জলের গান


দিবানিশির সন্ধিক্ষণে আঁধারে ছাওয়া এমনি এক সন্ধ্যায় উম্মে হানীতে বসে আমরা বাইতুল্লাহর সৌন্দর্য উপভোগ করবো। বাইতুল্লাহর কৃষ্ণাভ শরীর গলে অপূর্ব আলোকচ্ছটা বেরোবে। পূর্ণিমারাতের জোছনার মতো আমরা সেই আলো আঁজলা ভরে নেবো। প্রাণের ক্ষুধায় গিলবো। বলা নেই, কওয়া নেই, হঠাৎ একখণ্ড মেঘ তেড়ে আসবে। বাদলের আভাসে আমি ভয়ে কাঁপতে থাকবো। তুমি মুখোমুখি বসে অভয় জাগাবে। 


এমনো বৃষ্টি-সুখের নিরব সন্ধ্যায় বাইতুল্লাহর সর্ব সৌন্দর্য এবং সমূহ বৈভব মাতাফে নেমে আসবে। তুমি ‘কী আনন্দ, কী আনন্দ’ বলে গড়াগড়ি খাবে। বৃষ্টি ভাঙার মহানন্দে গদগদ হবে। আমি সেই বেপরোয়া-বাতাসে উড়ে যেতে থাকবো নির্জীব নিরাশ্রয় তাবুর মতো। তুমি খুটি হয়ে আমায় বেঁধে রাখবে তোমার বুকের পাঁজরের সাথে। বেঁধে রাখবে গায়ের চাদরে; বেঁধে রাখবে কৃত্রিম শাসনের আদরে। পরম ভালোবাসায় আমি আরো আমুদে হবো। 


খানিক বাদেই লীলুয়া বাতাসে তোমার শরীর আগাম জ্বরে প্রকম্পিত হবে। আমি সমুদয় ক্লান্তি ভুলে তোমাকে জড়িয়ে ধরবো। তোমার ঠোঁট কাঁপবে। ভীত–কম্পিত হবে সারা গা। চোখের পাতায় ঘনিয়ে আসবে গ্রাম্য–প্রাচীন অবসাদ। তোমায় কোলে তুলে নেবো আমি। শুরু হবে জীবনের প্রত্যাশাঘন মহাপ্রতীক্ষিত প্রেমসাধনার সেই মূহুর্ত। শুরু হবে দমকা হাওয়ায় ঘনঘোর নিদ্রালু তাওয়াফ। প্রেমের ভাষায় যাকে আমরা বলি ‘তাওয়াফে আরজু’। 


যেনবা আদুরে বেড়ালের মতো আহ্লাদীত হবে তুমি;  রাঙা হয়ে ওঠবে তোমার চোখ-নাক-মুখ-কপাল। আমার বুকের কোণে এদিকটায় পাশ ফিরে শোবে তুমি। সেদিন হবে আমার কান্নার দিন। বিজলীর দমকে দমকে ছলকে উঠবে বুকের লোনাজল। চোখের পথে বের হয়ে মিশে যাবে অবারিত বারিধারায়। সেদিন কেউ বুঝবে না, এ কি আগত বৃষ্টিজল, নাকি লোনাঅশ্রুপাত! এ যে হরষেবিষাদ; কেউ জানবে না, কেউ বুঝবে না।


এসো নীপবনে, ছায়াবীথি তলে,

এসো করি স্নান, নবধারা জলে...


জলের গান/ ইসহাক নাজির

১১ ই মে ২০২১ ইং, রাত ১১: ৪০ মিনিট






মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

এমন দরদি মালী কোথায় পাব খুঁজে

মাদকঃ একটি আলোকচিত্র