স্বপ্নের সাগরে...
হেফজখানার ছোট্ট পরিসর ভেদ করে কিতাবখানায় পা রাখতেই বুঝলাম আমি এক মহাসমুদ্রে এসে নেমেছি। মক্তব আর হেফজখানা যেখানে পড়েছি, পরবর্তীকালে সেখানে কিতাব বিভাগ হলেও আমাদের তখনকার সময়ে ছিল না। আর ছিল না বলেই কিতাব বিভাগের উন্মুক্ত পাঠশালা, বড় বড় কিতাব, হিজিবিজি আঁকাবাঁকা হরফের কিছুই আমি ইতোপূর্বে দেখিনি। তাই এখানে আসামাত্রই এ যে এক বিস্তৃত গহীন সাম্রাজ্য; তা বুঝতে আমার খুব একটা বেগ পেতে হলো না। কিতাব বিভাগে ভর্তি হওয়ার আগে ভাবতাম এ-ও বুঝি হেফজখানার মতোই দীর্ঘ একটা কোর্স। আলাদা কোন শ্রেণির বিভাজন এখানে নেই। কিন্তু ভর্তি হওয়ার পরেই দেখি একের পর এক শ্রেণির বিভক্তি এবং সে-সব শ্রেণির সর্বনিম্নে আমার স্থান। ইবতেদায়ী আওয়াল থেকে শুরু করে দাওরা পর্যন্ত যেতে হলে একে একে দশটা সিঁড়ি আমায় চড়তে হবে। তবে মাঝখানে পা ফসকে গেলে এর লজ্জা অপমান তিরস্কার এবং গ্লানিবোধ–সবই আমার একার। আমাদের রুমের সামনের রুমটাই ছিল দাওরায়ে হাদীসের। দাওরা আর আমাদের রুমের মাঝে দুই-তিন হাতের ছোট্ট একটা করিডোর। একটুখানি উঁকি দিলেই সেখানের সকাল-সন্ধ্যা দেখা যায়৷ দুটো পা এগিয়ে গেলে সেখানে ঢুকে বসেও থাকা যায়। তাই মুখোমুখি হওয়ার কারণে আম...