দুপুরের কমলা রোদে হারাব একদিনঃ যেন সাহিত্য-সাগরে নাইতে নেমেছি

বইঃ দুপুরের কমলা রোদে হারাব একদিন
লেখকঃ কাজী সাইফুল ইসলাম

হালের তুমুল জনপ্রিয় একজন লেখকের সামনে দাঁড়িয়ে আছি- বুঝতে পারিনি সেদিন। এবারের বইমেলায় পাঠকের চে' লেখকের আধিক্যতায় অন্য দশজন লেখকের মতোই মনে হয়েছিলো কাজী সাইফুল ইসলাম ভাইয়া-কে। প্রিয় বড় ভাই সাব্বির সা'দীকে অটোগ্রাফ দিয়ে চলে গেলেন কোনো এক অবসরে আড্ডা দেবার নিমন্ত্রণ করে।

কিছু সাহিত্যপ্রেমির মুখে তাঁর লেখার প্রশংসা  শুনে পরিক্ষার ব্যস্ততায়- বলতে গেলে একরম রিস্ক নিয়েই হাতে নিলাম "দুপুরের কমলা রোদে হারাব একদিন"। এক বসায় শেষ করলে তো শেষই হয়ে যাবে, তখন হয়তো প্রিয় এ বইটিতে পরশ বুলিয়ে যাবে অন্য কোনো অচেনা আঙুল। আর কয়েক বসায় শেষ করলে হয়তো ভালোবাসার ঘ্রাণ লেগে থাকবে আমার আশেপাশে,বাতাসের গায়ে- এই ভেবেই কয়েক বসায় শেষ করা।

বইয়ের সবকটি চরিত্রই জায়গামতো যথেষ্ট ছিলো। প্রত্যেকটি চরিত্রেরই উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিলো ঘটনার প্রবাহে। লেখকের লেখায় শব্দের গাঁথুনি, বাক্যের আবেদন ছিলো মনে লাগার মতো। ছিলো ব্যক্তিকেন্দ্রিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিক অবক্ষয়ের বুদ্ধিবৃত্তিক পর্যালোচনা। সময়ের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, দ্বিধা- দর্শনের নিগুঢ় তাত্ত্বিক আলোচনা আপনাকে এই বইটিতে ভাবনার খোরাক যোগাতে সাহায্য করবে। কখনো পড়তে পড়তে থমকে বসেছি গল্পের আকস্মিকতায়। কখনোবা হাহাকার করেছি অবাক করা উক্তিতে৷

লেখকের প্রতি মুগ্ধতার আরেকটি দিক হলো,বইটিতে তিনি ইসলামের কিছুটা হলেও ছোঁয়া দিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। ছোট্ট পরিসরে  ইসলামের পরিচয় ব্যক্ত করতে চেয়েছিলেন। লেখকের ভেতরকার ইসলামী মানসিকতা দৃষ্টে যথেষ্ট পুলোক বোধ করেছি। তবে...ইসলাম সম্পর্কে জানা-শোনা সত্ত্বেও লেখকের হাত থেকে হঠাৎ ফসকে যায় একটি লাইন, একটি উপমা। বইয়ের ৭৪ নং পৃষ্ঠায় একজন মুসলমানের সঙ্গে ইবলিশ শয়তানের চিরাচরিত সংঘাত তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেছেন, " মানুষের সুখ নষ্ট করার জন্য সৃষ্টির আদিতেই আদম আর হাওয়ার পিছনে 'লাগিয়ে দেয়া হয়েছে ইবলিশকে'। এখানে তিনি 'লাগিয়ে' শব্দের প্রয়োগ করে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছেন।

আমরা জানি, 'লাগিয়ে' শব্দটা তখনই প্রয়োগ করা হবে, যখন কর্তার পিছনে কাজ করবে অন্য কারো ইচ্ছা কিংবা থাকবে অন্যের হাত। এখন নিশ্চিতভাবেই বোঝা যাচ্ছে, এখানে হয়তো কোনো ফেরেশতা কিংবা স্বয়ং আল্লাহই ইবলিশকে ব্যবহার করে আদম আর হাওয়াকে বেহেশত থেকে বের করার কাজটি করেছিলেন- নাউজুবিল্লাহ। অথচ ঘটনা মোটেও এরকম নয়। অন্যান্য জায়গায় ইসলাম সম্পর্কে লেখকের পজিটিভ থিংক বলে দেয়, তার দ্বারা এই কাজটি একেবারেই অনিচ্ছাবশত উদাসীনতার সাথে হয়ে গিয়েছে। পরবর্তী মুদ্রণে এর প্রতি সজাগ দৃষ্টিপাতের অনুরোধ করছি এবং পরম করুণাময়ের কাছে লেখকের সর্বমহলে সমৃদ্ধি কামনা করছি।


- ইসহাক নাজির, ২১/০৩/২০১৯ ইং।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

এমন দরদি মালী কোথায় পাব খুঁজে

মাদকঃ একটি আলোকচিত্র

জলের গান