পোস্টগুলি

গীর্জা ও আমি

ছবি
মুসলিম বিশ্ববাসী এটাকে খৃষ্টীয় প্রোপাগান্ডা বলেই বিশ্বাস করে। গহীন গ্রাম ও পার্বত্য এলাকাগুলোর দুস্থ-পীড়িত ও সুবিধাবঞ্চিত অসহায় নির্বোধ মুসলিমদেরকে  নানাবিধ  সাহায্য সহযোগিতা করে স্বীয় ধর্মের ভিত আরো মজবুত করছে তারা। দীর্ঘ করে চলছে উপাসনালয়ের কাতারগুলো। আমাদের দাঈ মুসলিমরা শুধু দাওয়াহ'র ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকলেও দরীদ্র কৃষকদের গবাদীপশু, অসুস্থদের ফ্রী ট্রিটমেন্ট আর এদের সন্তানদের বিনে পয়সায় অপশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তারা কিন্তু বেশ অগ্রগামী ভূমিকা পালন করছে। দুই. 'বেদ্বীন' ও 'নির্বোধ ইসলাম পরিত্যাগী'দের মাঝে  দাওয়াহ'র কাজ করার তীব্র আকাঙখা বুকে লালন করেই গিয়েছিলাম গাজীপুরের কালীগঞ্জে। 'এগারো' জনের সংক্ষিপ্ত একটি কাফেলা নিয়ে অবস্থান গেড়েছিলাম 'মেঘবাড়ী রিসোর্টে'র অপজিটে থাকা 'মাদ্রাসাতুল কাউসার আল ইসলামীয়া'য়। মাদ্রাসার ছাত্র- শিক্ষকদের আন্তরীকতায় এতটাই মুগ্ধ হয়েছি যে,তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতার ভাষা আপাতত আমার জানা নেই। প্রথম দু'দিন আমরা খৃষ্টীয় ধর্ম সম্পর্কে বিচিত্র বহু বিষয়ে জ্ঞান লাভ করি। তৃতীয় দিন যাই এলাকাধীন বিশাল 'গী...

রোজনামচাঃ একটি বিকেল , একটি সন্ধ্যা

ছবি
১] একটি দেখা, স্কুল জীবন পার করে এসেছিলাম সেই দু হাজার  ০৬'এ। তখন ছিলো জীবনের উদয়নকাল। আজ দেখতে দেখতে পার হয়ে গেছে দীর্ঘ চৌদ্দ বছরের একটা জীবন। সাপ যেমন পুরোনো খোলস ফেলে নতুন শরীর ধারণ করে, স্কুল জীবনের দিনকাল ভুলে নতুন জীবনের তাকীদে তেমনি শুরু করেছিলাম সবকিছু। সেই সাথে আলাদা হয়েছিলো আমার পাঠ্যক্রম, আলাদা হয়েছিলো পাঠ্যবই, তেমনি বেশভূষা এবং জীবনযাত্রার সাথে সাথে আলাদা হয়েছিলো আমার সঙ্গী-সাথীরাও।  না পড়তে পড়তে বুক শেলফের পরিচর্যাহীন বইগুলো ধূলো-বালির আস্তরণে যেভাবে আঁধারে ছেয়ে যায়, সেভাবেই যোগাযোগের অভাবে পাশাপাশি এলাকায় থাকা সত্ত্বেও অদেখাই রয়ে গিয়েছিলো আমার সোনালি  শৈশবের সেই ‘ছোট্ট’ বন্ধুরা। কোথায় যেনো শুনেছিলাম, দুনিয়াটা গোল, তাই ঘুরে ফিরে একবার দেখা হওয়া কারো সাথে আবারো দেখা হয়ে যায়।নিয়তির ঘূর্ণিপাকে আমাদেরও দেখা হয়ে গেলো আজ। সেই আমি ছিলাম, সেই সাজ্জাদ ছিলো, সেই আলিফ, সেই আকাশ এবং সেই মাজহার ছিলো। যেখান থেকে আমরা হারিয়ে গিয়েছিলাম, সেই স্কুলেরই ত্রি-সীমানা ছিলো। শুধু সেই স্কুল ঘর ছিলো না। (কেননা, তা স্থানান্তর হয়ে গেছে আরেক জায়গায়) শুধু সেই শৈশবের সোনালী দিনগুলো হারিয়ে ...

রোজনামচাঃ ভাইয়া একটা কথা বলি?

ভাইয়া, একটা কথা বলি? আমার হাতে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের “নিষ্ফলা মাঠের কৃষক”। খন্ড খন্ড বিরতিতে পড়ছি তবুও বক্তব্যের প্রভাব হৃদয়ে বিস্তার করছে। বাস এবং যে কোনো দীর্ঘ পথযাত্রায় উপকারী হিসেবে বইকেই সর্বদা প্রাধান্য দিয়ে এসেছি। আজও বইয়ে মনোনিবেশ করেছিলাম। হঠাৎ পাশের সিটে একটু আগেই এসে বসা পিচ্চি ছেলেটা ডেকে বললো, ভাইয়া একটা কথা বলি? আমি অবাক হয়ে ছেলেটার দিকে তাকালাম। গায়ে হাতাকাটা গেঞ্জি আর নিচে হাফপ্যান্ট। ছেলেটা জিজ্ঞেস করলো, ভাইয়া আপনার কি কোনো ছোটভাই আছে? এই একটা বাক্য দিয়েই পিচ্চিটা আমার মনোযোগ আকর্ষণ করে ফেললো৷ ভাবলাম পিচ্চি হয়ে আরেক পিচ্চির কথা জিজ্ঞেস করে কেনো? - হ্যা আছে। কেনো? - আপনি কি আপনার ছোটভাইকে খেলনা কিনে দেন না? - হ্যা দেই। - তাহলে আমাকেও একটা খেলনা কিনে দেন না! এতোক্ষণে বুঝলাম ও আমার কোথায় কোপ মারতে চেয়েছিলো। তবু সেই কোপ উপভোগ করেই বললাম, আমার কাছে যে টাকা নেই! - বেশি না, শুধু পঞ্চাশ টাকা দিলেই হবে। - সত্যিই আমার কাছে নেই। - আচ্ছা, তাহলে আমার থেকে এই চারটা মাস্ক কিনেন। এতোক্ষণে খেয়াল করলাম ওর হাতে মাস্কের বক্স। আমি বললাম, না না আমার মাস্কের দরকার নেই, তুমিই রাখো। - না...

এই উচ্ছল জলধারায়...

ছবি
আমার হাজার বছরের উদ্ভ্রান্ত ভালোবাসা, জনম জনমের উদ্বাস্তু আর  দিশেহারা হৃদয়ের সুশীতল আশ্রয় হোক এই "ভালোবাসার কালোঘর"! আমায় পানের সুরায় পান করাও হে সাকী, রহমতের এ অমৃত সুধা! পাপের জলসায় জ্বলে-পুড়ে ছারখার এ হৃদয়, মাতাফের এই উচ্ছল জলধারায় প্রাণ ফিরে পেতে চায়! স্নাত-পবিত্র হতে চায়, ভেসে যেতে চায় প্রেমের বাসরে।  কেউ কি আমায় একপশলা বৃষ্টি-মুখরিত ভোরের মাতাফে নিমন্ত্রণ করতে পারো? তবে তাঁর গোলাম হয়েই পার করে দেবো একলা একটা জনম। ০৫.১১.২০২০, বৃহস্পতিবার। 

এক টুকরো শৈশব- ইসহাক নাজির

ছবি
মক্তবে পড়তে আসা বাচ্চাদের বাবারা তাদের সোনামণিকে, সেই পাখি ডাকা ভোরে, নূরানী মক্তবে দিয়ে যাবার দৃশ্য, আমাকে যেনো  আমার ফেলে আসা দূর শৈশবে হারিয়ে যেতে খানিকটা বাধ্যই করে। সেই প্রতিটি বাচ্চার মধ্যে আমি যেনো আমাকে, আর বাচ্চার বাবাদের মধ্যে আমার আব্বুকেই দেখতে পাই। মনে পড়ে যায়,সেই সোনালী সকালগুলোর কথা। ছুটির অপেক্ষায় আম্মুর দ্বোরগোড়ে দাঁড়িয়ে কাটানো সময়গুলোও এখনো মুছে যায়নি স্মৃতিপট থেকে। রোদ্দুর দুপুরে টিফিন ক্যারিয়ারে করে খানা নিয়ে আসা আব্বু থেকে তাঁর ওয়াদাকৃত দৈনিক এক পৃষ্ঠা সবকে "দশ" টাকা আদায়ের কথাটাও দেখছি এখনো তেমনি স্মৃতিতে ভাস্বর রয়েছে। হেফজখানার প্রথম জীবনে আম্মু খানা নিয়ে এসে বারান্দায় বসিয়ে নিজ হাতে মুখে তুলে লোকমা লোকমা খাইয়ে দিতেন- এগুলো তো এখনো মনে পড়লে তীব্রতর লজ্জায় আর বিনম্র শ্রদ্ধায় মাথাটা নুঁয়ে আসে। এমনই ছিল আমার শৈশব! শৈশবের সোনালীরাই একদিন ভবিষ্যতের আকাশে সূর্য হয়ে হাসে। আমার আকাশেও আমি সেই সূর্যের উদয়ন প্রত্যাশী। তাই খানিকটা সময় স্মৃতিমন্থন করলাম। এক টুকরো শৈশব- ইসহাক নাজির। ০৮-০৯-২০২০ইং

রিকশা- ইসহাক নাজির

ছবি
টাকার বিনিময়ে মানুষ টেনে নেওয়ায় আত্মনিবেদিত 'মানুষগুলো'র মনোঃতত্ত্ব কখনো কেউ বুঝতে চেয়েছে কিনা জানা দরকার। কতোটুকু কষ্টে জীবন যাপিত হলে, জনে জনে টেনে নেয়ার কাজ করে মানুষ , হুটহাট করেই তা বোঝা যায় না। মাপা যায় না তাদের দুঃখ কতো,কষ্ট কতো! কতো মানুষের চেয়ে তারা ঠিক কতোটুকু সুখী কিংবা তাদের সুখের পরিমাণ কতো!!  এই শ্রেণীর লোকদের দুঃখ কিছুটা হলেও আঁচ করতে পারি,যখন তাদের মধ্যে দেখি নিজের কাউকে। বাবার সমবয়েসীদের মধ্যে যেনো বাবাকেই দেখতে পাই,দাদার সমবয়েসীর মধ্যে দেখি দাদাকে। মৃত্যুর ডাকে হারিয়ে যাওয়া আমার নানাভাইকেও দেখতে পাই কারো কারো মধ্যে। তখন চলন্ত তার রিকশা থেকেও নেমে পড়তে ইচ্ছে জাগে- "আমার আপনেরা আমাকে বহন করছে"  ভেবে। কাড়ি কাড়ি টাকা নেই আমার। নিজের গাড়িতে ওঠার সৌভাগ্য যে এখনো চেয়ে আনা হলো না রাব্বে কারীম হতে। তাই গাড়ি না থাকায় রিকশাই আমার সৌখিনতা। তবু  আমি আরাম করে বসে থাকবো আর  একজন ন্যুব্জমান বয়োবৃদ্ধ কী করে আমাকে টেনে নেবেন-এই প্রশ্নে সদাই দ্বিধাগ্রস্ত হই। কখনো কখনো উঠিও। দশটা টাকা বাড়িয়ে দেই। খুশি হয়েই দেই। আনন্দ লাগে,তৃপ্ত হই। এই অতিরিক্ততা আমার বেহেশতের দুয়োর উন্...

মাদকঃ একটি আলোকচিত্র

ছবি
তাহযীব, সংস্কৃতি বা কালচার সমার্থবোধক শব্দ।পরিভাষায়, বিশ্বাসলব্ধ মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ পরিশীলিত ও মার্জিত মানসিকতাকে সংস্কৃতি বা তাহযীব বলে। ইসলামী তাহযীব বা সংস্কৃতি হলো ইসলামী কার্যকলাপ। আর এ কার্যকলাপের সবই কুরআন হাদীস ভিত্তিক। কিছুটা সুস্পষ্ট, কিছুটা অস্পষ্ট- তবে এর বহির্ভূত নয়৷ ইসলামী সংস্কৃতির ব্যাপ্তি জীবনের সর্বক্ষেত্রে।  ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় এবং  অর্থনৈতিকসহ এমন কোনো দিক নেই যেখানে ইসলাম বহির্ভূত পৃথক অথবা বিকল্প কোনো দর্শন জীবনের চালিকাশক্তি হিসেবে স্বীকৃতির দাবী রাখে। ইসলাম প্রতিটি মানুষকে আদর্শবান মানুষরূপে গড়ে তুলতে চায়। ইসলাম চায়, প্রতিটি মানব সন্তানকে সর্বপ্রকার অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা থেকে মুক্ত করে সৎ, আদর্শিক এবং পুতঃপবিত্র রূপে পরিচালনা করতে। আর এজন্যই ইসলাম যেমনিভাবে মানবজাতির উৎকর্ষসাধনে উৎকৃষ্ট ও পবিত্র বস্তুসমূহকে জায়েয এবং হালাল রেখেছে, ঠিক তেমনই নাপাক ও সর্বপ্রকার মন্দ বস্তুকে করেছে হারাম এবং নাজায়েয। প্রতিটি মানুষ শান্তশিষ্ট, বিবাদ-বিসম্বাদ ও কলহমুক্ত জীবন যাপন করুক,এটাই ইসলামী শরীয়াহ'র মূল লক্ষ্য। বেহায়াপনা উলঙ্গ ও অর্ধলঙ্গতা যেমনি...