলাম সেই দু হাজার  ০৬'এ। তখন ছিলো জীবনের উদয়নকাল। আজ দেখতে দেখতে পার হয়ে গেছে দীর্ঘ চৌদ্দ বছরের একটা জীবন। সাপ যেমন পুরোনো খোলস ফেলে নতুন শরীর ধারণ করে, স্কুল জীবনের দিনকাল ভুলে নতুন জীবনের তাকীদে তেমনি শুরু করেছিলাম সবকিছু। সেই সাথে আলাদা হয়েছিলো আমার পাঠ্যক্রম, আলাদা হয়েছিলো পাঠ্যবই, তেমনি বেশভূষা এবং জীবনযাত্রার সাথে সাথে আলাদা হয়েছিলো আমার সঙ্গী-সাথীরাও।  না পড়তে পড়তে বুক শেলফের পরিচর্যাহীন বইগুলো ধূলো-বালির আস্তরণে যেভাবে আঁধারে ছেয়ে যায়, সেভাবেই যোগাযোগের অভাবে পাশাপাশি এলাকায় থাকা সত্ত্বেও অদেখাই রয়ে গিয়েছিলো আমার সোনালি  শৈশবের সেই ‘ছোট্ট’ বন্ধুরা। কোথায় যেনো শুনেছিলাম, দুনিয়াটা গোল, তাই ঘুরে ফিরে একবার দেখা হওয়া কারো সাথে আবারো দেখা হয়ে যায়।নিয়তির ঘূর্ণিপাকে আমাদেরও দেখা হয়ে গেলো আজ। সেই আমি ছিলাম, সেই সাজ্জাদ ছিলো, সেই আলিফ, সেই আকাশ এবং সেই মাজহার ছিলো। যেখান থেকে আমরা হারিয়ে গিয়েছিলাম, সেই স্কুলেরই ত্রি-সীমানা ছিলো। শুধু সেই স্কুল ঘর ছিলো না। (কেননা, তা স্থানান্তর হয়ে গেছে আরেক জায়গায়) শুধু সেই শৈশবের সোনালী দিনগুলো হারিয়ে ...

রোজনামচাঃ ভাইয়া একটা কথা বলি?

ভাইয়া, একটা কথা বলি? আমার হাতে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের “নিষ্ফলা মাঠের কৃষক”। খন্ড খন্ড বিরতিতে পড়ছি তবুও বক্তব্যের প্রভাব হৃদয়ে বিস্তার করছে। বাস এবং যে কোনো দীর্ঘ পথযাত্রায় উপকারী হিসেবে বইকেই সর্বদা প্রাধান্য দিয়ে এসেছি। আজও বইয়ে মনোনিবেশ করেছিলাম। হঠাৎ পাশের সিটে একটু আগেই এসে বসা পিচ্চি ছেলেটা ডেকে বললো, ভাইয়া একটা কথা বলি? আমি অবাক হয়ে ছেলেটার দিকে তাকালাম। গায়ে হাতাকাটা গেঞ্জি আর নিচে হাফপ্যান্ট। ছেলেটা জিজ্ঞেস করলো, ভাইয়া আপনার কি কোনো ছোটভাই আছে? এই একটা বাক্য দিয়েই পিচ্চিটা আমার মনোযোগ আকর্ষণ করে ফেললো৷ ভাবলাম পিচ্চি হয়ে আরেক পিচ্চির কথা জিজ্ঞেস করে কেনো? - হ্যা আছে। কেনো? - আপনি কি আপনার ছোটভাইকে খেলনা কিনে দেন না? - হ্যা দেই। - তাহলে আমাকেও একটা খেলনা কিনে দেন না! এতোক্ষণে বুঝলাম ও আমার কোথায় কোপ মারতে চেয়েছিলো। তবু সেই কোপ উপভোগ করেই বললাম, আমার কাছে যে টাকা নেই! - বেশি না, শুধু পঞ্চাশ টাকা দিলেই হবে। - সত্যিই আমার কাছে নেই। - আচ্ছা, তাহলে আমার থেকে এই চারটা মাস্ক কিনেন। এতোক্ষণে খেয়াল করলাম ওর হাতে মাস্কের বক্স। আমি বললাম, না না আমার মাস্কের দরকার নেই, তুমিই রাখো। - না...

এই উচ্ছল জলধারায়...

ছবি
আমার হাজার বছরের উদ্ভ্রান্ত ভালোবাসা, জনম জনমের উদ্বাস্তু আর  দিশেহারা হৃদয়ের সুশীতল আশ্রয় হোক এই "ভালোবাসার কালোঘর"! আমায় পানের সুরায় পান করাও হে সাকী, রহমতের এ অমৃত সুধা! পাপের জলসায় জ্বলে-পুড়ে ছারখার এ হৃদয়, মাতাফের এই উচ্ছল জলধারায় প্রাণ ফিরে পেতে চায়! স্নাত-পবিত্র হতে চায়, ভেসে যেতে চায় প্রেমের বাসরে।  কেউ কি আমায় একপশলা বৃষ্টি-মুখরিত ভোরের মাতাফে নিমন্ত্রণ করতে পারো? তবে তাঁর গোলাম হয়েই পার করে দেবো একলা একটা জনম। ০৫.১১.২০২০, বৃহস্পতিবার।