গীর্জা ও আমি
মুসলিম বিশ্ববাসী এটাকে খৃষ্টীয় প্রোপাগান্ডা বলেই বিশ্বাস করে। গহীন গ্রাম ও পার্বত্য এলাকাগুলোর দুস্থ-পীড়িত ও সুবিধাবঞ্চিত অসহায় নির্বোধ মুসলিমদেরকে নানাবিধ সাহায্য সহযোগিতা করে স্বীয় ধর্মের ভিত আরো মজবুত করছে তারা। দীর্ঘ করে চলছে উপাসনালয়ের কাতারগুলো। আমাদের দাঈ মুসলিমরা শুধু দাওয়াহ'র ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকলেও দরীদ্র কৃষকদের গবাদীপশু, অসুস্থদের ফ্রী ট্রিটমেন্ট আর এদের সন্তানদের বিনে পয়সায় অপশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তারা কিন্তু বেশ অগ্রগামী ভূমিকা পালন করছে।
দুই.
'বেদ্বীন' ও 'নির্বোধ ইসলাম পরিত্যাগী'দের মাঝে দাওয়াহ'র কাজ করার তীব্র আকাঙখা বুকে লালন করেই গিয়েছিলাম গাজীপুরের কালীগঞ্জে। 'এগারো' জনের সংক্ষিপ্ত একটি কাফেলা নিয়ে অবস্থান গেড়েছিলাম 'মেঘবাড়ী রিসোর্টে'র অপজিটে থাকা 'মাদ্রাসাতুল কাউসার আল ইসলামীয়া'য়। মাদ্রাসার ছাত্র- শিক্ষকদের আন্তরীকতায় এতটাই মুগ্ধ হয়েছি যে,তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতার ভাষা আপাতত আমার জানা নেই। প্রথম দু'দিন আমরা খৃষ্টীয় ধর্ম সম্পর্কে বিচিত্র বহু বিষয়ে জ্ঞান লাভ করি। তৃতীয় দিন যাই এলাকাধীন বিশাল 'গীর্জা'য়। যা পূর্বাচল উপশহর পার হয়েই পাঞ্জোরা নামক গ্রামের শেষপ্রান্তে নাগরী বাজারের পাশেই অবস্থিত। গীর্জার উপরেই লেখা ছিলো "টলেন্টিনুর সাধু নিকোলাসের গীর্জা"। তবে গীর্জায় স্বীয় ধর্মের অনুসারীগণ ভিন্ন অন্যদের প্রবেশাধীকার তো কস্মিনকালেও সম্ভব নয়ই বরং তার অন্দরমহলে অনুপ্রবেশের অনুমোদন আমাদের আগমনী সেই প্রহরে কোনো ধর্মপ্রাণ খৃষ্টানেরও ছিলো না।
অতপর, তাদের সমাধীস্থলে প্রবেশ করলাম। যদ্দুর মনে পড়ে, সেখানে ছিলো ৫২০টি সমাধী। সেই সমাধীস্থলের প্রাণকেন্দ্রে একটু উঁচু জায়গায় লেখা ছিলো- "ধূলা থেকে এসেছ তুমি ধূলাতেই যাব মিশে। এখন তুমি মাটির বুকে শান্তিতে বিশ্রাম করো। উপদেশক ১২- ৭"। আর এর ভেতরেই দেয়ালের সাথে গেঁথে রাখা কথিত ঈসা'র কাঠের মূর্তি ছিলো। আর তারই দু'পাশে লেখা ছিলো- "সংসারের মায়া ছেড়ে আজিকে গেল যে জন,দাও প্রভু,দাও তারে অনন্ত জীবন"।
তিন.
ঘুরতে ঘুরতেই এক দারোয়ানের সাথে দেখা। কথা হলো বেশ বহু সময় ধরেই। প্রশ্ন,পাল্টা প্রশ্নতেই মুখরে ছিলো পুরো সময়টা। তবে লোকটা যে স্বীয় ধর্ম সম্পর্কে একেবারেই অজ্ঞ তা আর বুঝতে বাকী রইলো না।
গীর্জা দর্শণ পূর্ব আমার অনুভূতি ছিলো খানিকটা কৌতুহল মিশ্রিত। অবয়বজুড়ে মানুষের মত দেখা গেলেও ধর্মীয় নীতি নৈতিকতায় এদেরকে 'এব নরমাল' বলে মনে হয়। নয়তো গরু ছাগল আর টাকা দিয়ে কি কেউ ধর্ম কেনে?
ধর্ম বলতে আমি কেবল এমন আদর্শকেই বুঝি যা প্রয়োজনে মানুষ নিজের পকেটের অর্থ দিয়ে হলেও কিনে নিজের করে রাখবে।
আমরা আমাদের আদর্শ নিয়ে সর্বমহলে পৌঁছতে পারছিনা বলেই তারা আজ অর্থের বিনিময়ে মুসলিম উম্মাহকে একটু একটু করে কিনে নিয়ে যাচ্ছে।অক্ষমতা অপারগতা আর পিছিয়ে থাকা বৃহৎ এই মুসলিম জনগোষ্ঠী আফসোসকে সংগী করেই দিনের পর দিন গুজরান করে যাচ্ছে।
০২/১১/২০১৮ ইং





মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন