৫ই মে: একটি স্বপ্ন ভঙ্গের গল্প
দু হাজার তেরো। হিফজখানার লাস্ট ইয়ার। শুনানির বছর যাকে বলে। কৈশোরের খোলস ছেড়ে প্রথমযৌবনে পদার্পণের মতো রূপালী দিন ছিল সেগুলো। নিরব-কোমল অভিমান আর প্লাবনের অনুরাগ নিয়ে কেটে যাচ্ছিল সময়। প্রসঙ্গতই অনেক কথা মাথায় এসে ভীড় করছে আজ। মনে মনে উথলে আসতে চাইছে কতকিছু, তবু সব বলা যাচ্ছে না। কারণ আমার আজকের এই প্রবন্ধটি এক বিশেষ স্মৃতিকে উপলক্ষ করে। যার সাথে জড়িয়ে আছে কোটিপ্রাণ তাওহিদপ্রেমি ও শানে রেসালাত আন্দোলনের পতাকাবাহীরা। জড়িয়ে আছে তাদের স্মৃতিবোধ এবং আত্মার সঙ্গে মিশে। বক্ষ্যমান প্রবন্ধে এক কালোরাতের রক্তের দাগ প্রমাণ করা হয়েছে; যে রক্তের স্বীকৃতি মেলেনি ‘তথাকথিত’ স্বীকৃতি-সেমিনার থেকেও। তাই বলা যায় আমি এর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। প্রবল শঙ্কায় শঙ্কিত।
৫ই মে’র সেই অবরোধের ডাক এসেছিল আমার কানেও। আদেশের সামনে তবু নিরুপায় ছিলাম আমি। কিছুদিন আগেও (৬ই এপ্রিল) একটা লংমার্চ হলো। ফের ১৩ দফা আন্দোলনের দাবি নিয়ে আরেকটি অবরোধের ডাক দিলেন আমিরে হেফাজত আল্লামা শাহ আহমদ শফি হাফিজাহুল্লাহ। (প্রবন্ধটি লেখার সময় আমরা তাঁকে ‘হাফিজাহুল্লাহ’ই বলতাম। এখন তিনি আমাদের মাঝে ‘রাহিমাহুল্লাহ’ বলে বিবেচিত। আল্লাহপাক তাঁকে নিজ অনুগ্রহে ক্ষমা করুন!) আমি ভাবনায় পড়ে গেলাম, আচ্ছা, লংমার্চ মানে কি মার্চ মাসটা হিসেবের বাহিরে একটু বেশিই লং (লম্বা) হবে, নাকি এটা কোনো মিছিল, যাতে সবাই বিরামহীন শুধু হেটেই যাবে? লংমার্চ মানে যদি মার্চের দীর্ঘতা বোঝানো হয়, তাহলে সে তো চলে গেছে আজ দু মাস হতে চলল। এই লংমার্চ মানে তবে কোন লংমার্চ–এ ধরনের অদ্ভূত সব ‘দূর্ভাবনা’য় আচ্ছন্ন হয়ে ছিল তখনকার সকাল-দুপুর-সন্ধ্যা-রাত।
যদ্দুর মনে পড়ে, সেদিন ছিল ৫ই মে সকালবেলা। শ্রদ্ধেয় বড়হুজুর (হাফেজ মাওলানা নেছারুদ্দীন সাহেব হাফিযাহুল্লাহ। হিফজ বিভাগের প্রধান এবং মাদরাসা-মসজিদের ইমাম ছিলেন তিনি। এখনও আছেন। তাই তাঁকে বড়হুজুর ডাকতাম আমরা। এবং যুগের পরিক্রমায় এখনো এ নামেই তিনি আমাদের মাঝে পরিচিত) এসে বললেন, “দেশের পরিস্থিতি ভালো না। তোমরা না বলে মাদরাসার বাহিরে যাবা না। অবরোধেও যাওয়ার চেষ্টা করবা না কেউ। কমিটির পক্ষ থেকে কড়া নিষেধ আছে”। হুবহু বাক্যগুলো মনে পড়ে না, তবে সারকথা ছিল এমনই। আদেশ পেয়ে আমরা জমে গেলাম, তবু দমে গেলাম না। ভেতরটা উসখুস করতে রইল। পালাবার পথ খুঁজলাম শুধু। কেবলই সেই মিছিলে শামিল হবার তেষ্টা।
সকালটা কেটে গেল এভাবেই। সাড়ে ন’টায় ঘুমের ছুটিতে প্রস্তুত হলো মাহদি। ওর চোখেমুখে মিছিলের উৎকণ্ঠা। আলাভোলা চেহারায় রূপ নিয়েছে নারায়ে তাকবিরের প্রোজ্জ্বল দ্বীপ্তি। মূহুর্তেই ওর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল আমাদের মাঝেও। আমরা রাজ্যের বিস্ময় নিয়ে ওকে জিজ্ঞেস করলাম, সত্যিই তুই যাবি ওখানে?
-হ, যামু।
-তোর ভয় করব না?
-আরে, কত মানুষেই তো যাইতেছে।
-যদি বড় হুজুর জানতে পারে? যদি তোরে বাইর কইরা দেয়?
-বাইর কইরা দিলে চইলা যামু।
আমি মনে মনে ভাবলাম–এই হাবলা একটা ছেলের এত সাহস এলো কোত্থেকে? সেদিন বুঝিনি। অথচ আজ ঠিকই বুঝি এই সাড়ে চৌদ্দশ বছরের পরিক্রমায় নারায়ে তাকবিরের ঝান্ডাবাহীদের বদ্ধমূল দুঃসাহসিকতার রহস্য মূলত কী! আজ বুঝি এই শক্তির উৎস ঠিক কোথায়। মনে পড়ে যায় বিখ্যাত ফরাসি কবি ও দার্শনিক শেখ সাদী রাহিমাহুল্লাহর সেই অমূল্য বাণী:
ই সাআদাত বা-যোরে বাযূ নীস্ত,
তা না বখশদ খোদায়ে বখশেন্দাহ!
(এই সৌভাগ্য স্বেচ্ছায় হস্তগত হবার নয়,
যতক্ষণ না দাতা নিজেই দেন!)
আমাদের ঘুমে রেখে চলে গেল মাহদি। ঘুম থেকে উঠে বারোটার গোসলের ছুটিতে বাসায় গেলাম আমি। আব্বু বিগড়ে আছেন। কার না-কার কানকথায় উত্ত্যক্ত হয়ে পড়েছেন। বললেন, “হেফাজতে ইসলামের অবরোধে মাদরাসার ছাত্র-উস্তাদ সবাই যাচ্ছে। তুমি যাবা না। আল্লাহর দ্বীন আল্লাহ নিজেই হেফাজত করবেন। নিউজে দেখাচ্ছে, হেফাজতে ইসলামেরা নাকি কুরআন পোড়াচ্ছে রাস্তার জায়গায় জায়গায়”! (নাউজুবিল্লাহ)
‘হেফাজতে ইসলাম’ শব্দটাকে বরাবরই আপন মনে হতো আমার কাছে। সেই অবুঝবেলা থেকেই। তাই হেফাজতের নিষ্পাপ গায় দুষিত রক্তের প্রলেপ কিছুতেই সহ্য হচ্ছিল না আমার। কুরআনের ইজ্জত রক্ষায় যাদের উদ্যোগে এই মিছিল, কুরআনের টানে ছুটে এসেছে যারা এই অবরোধে অংশ নিতে, তারাই কিনা সেই কুরআনকে ‘জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে মারছে’!? না, এ কস্মিনকালেও সম্ভব নয়। আমি তর্ক জুড়ে দিলাম আব্বুর সাথে। শেষমেশ তিনি বললেন, “যদি যাও, তাহলে ঘরের দরজা তোমার জন্য আজীবন বন্ধ”!
আমি পড়ে গেলাম মহা বিপাকে। অন্ধকার হয়ে এলো চারপাশ। কী করা যায় ভাবতে লাগলাম শুধু। উপায়ন্তর না দেখে পালিয়ে যাবার আশাটাও যেনবা মাটির কোলে জীবন্ত চাপা পড়ল। এই আশাভঙ্গের বেদনা কোনভাবেই মেনে নিতে পারলাম না আমি। ব্যাথাতুর ভগ্নহৃদয়ে তবুও ফিরে আসতে হলো মাদরাসায়। ততক্ষণে আমাদের উস্তাদ হাফেজ মাওলানা মাজহারুল ইসলাম সাহেবও লা-পাতা। জানা গেল হুজুরও চলে গেছেন মিছিলে। মাহদি গেছে। মাজহার সাহেব হুজুরও গেছেন। রয়ে গেছি শুধু আমি এবং আমরা। সেই আমাদের বুকেই সেদিনকার রাত নেমে এলো। সেই রাতের কথা আমাদের খুব একটা মনে নেই। হয়তো ঘুমের নেশায় বুঁদ হয়ে কেটেছিল পুরোটা সময়। কিন্তু পরবর্তীতে তাকি ভাইয়ের মুখে শুনেছিলাম সেই রাতের ইতিকথা। নিয়ন বাতি নেভানো বিরল-বিভৎস হত্যাযজ্ঞের ফিরিস্তি।
পরদিন ফিরে এলো মাহদি। এলেন হুজুরও। দুজনের বর্ণনায় গা ছমছম করে উঠল আমাদের। আমরা সবাই অবুঝ, তবু শিহরিত হলাম। মাহদি বলল, ওর সামনেই নাকি এক মাদরাসাছাত্রকে জবাই করে ফেলা হয়েছে! জবাইকরা মুরগীর মতো ছটফট করতে করতে দম ভেঙেছে তার। আহ! কী করে সম্ভব? একজন আরেকজনকে চেনে না, জানে না, কথা নেই, বার্তা নেই অথচ হত্যা! মানুষ এতটা নির্দয়-নির্মম আর দিশেহারা হলো কবে থেকে?
ইশারায় মাহদিকে দেখিয়ে হুজুর গর্বের সাথে বললেন, ও তো আমার মিছিলের সাথী। আমি না হয় গেলাম, কিন্তু বাচ্চা মানুষ হয়ে ও কী করে গেল? দেখা হবার পর একলা পথে কোথায় যাবে ভেবে আমি আমার সাথী করে নিয়েছিলাম ওকে। হুজুরের কথায় তখন সত্যি সত্যিই মাহদির ওপর আমার ঈর্ষা জাগতে থাকল। প্রবল ঈর্ষায় আমি আফসোস করতে থাকলাম শুধু। ঘনিয়ে এলো যোহরের সময়। জামাতের নামাজে দাঁড়ালেন বড়হুজুর। এমনকি নামাজে অনিচ্ছাকৃত ভুল হওয়ায় সাহু সিজদারও প্রয়োজন পড়ল। মুখে মুখে রটে গেল অপ্রিয় এক সংবাদ। সবাই বলতে লাগল, তাকি ভাই আর সানী (আমাদের বড়হুজুরের দুই সাহেবজাদা) সেই কবে গেছে, অথচ এখনো ফেরেনি। সেই চিন্তায় হয়ত বড়হুজুরের নামাজে আজ ভুল হয়ে গেছে।
ভেতরকার এক ধাক্কায় হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়লাম আমি। তাকি ভাই আমার প্রিয়তম একজন মানুষ। আমার আদর্শের মণিকোঠা। আর সানী আমার দীর্ঘকালের সহপাঠী। খেলার মাঠে একসাথে খেলেছি কত। পাশাপাশি পড়তে বসেছি দিনের পরে দিন। মাহদির বর্ণীত সেই মাদরাসাছাত্রের বর্ণনা আর সানী ও তাকি ভাইয়ের নিখোঁজ সংবাদ যেন ওলোটপালোট করে দিলো সব। আমি ছুটলাম মসজিদপানে। কেউ নেই। মুসুল্লিশূন্য মসজিদের মেহরাবে দুআয় বসে কাঁদছেন বড়হুজুর। পেছন থেকে একা আমি দেখছিলাম সব। হয়তো সেই চোখের পানির বরকতেই খোদার রহম হলো তাঁর ওপর। পরদিন সকালেই ফিরে এলেন তাঁর প্রিয় পুত্রদ্বয়।
পরদিন বাদ জোহর। নামাজান্তে মসজিদ থেকে বের হবার সময় তাকি ভাইকে কাছে পেয়ে ঘিরে ধরলাম আমরা ক’জন। জীর্ণশীর্ণ কমজোর তাকি ভাই। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাটছেন। পায়ে সেদিন ব্যান্ডেজ ছিল কিনা আজ অতটা মনে পড়ে না। চেহারায় সেই প্রাণের চাঞ্চল্যতা নেই। রক্তশূন্য ফ্যাকাসে চোখে ভাবনার লেশমাত্র নেই যেন। তাঁর সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিবরণ জানতে চাইলে তিনি শোনালেন বিভীষিকাময় এক ঐতিহাসিক ফিরিস্তি। আজ এতটা বছর পরেও সেই ঘটনার পুরোটা মনে করতে পারি। চোখের সামনে ভেসে ওঠে সব। ভেসে ওঠে তার জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। ক্ষোভে-বিক্ষোভে দেহের শিরা-উপশিরা আর রক্তকণিকারা যেন ফুলে ফুলে ওঠে।
আহতকণ্ঠে বললেন তাকী ভাই, “আমি আর সানী একসাথেই ছিলাম সারাক্ষণ। মঞ্চ ত্যাগ করতে এবং জনপদ ছেড়ে দিতে চতুর্মুখী হুমকি আসছিল। মুহুর্মুহু গোলাগুলির সাথে বয়ে যাচ্ছিল রক্তের বন্যা। ভিড় ঠেলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল একেরপর এক হতাহত মানুষজনকে! মনোবল হারিয়ে ফেলেছিল কর্মীরা, অথচ তখনো মঞ্চ ত্যাগ করেনি হেফাজতে ইসলাম। তখন রাতের দশটা কি এগারোটা। রাতের নিয়ন বাতি নিভিয়ে দেওয়া হলো। শুরু হলো লাশ আর রক্তের হোলি খেলা। সানীকে ঘুমন্ত রেখে পাশের হোটেলে ওর জন্য খাবার আনতে গেলাম আমি। ক্ষুধার তাড়নায় ও ঘুমিয়ে পড়েছিল কিছুক্ষণ আগেই। হোটেলে ঢোকার পর হঠাৎ পেছন থেকে এলো একটা ধাওয়া। হোটেলমালিক প্রায় মিনিট বিশেকের জন্য দোকানের শাটার বন্ধ করে দিল। এরপর ফিরে এসে দেখি যেখানে রেখে গিয়েছিলাম সানীকে, সেখানে ও নেই। আমার তখন পাগলের মতো অবস্থা। অনেকক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর স্টেইজের কাছে গিয়ে কীভাবে যে পেয়ে গেলাম ওকে, তা আল্লাহই ভালো জানেন। টিয়ারশেলের গ্যাস থেকে বাঁচার জন্য মুখে টুথপেস্ট মাখলাম দুজনে মিলে”।
এতটুকু বলে থামলেন তিনি। অবাক বিস্ময়ে আমরা শুনে যাচ্ছিলাম সব। কেউ হঠাৎ প্রশ্ন করল, “টুথপেস্ট কেন”? তিনি আবারো বললেন, “টুথপেস্ট মাখলে টিয়ারশেলের গ্যাস চামড়ার কোনো ক্ষতি করতে পারে না। চোখে মুখে ঢোকে না। তবুও আমাদের নাক-মুখ দিয়ে ঢুকে যাচ্ছিল, এত গ্যাস তখন ছড়িয়ে পড়েছিল বাতাসের গায়”।
এখানে এসে আবারো থামলেন তিনি। এই সামান্য কথায়ই হাঁপিয়ে উঠলেন খুব। একটু দম নিয়ে ফের বলতে শুরু করলেন, “আশ্রয়ের খোঁজে এদিক-সেদিক পালাচ্ছিল সবাই। কয়েকজন ছাত্র আশ্রয় নিয়েছিল শাপলায়। তাদের রক্তে লাল করে দেওয়া হলো শাপলার হাউজ। আমরা দৌঁড়ে গিয়ে একটি বাড়ীর আঙিনায় (সম্ভবত স্টোররুমে) বসে ছিলাম ফজর নাগাদ। সকালের আবছা আলো ফুটে উঠতেই বেরিয়ে গেলাম সেখান থেকেও। উদাস গন্তব্যে হাঁটতে হাঁটতে চলে এলাম মহাখালী। সবকিছুতেই কেমন বিগ্রহের ছাপ। যুদ্ধবিধস্ত মনে হচ্ছিল গোটা পরিবেশটাকে। বাসা পর্যন্ত কীভাবে যে বাকীটা পথ অতিক্রম করব, সে কথা আর মাথায় রইল না। কিছুই কাজ করছে না তখন মাথায়। তবে ভাগ্য সহায় হলো। আচমকা একটা পিকাপ সামনে আসলে কোনরকম ভাবাভাবি ছাড়াই উঠে পড়ি ওতে। পরে জানতে পারি পিকাপের গন্তব্যও আমাদের মিরপুরের কাছেই কোথাও”।
দাঁতে দাঁত পিষে শুনে যাচ্ছিলাম আমরা। শুনে যাচ্ছিলাম সব। অপলক চোখে অবলোকন করছিলাম ক্লান্ত ঠোঁটের নাড়াচাড়া। নিষ্ঠুর ঘটনার হতদরিদ্র বিবরণীতে চোখের সামনে যেনবা সব সমুজ্জ্বল দেখতে পাচ্ছিলাম। শুধু ভাবছিলাম এমনও কি মানুষ হয়? এমনও কি মানুষ করতে পারে?
ঘটনার পাঁচ বছর পর সোহরাওয়ার্দী ময়দানের সেই স্বীকৃতি-শোকরানায় জনঅরণ্যের কোনো এককোণে সেদিন আমিও ছিলাম। সনদের স্বীকৃতি দিতে গিয়ে কালোরাতের রক্তের দাগের অস্বীকৃতি ‘তিনি’ এভাবে জানালেন, এমনভাবে উপেক্ষা করলেন সেই আঁধার রাতের ইতিবৃত্ত, যা ছিল আমাদের ভাবনারও অতীত! সত্যি বলতে কী, সেদিন আমার একটা চিৎকার দিতে মনে চেয়েছিল। আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত গগনবিদারী আর্তচিৎকার। একটা মানুশ হয়তো নীচ হতে পারে, মিথ্যার উপর মিথ্যাচারও করতে পারে; একটা সিস্টেমও যখন দিবালোকের ন্যায় সত্য কোনো ইতিহাসকে প্রকাশ্যে ধুলোয় ধুসরিত করে এবং করার পায়তারা চালায়, তখন বলার মতো যুতসই কোনো শব্দই আমাদের কাছে আর বাকী থাকে না।
গণহত্যার কথা না হয় না-ই বা বললেন তিনি, সামান্য হতাহতের প্রশ্নেও যখন ‘রঙমেখে ভান করে শুয়ে থাকা এবং ধরতে গেলে উঠে দৌঁড়ে পালানো’র মতো ডাহামিথ্যা শুনতে পাই, তখন স্বীকৃতি ধরিয়ে মুখে কুলুপ এঁটে দেওয়ার অপস্বীকৃতিকে দু পায়ে দলে দিয়ে আমরা বেরিয়ে আসি। নয়তো হতে পারে মৃতের দৌঁড়ে পালানোর কথাটা তিনি ঠিকই বলেছিলেন। কুরআনের ভাষার সাথে সমর্থন জুগিয়েছিলেন,
“আর যাদেরকে আল্লাহর পথে হত্যা করা হয়, তোমরা তাদের মৃত বলো না। বরং তারা জীবিত, যা তোমরা বোঝো না”। (সূরা বাকারা, ১৫৪)
ইসহাক নাজির
৩০.০৪.২০২০ ইং,
রোজ বৃহস্পতিবার।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন