রোজনামচাঃ জোৎস্নার চাদরে রাতের প্রেমময়তা...


নদীর বুকে, পূর্ণ চাঁদের রাতে, উচ্ছল জলাধারে একটু একটু ভেসে যাচ্ছে আমাদের কাফেলা। এই জলযাত্রায় পৃথিবীর আকাশে আজ পূর্ণিমা রাত, রাতের গায়ে চাঁদনী বন্দনা এবং জোৎস্নায় মাখামাখি আঁধার জলধি। যেন জোৎস্নার আলোয় ভেসে যাচ্ছে নদীর গায়ের যত ময়লা! এ এক অদ্ভুত রোমাঞ্চ; অন্যতম উন্মাদনা।


নদীর বুকে জোৎস্নাস্নাত চাঁদ আমার মনের ভেতর অদ্ভুত অনুভূতিকে উস্কে দিচ্ছে। এক বাচ্চামো ভাবনায় মুখিয়ে আছে আমার পুরোটা সময়। জীবনের অবুঝ বেলায় ঠিক যেভাবে ভাবতাম- “আমি যেখানে যাই, সেখানেই যায় ঐ চাঁদ”! চাঁদকে আজও আমার সাথে যেতে দেখে ভাবছি, আসলেই কি চাঁদ আমার সাথে সাথে চলছে? যেখানে যাচ্ছি সেখানেই যাচ্ছে? নাকি এ কোনো ভ্রম, জানিনা। সেই অবুঝ ভাবনা আমাকে আজও তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। আজ রাতের এই পবিত্র অনুভূতি আর এ অবুঝ ভাবনা আমাকে আমার “বাচপ্যনা” মনে করিয়ে দিচ্ছে! আহা, কী পবিত্র ছিলো সেই দিনগুলো!


দীর্ঘ তেরো বছর পরে আজকের লঞ্চযাত্রা। তেরো বছর আগের সেই যাত্রাও অবশ্য এতো দীর্ঘ ছিলো না। চাঁদপুরে এসে সেবার থামতে হয়েছিলো, কারণ চাঁদপুরই ছিলো আমাদের গন্তব্য। আজকের সফরে চাঁদপুর পেছনে ফেলে এসেছি সেই কখন! কেননা, গন্তব্যের টানে আমাদের এগোতে হবে বহুদূর; সেই সুদূর বরগুনা। প্রিয় বন্ধু আরাফাতের বাড়ি ছেড়ে আরো সামনে যেতে হবে শুনে ওর নাকি ভালো লাগছে না। ও বলেছে, “ভ্যাট” দিয়ে হলেও আমাকে নাকি রেখে দেবে। ও আমার অপেক্ষায় অপেক্ষমান।


অপেক্ষায় আছি আমরা সবাই, কেউ প্রিয়তমের, কেউ প্রিয়তমার; কেউ বন্ধুর, কেউ বা মৃত্যুর। আমাদের অপেক্ষা যে ফুরোয় না। আমার বন্ধু আমার প্রতিক্ষায় প্রহর গুণছে, আমার আম্মু আমার বাড়ি ফেরার পথচেয়ে আছে, আর এখানে! নদীর ছলাৎছলাৎ শব্দ আমার বুকের ভেতর মৃত্যুর স্বরে ডাকছে! মৃত্যুর ডাক উপেক্ষা করে বেঁচে ফিরেছে কোন সে চৌধুরী, কোন সে শিকদার-তালুকদার! আমার দেশের লঞ্চ, ট্রেন আর সড়ক দুর্ঘটনা আমাকে এসব আবোল- তাবোল ভাবতে “উৎসাহিত” করছে। আমি জানিনা, আমার আগমনে এখানে আমার বন্ধুর, আর সেখানে আমার আম্মুর প্রতিক্ষার অবসান ঘটবে কিনা! আমার পথ ফুরোবে কিনা! কিম্বা আমার পথ ফুরোনোর আগেই...!


রাত ১২: ২০ মিনিট, ০২-০৯-২০২০ ইং, রোজ বুধবার।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

এমন দরদি মালী কোথায় পাব খুঁজে

মাদকঃ একটি আলোকচিত্র

জলের গান