মাদকঃ একটি আলোকচিত্র
তাহযীব, সংস্কৃতি বা কালচার সমার্থবোধক শব্দ।পরিভাষায়, বিশ্বাসলব্ধ মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ পরিশীলিত ও মার্জিত মানসিকতাকে সংস্কৃতি বা তাহযীব বলে। ইসলামী তাহযীব বা সংস্কৃতি হলো ইসলামী কার্যকলাপ। আর এ কার্যকলাপের সবই কুরআন হাদীস ভিত্তিক। কিছুটা সুস্পষ্ট, কিছুটা অস্পষ্ট- তবে এর বহির্ভূত নয়৷
ইসলামী সংস্কৃতির ব্যাপ্তি জীবনের সর্বক্ষেত্রে। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় এবং অর্থনৈতিকসহ এমন কোনো দিক নেই যেখানে ইসলাম বহির্ভূত পৃথক অথবা বিকল্প কোনো দর্শন জীবনের চালিকাশক্তি হিসেবে স্বীকৃতির দাবী রাখে।
ইসলাম প্রতিটি মানুষকে আদর্শবান মানুষরূপে গড়ে তুলতে চায়। ইসলাম চায়, প্রতিটি মানব সন্তানকে সর্বপ্রকার অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা থেকে মুক্ত করে সৎ, আদর্শিক এবং পুতঃপবিত্র রূপে পরিচালনা করতে। আর এজন্যই ইসলাম যেমনিভাবে মানবজাতির উৎকর্ষসাধনে উৎকৃষ্ট ও পবিত্র বস্তুসমূহকে জায়েয এবং হালাল রেখেছে, ঠিক তেমনই নাপাক ও সর্বপ্রকার মন্দ বস্তুকে করেছে হারাম এবং নাজায়েয। প্রতিটি মানুষ শান্তশিষ্ট, বিবাদ-বিসম্বাদ ও কলহমুক্ত জীবন যাপন করুক,এটাই ইসলামী শরীয়াহ'র মূল লক্ষ্য। বেহায়াপনা উলঙ্গ ও অর্ধলঙ্গতা যেমনি ইসলামী রুচি ও মননশীলতায় আঘাত হানে, তেমনি মাদক কিংবা মাদকদ্রব্যাদী বিবেকসম্পন্ন সুস্থ ও মননশীল ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব এবং মস্তিষ্কের বিকৃতি সাধনে তৎপর ভূমিকা রাখে।
সাম্প্রতিককালে গোটা বিশ্বে যে সমস্ত সামাজিক ব্যাধি ছড়িয়ে রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো এই 'মাদক'। কোনো সিস্টেমকে ধ্বসিয়ে দেয়ার জন্য তার মূলে আঘাত হানতে হয়, আর এটাই যথেষ্ট। আমাদের সমাজের সেই মূল হলো আমাদের যুব সমাজ। কবি বলেছিলেন, “ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে৷” বলেছিলেন, কেননা এই শিশুই আগামির যুবক। যেই যুবকের মধ্যে লুকিয়ে থাকবে একদিন বিশ্বজয়ের সমূহ সম্ভাবনা। তারাই একদিন মানুষের মতো মানুষ হয়ে বদলে দেবে গোটা সমাজ, বদলে দেবে গোটা সিস্টেম।
অথচ নিশ্চিত করেই বলা যায়, আজ পৃথিবীর এমন কোনো দেশ বা দ্বীপাঞ্চল হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না, যেখানকার তরুণেরা মাদকতার স্পর্শ থেকে পবিত্র৷ এমন কোনো সমাজ বা উপত্যকা হয়তো দেখানো যাবে না, যেখানে পিতামাতা সন্তানের মাদকাসক্তির প্রশ্নে হতাশাগ্রস্থ নয়। খুব খারাপ লাগে যখন ভাবি, আমাদের যুবকেরা, আমাদের কাছের মানুষেরা মাদকতার সর্বপ্লাবী জোয়ারে ভেসে যাচ্ছে, অথচ আমাদের করার কিছুই থাকছে না।
মাদকসেবীরা যেসব মাদক সেবন করে, সেগুলোর রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন নাম৷ মাদক চক্রের সদস্যদের মাধ্যমে আমাদের তরুণেরা পরিচিত হচ্ছে নতুন নতুন মাদকদ্রব্যাদির সাথে। মাদকাসক্তি বলতে যদি আমরা শুধু গাঁজা, ধুমপান কিংবা মদ্যপায়ী ব্যক্তিকে বুঝে থাকি, তাহলে কিছুটা নয়, বরং অনেকাংশেই ভুল হবে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশে অদ্যাবধি ২৪ ধরনের মাদকদ্রব্য উদ্ধার হয়েছে৷ সেগুলো হলো- ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন, গাঁজা, কোকেন, মারিজোয়ানা, চোলাই মদ, দেশি মদ, বিদেশি মদ, বিয়ার, রেক্টিফাইড স্পিরিট, ডিনেচার্ড স্পিরিট,ভাং, তাড়ি, প্যাথেডিন, বুপ্রেনরফিন (টি.ডি. জেসিক ইঞ্জেকশন), কোডিন ট্যাবলেট, ফার্মেন্টেড ওয়াশ (জাওয়া), বুপ্রেনরফিন (বনোজেসিক ইঞ্জেকশন), মরফিন, আইচ পিল, ভায়াগ্রা, সানাগ্রা, টলুইন, পটাশিয়াম পারম্যাংগানেট ও মিথাইল-ইথাইল কিটোন ইত্যাদি।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, আমাদের দেশে জনসাধারণের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি হতাশাগ্রস্ত হচ্ছে, আমাদের যক্ষের ধন- সম্ভাবনাময় উদীয়মান তরুণ সমাজ। তারা সাময়িক অবসাদের দরুন কিছুটা আনন্দ লাভের আশায় যখনই যাবতীয় বিরহ-বেদনার সুপরিসর থেকে সহজে বের হওয়ার চেষ্টা করে, তখনই এ সকল দ্রব্যাদি বিভিন্ন পন্থায় সেবন করে থাকে।
আমাদের সমাজের বিত্তবান শ্রেণির লোকেরা দামী দামী মাদকদ্রব্য সেবন করলেও দরীদ্র শ্রেণির লোকেরা কিন্তু বিড়ি সিগারেট আর গাঁজার মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখে। আর এই মাদক যে শুধু শারীরিক ও মানসিক দিক দিয়ে মানুষকে পর্যদুস্ত করে তোলে- তাই কিন্তু নয়; বরং অর্থনৈতিক দিক দিয়ে একেকটি পরিবারকে অকেজো করে তবেই ছাড়ে।
এক গবেষণায় দেখা যায়, অবৈধ মাদক আমদানির জন্য প্রতি বছর দেশ থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে৷ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘‘অবৈধ মাদক আমদানিতে প্রতি বছর কত টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে এর সুনির্দিষ্ট কোনো হিসেব কারো পক্ষে করা সম্ভব নয়৷’’ তিনি আরো বলেন, ‘‘এক হিসেবে দেখা গেছে, সারা দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা ২৫ লাখের কম নয়৷
৫ শতাধিক মাদকাসক্তের ওপর জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে, প্রতিদিন তাদের মাদক সেবনে গড়ে ১৫০ টাকা করে ব্যয় হয়৷ এই হিসেবে একজন মদকাসক্ত বছরে ৫৪ হাজার ৭৫০ টাকার মাদক সেবন করে৷ ২৫ লাখ মাদকাসক্ত বছরে ১৩ হাজার কোটি টাকার মাদক সেবন করে৷ এসব মাদকের পুরোটাই অবৈধভাবে দেশে আসছে৷ আর পাচার হয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা৷’’ অবশ্যই ভ্রু কোঁচকানোর মতো ব্যাপার! তাই না?
মাদকাসক্তের কারণঃ
.........…..................
(১) মাদকদ্রব্যাদির সহজলভ্যতা হলো মাদকাসক্তির প্রথম কারণ।
(২) বাবা-মায়ের আচরণ, দৃষ্টিভঙ্গি এবং তাদের স্মোকিং করতে দেখে অনেকেই মাদক গ্রহণ করে থাকে।
(৩) বন্ধুবান্ধব কিংবা সহপাঠীদের মন রক্ষার্থে বা চাপে পড়ে অনেকে মাদক সেবন করে।
(৪) অনেকেই সমাজে নিজের স্মার্টনেস প্রমাণ করার জন্য বিভিন্ন এলকোহলিক এনার্জি ড্রিংক সেবন করে। যা তাকে আস্তে আস্তে ঠেলে দেয় মাদকতার আঁধার এবং ভয়ংকর জগতে।
(৫) মানসিক সমস্যা, যেমন: জীবন নিয়ে হতাশা, একাকীত্ববোধ, বেকারত্ব এবং বিষণ্ণতার কারণে এসব থেকে রেহাই পেতে মাদককে বেছে নেয় অনেকেই।
(৬) এন্টি সোশ্যাল পারসোনালাটি বা শৈশব বিকাশে সমস্যা থাকলেও অনেকে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে।
(৭) প্রেম-বিফলতা কিংবা বিবাহ-বিচ্ছেদের ফলে মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে অনেকে মাদকে জড়ায়।
৮) পারিবারিক অশান্তি এবং আত্মকলহের কারণেও অনেকে মাদককে আপন করে নেয়।
প্রিয় ভাই! আমাদের জীবন শুধু আমাদেরই নয়, বরং এর সাথে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িয়ে থাকে অসংখ্য প্রাণ! একটি প্রাণের বরবাদীতে নিঃস্ব হয় একটি পরিবার। খালি হয় পিতামাতার বুক! স্নেহ- ভালোবাসা থেকে বিচ্ছিন্ন হয় স্ত্রী পরিজনের পারিবারিক প্রগাঢ় সম্পর্ক!
মাদকতায় আসক্ত ব্যক্তির জীবনযাত্রার মান এবং চারিত্রিক মূল্যবোধ কখনোই অক্ষুণ্ণ থাকে না। আসক্ত ব্যক্তি মাত্রই পিতামাতার সাথে দুর্ব্যবহার, স্ত্রীর সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং সন্তানদের সাথে সুসংহতি বজায় রাখতে অনেকটাই বেসামাল হয়ে পড়ে। হিতাহিতজ্ঞানশূন্য হয়ে ছোটে দিকবিদিক।
মানুষের মস্তিষ্কে এমন একটি কেন্দ্র রয়েছে যার নাম "ইনহিবিটর সেন্টার" বা "গুরু মস্তিষ্ক"। এর কাজ হলো সে যেটা মন্দ বুঝবে তা থেকে মানুষকে বিরত রাখবে। যেমন-লোকালয়ে নয় বরং মল-মূত্র ত্যাগের প্রয়োজনে নির্দিষ্ট স্থানের অনুসন্ধান করা। এ সমস্ত কাজ নির্দিষ্ট সেই কেন্দ্রটিই করে থাকে। মাদক সেবন ও মদ্যপানের ফলে ঐ কেন্দ্রটি নিস্তেজ হয়ে পড়ে। আর তাই মানুষ নেশাগ্রস্ত অবস্থায় এমন সব কাজ করে ফেলে যা সে মোটেও করেনি বা করতে চায়নি। (সূত্রঃ ডা.জাকির নায়েক লেকচার সমগ্র।
২য় খন্ড-২৬৬ পৃ. অনুবাদক- মাওলানা মোহাম্মদ শাহজাহান খান)।
যখন মাদকাসক্ত ব্যক্তি তার স্বীয় মানসিক ভারসাম্য সম্পূর্ণ রূপে হারিয়ে ফেলে, এবং নিজেকে তিলে তিলে ক্ষয় করে চলে, তখন তার আশ্রয়স্থল হিসেবে বিবেচিত হয় বক্ষ্যব্যাধি হাসপাতাল, কিডনি হাসপাতাল ও মানসিক চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো।
মাদকাসক্তি থেকে উত্তরণের উপায়ঃ
......……...........………………
(১) প্রাথমিক হোক, তবু শৈশব থেকেই সন্তানকে ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার চেষ্টা করা।
(২) আল্লাহ, রাসূল (সা.), কেয়ামত, জান্নাত এবং জাহান্নামের পরিচয় এতোটুকু হলেও দেয়া, যতোটুকুতে অন্তত বিগড়ে যাবার সম্ভাবনা না থাকে।
(৩) সন্তানের প্রতিপালন নিজেরাই করা। আয়া বা বুয়াদের হাতে তাদের প্রতিপালনের চাবিকাঠি তুলে না দেয়া।
(৪) সার্বক্ষণিক সন্তানের ভালোমন্দের খেয়াল রাখা। তাদেরকে বোঝার চেষ্টা করা এবং কোথায় যাচ্ছে, কী করছে, কার সাথে মিশছে- এর প্রতি সজাগ দৃষ্টিপাত করা, যা খুবই জরুরী।
(৫) মাদক নিরসনে সমাজের মুরুব্বী এবং প্রভাবশালী মানুষের দ্বারা সচেতনতামূলক আলোচনা সভা আর প্রতিরোধমূলক বলয় গড়ে তোলা।
(৬) মাদকমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে বেকার যুবকদের বেকারত্ব ঘুচিয়ে সঠিক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।
(৭) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মাদক বিরোধী সভা-সেমিনার এবং বিতর্কমূলক প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করা।
(৮) ঔষধ বিক্রেতা কর্তৃক মাদক জাতিয় দ্রব্য (ঘুমের ওষুধ) ক্রয়ে নিরুৎসাহিত করা।
(৯) পারিবারিকভাবেই সন্তানদেরকে মাদক সেবনের কুফল এবং ক্ষতিকর দিকসমূহ সম্পর্কে অবহিত করা। সাথে সাথে মাদকদ্রব্যাদীর পরিণতি সম্বন্ধেও সম্যক অবগত করা৷
(১০) খতিব সাহেবান জুমার মিম্বারে এবং বক্তা-ওয়ায়েজীনেরা মাহফিলের স্টেইজ থেকে শ্রোতাদেরকে মাদক সম্পর্কে ইসলামী আদেশ নিষেধ অবহিত করা৷ কেননা এ সময় মাইকের আওয়াজ শুনতে অনাগ্রহীদের কানেও এই মেসেজ পৌঁছে বিধায় এটাই সবচেয়ে মোক্ষম সুযোগ মনে করি।
মাদকদ্রবাদির অন্যতম একটি হচ্ছে মদ। ইসলামের সূচনালগ্নে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে,বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে ধাপে ধাপে বিভিন্ন আয়াতের মাধ্যমে শরীয়ত এই মদ্যপানকে নিষিদ্ধ করে এসেছে। আরববাসীরা আগাগোড়াই মদে ডুবে থাকতো। তখনকার ঘরে ঘরে ছিলো মদের ঘোটি ও সরঞ্জামাদি। তাদের জন্য এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া ছিলো নিদারুণ কষ্টের৷ এ কারণে যদি প্রথম পর্যায়েই মদ হারাম করা হতো, তাহলে সেটা তাদের জন্য এক মারাত্মক সমস্যা হয়ে দাঁড়াতো। এ কারণেই আস্তে আস্তে মদকে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে।
মদ হারাম হওয়ার ক্রমধারা-১,
ومن ثمرات النخيل والأعناب تتخذون منه سكرا ورزقا حسنا (الخ)...
এই আয়াতে মূলতঃ তাদের রেওয়াজ ও অভ্যাসের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
এরপর হযরত ওমর রাযি. মুয়াজ রাযি. এবং কতিপয় আনসারী সাহাবী রাযি. হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ সা. মদের ব্যাপারে আমাদেরকে চূড়ান্ত ফায়সালা দিন। কেননা, এটা বিবেককে ধ্বংস করে এবং সম্পদ নিঃশেষ করে দেয়।
মদ হারাম হওয়ার ক্রমধারা-২,
يسألونك عن الخمر والميسر، قل فيهما اثم كبير ومنافع لناس (الخ)...
এই আয়াত নাযিল হওয়ার পর কেউ কেউ اثم এর দিকে খেয়াল করে মদপান ছেড়ে দেন। আর কেউ منافع এর দিকে খেয়াল করে তা পান করা অব্যাহত রাখেন!
মদ হারাম হওয়ার ক্রমধারা-৩,
يا ايها الذين آمنوا لا تقربوا الصلوة و انتم سكارا (الخ)...
এই আয়াত নাযিল হলে নামাজের সময় ছাড়া বাকি সময়ে মদপান বৈধ রাখা হয়।
মদ হারাম হওয়ার ক্রমধারা-৪ (এটাই চূড়ান্ত)
يا ايها الذين آمنوا انما الخمر والميسر والانصاب والأزلام (الخ)...
এই আয়াতের মাধ্যমে মদ চিরতরে হারাম ঘোষণা করা হয়। আয়াতটি নাযিল হওয়ার পরে সাহাবায়ে কেরাম রাযি. মদ পান ছেড়ে দেন এবং পাত্রগুলো ভাঙতে শুরু করেন। এমনকি মদিনার ড্রেনগুলোতে পানির ন্যায় শরাব (মদ) প্রবাহিত হতে দেখা গেলো। আর এভাবেই কিয়ামত পর্যন্ত মদকে চিরতরে হারাম করে দেয়া হয়।
উল্লেখ্য যে, মদ্যপানে যেমন উপকার রয়েছে, তেমনি রয়েছে অপকারও। কিন্তু উপকারের তুলনায় অপকারের দিকটিই বেশি। তবু এই হারাম ভক্ষণ করতঃ আমাদের সমাজের তরুণ প্রজন্ম অবলীলায় মৃত্যুপথে যাত্রার পথ বেছে নিচ্ছে। যে নিজের টাকায় মৃত্যু কিনে জীবনের গোড়ায় কুড়াল মারছে, ক্ষয় করছে নিজের সর্বস্ব, এই দুর্ভোগ শুধুই কি তার? না, বরং আমি বলবো, আমার আপনার এবং গোটা জাতি ও জাতিয়তার।
তাই মাদকদ্রব্য সেবন থেকে নিজেকে হেফাজত করা এবং অপরকে বিরত রাখার দ্বীপ্ত প্রত্যয় হোক আমাদের আজকের অঙ্গীকার!
-ইসহাক নাজির, রাত- ০৯: ১০ মিনিট,
২৭/০৭/২০২০ ইং, রোজ সোমবার।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন