এপার-ওপার


এসেছি ঢামেকে (ঢাকা মেডিকেল কলেজ)। নামাজ আদায়ের জন্য তো আমরা বলতে গেলে একরকম মসজিদে  পড়েই থাকি৷ তবু হাসপাতাল আর কবরস্থান- এই দু জায়গায় আমাদের আসতে হয়। অন্য কারো টানে না হোক, অন্ততপক্ষে আন্তরিক শুদ্ধিকরণার্থে হলেও আসতে হয়,আসা উচিৎ। যেখানে দিনরাত্রি চলে জন্ম আর মৃত্যুর অমোঘ খেলা! হাসলো কেউ কাঁদছে বা অন্যজনা! কারো হয়তো দোলনা দোলে,কারো জন্য প্রস্তুত করা হয় বেলা-অবেলার শবযাত্রা!

গতরাতে ফোন কলে জানলাম- ছোট চাচ্চু আর ছোট আন্টির প্রণয়-সূত্রে প্রথমবারের মতো তাদের কোল জুড়ে, ঘর আলোকিত করতে খোদার রহমত হয়ে এসেছে ফুটফুটে এক সুদর্শন। তার সু-আগতের জন্যই এসেছি কোলাহলমুখর এই ঢামেকে। অজস্র জন্ম আর মৃত্যুর সাক্ষি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে যে। স্মৃতি হাতড়ে দেখি, যে আমাকে পৃথিবীর আলোয় আলোকিত করেছিলো ঠিক,তবে আমার নানাভাইয়ের আলো চিরতরে কেড়ে নিয়েছিলো,শেষ রক্ষা করতে পারেনি-এসেছি সেই ঢামেকেই।

প্রথমে নির্দিষ্ট কেবিন খোঁজার বিড়ম্বনা। খোঁজ মেলার পর শত প্রসবিনীর ছায়া মাড়িয়ে নির্দিষ্ট পথ ধরে হেটে চললাম। সরকারী হাসপাতালের প্রতি আমার এই একটা অভিযোগ, সরকারিভাবেই যে যার মতো শুয়ে-বসে সময় পার করছে। অবশ্য এখন এতো না। তবুও পারসোনালিটি যায় যায় সিচুয়েশান। যদিও আমার ও অন্যদের প্রবেশে বারণ ছিলো। তবু ভ্রাতৃত্বের তীব্র টানে অর্ধনমিত চোখে এগিয়ে গেলাম।লজ্জায় কুঁকড়ে মরছিলাম।

তার সাথে দেখা হলো,কথা হলো। প্রথমবারের মতো কোনো নবজাতকের কানে আযান-ইকামাতের স্বাদ মনে লেগে থাকবে অনন্তকাল। ভ্রাতৃত্বের গন্ধ পেলাম। বন্ধন আরো গাঢ় হলো। তবু কোলে তুলে নেওয়া হলো না।সুবাস নিয়ে দেখা হলো না।

দেখাদেখির পর্বশেষে ক্লান্তি নিয়ে ইউনিটের সিড়ির নিচে,দোরগোড়ে, খালি জায়গায় দেয়ালের সাথে হেলান দিয়ে ক্লান্তিনাশের শেষ চেষ্টাটুকু করলাম। আমি বসে আছি। চোখে আমার রাজ্যের স্বপ্ন। কিছুক্ষণ বাদেই আমাকে অবাক করে দিয়ে শয্যাসহ কাঁথায় আবৃত এক সদ্যোজাত সন্তানের মা'কে নামানো হলো! কলিজাটা আমার কেমন করে উঠলো! ভাবলাম,কে আসে,কে যায়! যে রেখে যায়,কী করে সেই আবার চলে যায়?? সবেমাত্র যেই জননী প্রকৃতির আলোয় ছেড়ে গেলেন তার জাতকটাকে,কালবিলম্ব না করেই তড়িঘড়ি তার পরপারে গমনাগমনের খবরাখবর কে জানতো! কে জানতো!

- ইসহাক নাজির, ০৯/০৬/২০১৯ ইং।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

এমন দরদি মালী কোথায় পাব খুঁজে

মাদকঃ একটি আলোকচিত্র

জলের গান