একটি নক্ষত্রচূর্ণ এবং একজন মুসা আল হাফিজ

মানুশটাকে দেখেছি উৎকর্ষের আলোকচিত্রে। সরাসরি দেখার সৌভাগ্য হয়নি কখন। মানুশটাকে কেউ বলে নদী, কেউ বলে বটবৃক্ষ! আমিও বলি তাইই। তবে আরেকটু আগ বাড়িয়ে বলি, এ বাংলা এবং বাংলা সাহিত্যের জন্য রাহমানের আশেষ রহম এবং করুণা তিনি। দয়াময় যখন বাংলা সাহিত্যে, বিশেষতঃ ইসলামি ঘরানায় বাংলার দৈন্যতার প্রতি লক্ষ্য করলেন,তখন করুণা করে এ জমিন ও ভূ-খন্ডের তরে প্রেরণ করলেন একজন মুসা আল হাফিজ। হাফিজাহুল্লাহু ওয়া রা'আ।

আমি বুঝতে পারছি, সেই জীবনটার প্রতি আমার প্রচন্ড আগ্রহ এবং ঈর্ষা জন্মে গেছে। আর ঈর্ষা জমে গেছে তাদের প্রতিও, যারা একটিবার অন্তত তাঁকে দেখেছে।

তাঁর 'তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব' বইটি পাঠপূর্বক ধর্মসমূহের তুলনামূলক যে জ্ঞানতত্ত্ব এবং যে দাবী তিনি আমার মাথায় তুলে দিয়েছিলেন-যা আমাদেরই পৈত্রিক সম্পত্তি অথচ আমরাই তা খুঁইয়ে বসেছিলাম- তা পেয়ে যারপরনাই কৃতজ্ঞ হয়েছিলাম তাঁর সত্ত্বার প্রতি। আরেকবার প্রীত হলাম আমার জ্ঞানের ঝুলিতে যখন তিনি ভরে দিলেন একটি 'নক্ষত্রচূর্ণ'।

বইমেলার সেই সংগ্রহশালার সামনে দাঁড়িয়ে বইটি নেড়ে চেড়ে তাকি ভাই বলেছিলেন,"বুঝেছি কী বিষয়ে লেখা। তাড়াতাড়ি নাও"! তাঁর এই জোর তাকীদে তখনই ভেবেছিলাম বইটা আমাকে সারপ্রাইজড করবে। সারপ্রাইজড তো করেছেই,এমনকি বিষম খাওয়া যাকে বলে- তা-ই খেয়েছি।

আমার বইয়ের স্তুপে 'নক্ষত্রচূর্ণ'কে সমহিমায় জ্বলতে দেখে আরো সামনে এগোতে অনুপ্রাণিত হই।

বইয়ের প্রতিটি ছত্রেছত্রে পাতায়-পাতায় লুকিয়েছিলো সীমাহীন আলোর দ্যুতি এবং জ্ঞান ও প্রজ্ঞার উচ্ছ্বাস। প্রায় প্রতিটি উক্তি শেষেই 'বাহ' বলে তৃপ্তি এবং মুগ্ধতার ঢেকুর তুলেছি। মনে হচ্ছিলো জ্ঞান-প্রজ্ঞা ও দর্শনের জলাধারে ডুবে যাচ্ছি কিন্তু পুরোপুরি ডুবতে পারছি না বলে আমার খারাপ লাগছে!

মুসা আল হাফিজ সাহেব তাঁর নামের মতোই উজ্জ্বল। দর্শনের আকাশে এক প্রজ্বলতম নক্ষত্র। তাই আমি আমার জ্ঞানে-আভিজ্ঞানে,যোগ্যতা-অভিজ্ঞতায়; আমি আমার আচরণে-উচ্চারণে, প্রাপ্তি এবং পরিণতিতে,আমার প্রজ্ঞা ও সাধনায়.... আমার প্রজন্মের জন্য এক ভবিষ্যৎ মুসা আল হাফিজ হতে চাইবো!  আল্লাহ সহায়!!

ইসহাক নাজির
১৫.০৪.২০২০ ইং, রোজ বুধবার।


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

এমন দরদি মালী কোথায় পাব খুঁজে

মাদকঃ একটি আলোকচিত্র

জলের গান