ঘুম কেড়ে নিয়েছিলো "কর্নেল নন্দিনী"!
বইঃ কর্নেল নন্দিনী।
লেখকঃ (মূল) ফাতিমা মবিন।
ভাষান্তরঃ আমীন আশরাফ।
- পাঠ সংক্ষেপঃ
আগ্রার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে 'সুরাইয়া'। মা এবং দুইবোন ক্যান্সারে গত হবার পর বাবা কর্নেল মাহমুদই তার মাথা গোঁজার একমাত্র ঠাঁই। ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত থাকাকালে অনেকটা বাধ্য হয়েই ধুরন্ধর সুদখোর হিন্দু মহাজন 'গুরুদত্ত সিং'য়ের থেকে ৩/৪ হাজার রুপি ধার স্বরূপ নিয়েছিলেন সুরাইয়ার মা। অথচ এই ৩/৪ হাজার রুপিকেই নয়-ছয় করে ৪৭০০০ রুপিতে রূপান্তর করে কর্নেল মাহমুদের নিকট উপস্থাপন করে গুরুদত্ত সিং।
শঠতার হেন উদাহরণ (টাকার অংকের এমন ফর্দ) দেখে কর্নেল সাহেব যেনো আকাশ ভেঙে পড়েন। কর্নেল সাহেবের এমন দূর্বলতার সামনে নিজের হঠকারিতাকে সম্বল করে সুরাইয়াকে বিবাহ করার মতো জঘন্য এবং কু-প্রস্তাব ছুঁড়ে দেয় গুরুদত্ত সিং।
অন্যদিকে কর্নেল মাহমুদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু প্রয়াত নবাব মির্জা গজনফর আলী খাঁ'র একমাত্র সাহেবযাদা মনসুর তাঁর মা মরিয়ম জামানি এবং ফুপাতো বোন নুজহাতকে নিয়ে বাবার রেখে যাওয়া 'গুলে রায়না'য় মহাড়ম্বরে জীবন-যাপন করতে থাকে। গুলে রায়নায় দু'মাসের জন্য মেহমান হওয়া সত্ত্বেও তার পরিবারের সাথে ঘটে যাওয়া এই ষড়যন্ত্র কিছুতেই মনসুর কিংবা মরিয়ম জামানীর কাছে প্রকাশ করতে পারেনা প্রবল আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন এই অনিন্দ্য সুন্দরী সুরাইয়া।
তার নমনীয়তা এবং চরিত্রে মুগ্ধ হয়েই মরিয়ম জামানী নিজ ছেলে বউ হিসেবে তাকে বরণ করে নেবার প্রস্তাব দেয় সুরাইয়াকে। অথচ তা সাদরেই প্রত্যাখ্যান করে সে। জীবনপ্রবাহে এভাবেই ভেসে চলে সুরাইয়া, মনসুরকে না বলা তার ভালোবাসা বুকে নিয়ে....
- পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ
নাহবেমীরের বছর মাকতাবাতুল আযহারের কিতাব মেলায় হঠাৎই আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করে ঝকঝকে প্রচ্ছদে নজরকাড়া "কর্নেল নন্দিনী"। অথচ কর্নেল নন্দিনীকে ঘরে আনার পর থেকে দীর্ঘ তিনটে বছর বুকশেলফের ধুলোবালি আর অপরিচর্যায় অনেকটা যোগাযোগহীন হয়ে পড়ে ছিলো। বেশ কিছুদিন আগে বের করে ৭০ পৃষ্ঠা পর্যন্ত পড়ে রেখে দিলেও (বইটা ২০৬ পৃষ্ঠা বিশিষ্ট) হোম কোয়ারেন্টাইনের এই সময়ে "কর্নেল নন্দিনী"র কথা মনে পড়ে যাওয়ায় আবার পড়তে শুরু করলাম। ঘটনার আবহে মজে গিয়ে এক বসায়, এক রাত্রেই শেষ করে ফেললাম-যা বইয়ের সাথে মোলাকাতের এ ক্ষুদ্র জীবনে এইই আমার প্রথম।
পড়তে পড়তে হঠাৎ লক্ষ্য করলাম-গল্পের গতিবিধি এবং পারস্পরিক সংলাপে আমার দু'চোখের ঘুম উবে গেছে। সুরাইয়ার রূপ-সৌন্দর্য এবং নারিত্বের পূর্ণতায় আমি খেই হারিয়ে ফেলেছি। রাত কী ভোর-ভুলে গেছি। সময় হয়ে ওঠেছে সুরাইয়াময়! বই শেষ করে চোখ তুলে দেখি ভোর চারটা বেজে চুয়াল্লিশ মিনিট।
গল্পের চিত্রায়নে যেমন লেখিকার দক্ষতা এবং কাল্পনিক ঐশ্বর্য প্রস্ফুটিত হয়েছে, ঠিক তেমনি প্রতিটি চরিত্রের নামকরণেও যথেষ্ট রুচিশীলতার প্রমাণ পাওয়া যায়। যেমন-সুরাইয়া,নুজহাত,মরিয়ম জামানী,গুলচমন,সানুবার,মনসুর,মাহমুদ প্রভৃতি।
বইটি মূলত উর্দু ভাষায় রচিত। ঘটনাচক্র ভারতের আগ্রা,দিল্লী, লক্ষ্ণৌ,পুনে এ সমস্ত এলাকা কেন্দ্রিক।
ভাষান্তর করেছেন আমীন আশরাফ। কিছু কিছু জায়গায় অনুবাদের দৈন্যতা সত্ত্বেও পুরো বইজুড়ে-বিশেষ করে- বেশ কিছু জায়গায় বাক্যের কারুকার্য আমায় অভিভূত করেছে। মুদ্রণজনিত ভুল কী-না জানি না-তবে বানানের ভুল ছিলো চোখে পড়ার মতো। আশা করি এতো বছরে পরিবর্তী মুদ্রণে তা সংশোধনের চেষ্টা করা হয়েছে-না হলেও করে নেবেন। পাঠককে অনুরোধ রইলো বইটা পড়ার। আমার মতো ঘুম হারাম হবে কী-না জানি না,তবে ভালো লাগবে,ইনশাআল্লাহ।
ইসহাক নাজির
৩০.০৩.২০২০ইং,রোয সোমবার।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন