পোস্টগুলি

এমন দরদি মালী কোথায় পাব খুঁজে

ছবি
  রায়বেন্ডের তরে জীবনকাল ওয়াকফ করার জন্য নাম লেখালেন তিনি। বিবির কাছে অনুমতি চাইতে এসে বললেন, “আপনার হক আপনাকে সম্পূর্ণরূপে বুঝিয়ে দেওয়া আমার পক্ষে কখনোই সম্ভব না। তাই নিজের হক ছেড়ে দিয়ে আপনি আমায় যদি রায়বেন্ডের জন্য অনুমতি দিতেন, অনেক ভালো হতো”। কথাটা আনুমানিক এমনই ছিল। দীর্ঘ পীড়াপীড়ির পর্ব শেষে বিবি সাহেবার অনুমতি পাওয়া গেল শেষমেশ। স্বামীর হক ছেড়ে দেওয়ার কষ্ট তবুও হয়তো খচখচ করে যাচ্ছিল বিবি সাহেবার বুকে। এই অনুমতি যে আর সব অনুমতির ন্যায় সীমিত ও সামান্য নয়, এ যে জীবনকালব্যাপী, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।  চূড়ান্ত হলো পরদিন সকালের নাশতা খেয়ে তিনি রায়বেন্ডের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। সেই মোতাবেক সকালের নাশতার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। একইসাথে ঘরের খোঁজে আজীবনের জন্য ঘরহীন হবার তাড়া। এমনই সময় নাশতার জন্য কালবিলম্ব না করে এই মুহূর্তে যেন তিনি বেরিয়ে পড়েন, এটাই হলো বিবির আকুতি। ঠিক বোঝা গেল না এর পেছনকার যথার্থ কারণ। একি স্বামীকে চিরতরে ঘর থেকে বের করে দেবার, নাকি স্বামীর স্বপ্নে নিজেকে সাজিয়ে নেবার? কেন এ আকুতি? গতরাতে যাকে মানাতে হাজারো কাঠখড় পোহাতে হলো, সেই তিনিই কিনা সকালে উঠে ...

কুরবানির মর্মকথা

ছবি
আমরা যেবার প্রথম কুরবানি করি, তখন আমার বয়স আনুমানিক ছয় কি সাত৷ ঈদেরদিন সকালে আম্মু আমাকে ঘুম থেকে ডেকে ওঠালেন, “বারান্দায় গিয়ে দেখ, তোমার আব্বু একটা ছাগল এনেছে কুরবানির জন্য“। আমি একলাফে বিছানা থেকে নামলাম। বারান্দায় গিয়ে দেখি একটা ছাগল থামের সাথে বাঁধা। ছাগলটা ছোট, আমার বয়েসও কম–এজন্যই কিনা জানি না, ওর উপর আমার খুব মায়া পড়ে গেল। আমি বায়না ধরলাম– এটাকে আমরা কুরবানী দেব না, লালনপালন করে বড় করব৷   যেই ভাবা সেই কাজ। নামাজের পর আব্বু নানাভাইকে প্রস্তুত হয়ে আসতে বললেন কুরবানির জন্য; তাঁরই জবাই করার কথা৷ অথচ আমি বেঁকে বসলাম। একে আমি মোটেও কুরবানি করতে রাজি নই। একে পালব, এবং এটাই আমার চূড়ান্ত কথা। তাই নানাভাইকে নামাজের পরে আর আসতে হবে না বলে নিষেধ করে দিলাম।  এখানে আমার অস্থির সময় কাটতে লাগল। এই ‘অবুঝ বাচ্চা’ ছাগলটাকে আমরা কী করে জবাই করব? ও তো খুবই ছোট এবং নিরীহ একটা প্রাণী। ওকে জবাই করতে কি একটুও খারাপ লাগবে না আব্বুর? জবাই যদি করেও ফেলা হয়, খাওয়ার সময় তো আমাদের বিবেকে বাঁধার কথা, নাকি? আব্বু এত নির্দয় আর পাষণ্ড কী করে হতে পারেন, ভেবে ভেবে আমি এর কূলকিনারা করতে পারলাম না। আমার...

মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি

ছবি
  প্রায় দেড় হাজার বছর আগের কথা। আরবের মাটি তখন অন্যায়-অপরাধ আর পাপাচার-অনাচারে উত্তপ্ত হয়ে ওঠেছিল। শত শত বছর ধরে পৌত্তলিকতা, অশ্লীলতা, শিরক, বিদ'আত ও বহুত্ববাদের জমাট অন্ধকারে ছেয়ে গিয়েছিল আরব্য উপত্যকার আকাশ-বাতাস। জাহেলিয়াতের নানাবিধ ঘৃণ্য এবং অসুস্থচর্চায় নৈতিক অবক্ষয়ের পথে পুরোপুরি পিছলে গিয়েছিল সমাজ। ইয়াতিম-গরিবের সম্পদহনন কিংবা একের মাল অপরে বলপূর্বক হাতিয়ে নেয়াটা তথাকার সভ্যতার অহঙ্কার হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল। ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সর্বতভাবে পর্যুদস্ত সমাজের চিত্রই যখন এক, যখন মানবিক বিপর্যয়ে জর্জরিত ও পরাজিত হয়েছিল গোটা সিস্টেম, তখন জীবনবারি হিসেবে এমন এক সঞ্জীবনীর প্রয়োজন অনুভূত হলো, খাদে পড়া এই পঙ্গু ও নতজানু সমাজটাকে তুলে ধরার ক্ষেত্রে যার ভূমিকা হবে শেষ বিকেলে হাল ধরা নাবিকের ন্যায়। হলোও তাই। একদা দিবানিশির সন্ধিক্ষণে আলোর ফুল হিসেবে প্রস্ফুটিত হলেন এক মহামানব। কালের কোলে শোভিত হলেন একজন মহীরুহ রূপে। যার নৈতিক আলো ও আত্মিক আলোড়নে আলোকিত হলো সাগর-ভূধর, ঝর্ণা-নহর। আলোড়িত হলো গোটা জগত-সংসারের সবটাই। যার ছায়ায় আশ্রিত হলো মানব-দানব নির্বিশেষে অবোধ পশু-পক্...

ব্যথার দান

ছবি
ক্লাস ফোরের বইয়ে যতীন্দ্রমোহন বাগচীর ‘কাজলা দিদি’ নামে একটা কবিতা ছিল। আমি তখন মাদ্রাসার মক্তবে থ্রিতে পড়ি৷ শুধু ‘কাজলা দিদি’ কেন, ফোরের কোন কবিতা বা গদ্যের সাথে স্বাভাবিক অর্থেই আমার তখন পরিচিত হবার কথা না। খুবই দুর্বল স্মৃতির মানুশ আমি। বিবাদমান বয়েসের তাড়নায় এই সামান্য সময়ে আজ অনেক কিছুই ভুলে গেছি৷ তবু সেই কবিতাটা একটা করুণ সুর এবং কান্নার গোটা গোটা আখরে স্মৃতির পাতায় এখনো জ্বলজ্বল করছে। মনের দেয়ালে এমনভাবে সেঁটে আছে, চাইলেই যাকে মিটিয়ে দেওয়া যায় না।  পনের বছরের সুদীর্ঘ পথ মাড়িয়ে আমি যখন ছোট্ট একটা বাগানের বিপরীতে দাঁড়ানো আমাদের সেই মক্তবের সাদা দেয়ালে ঘেরা ঘরটায় উঁকি দেই, তখন শৈশবের কিছু সোনালি মুখ দেখে আমি যেন গলে যাই। ওদের সাথে পড়তে পড়তে খেলতে খেলতে বইয়ের ওপর মাথা রেখে আমি ঘুমিয়ে পড়ি। অথচ প্রতিবার একটা কোমল ব্যথাময় কবিতার কণ্ঠ আমার সর্ব সত্তাকে নাড়া দিয়ে ওঠে। স্বপ্নের ঘুম থেকে জেগে দেখি কেউ পড়ছে কেউ খেলছে। আর একটা ছেলে...! একলা একা নিঃসঙ্গ বসে কবিতাটা আবৃত্তি করে চলেছে। দুপুরের নিস্তব্ধ নিরবতায় দূর বনের গহীন হতে ভেসে আসা ঘুঘুর ডাকের মতো করুণ সেই কণ্ঠস্বর। বেদনার গহনে কাঁদতে থ...

স্বপ্নের সাগরে...

ছবি
হেফজখানার ছোট্ট পরিসর ভেদ করে কিতাবখানায় পা রাখতেই বুঝলাম আমি এক মহাসমুদ্রে এসে নেমেছি। মক্তব আর হেফজখানা যেখানে পড়েছি, পরবর্তীকালে সেখানে কিতাব বিভাগ হলেও আমাদের তখনকার সময়ে ছিল না। আর ছিল না বলেই কিতাব বিভাগের উন্মুক্ত পাঠশালা, বড় বড় কিতাব, হিজিবিজি আঁকাবাঁকা হরফের কিছুই আমি ইতোপূর্বে দেখিনি। তাই এখানে আসামাত্রই এ যে এক বিস্তৃত গহীন সাম্রাজ্য; তা বুঝতে আমার খুব একটা বেগ পেতে হলো না। কিতাব বিভাগে ভর্তি হওয়ার আগে ভাবতাম এ-ও বুঝি হেফজখানার মতোই দীর্ঘ একটা কোর্স। আলাদা কোন শ্রেণির বিভাজন এখানে নেই। কিন্তু ভর্তি হওয়ার পরেই দেখি একের পর এক শ্রেণির বিভক্তি এবং সে-সব শ্রেণির সর্বনিম্নে আমার স্থান। ইবতেদায়ী আওয়াল থেকে শুরু করে দাওরা পর্যন্ত যেতে হলে একে একে দশটা সিঁড়ি আমায় চড়তে হবে। তবে মাঝখানে পা ফসকে গেলে এর লজ্জা অপমান তিরস্কার এবং গ্লানিবোধ–সবই আমার একার।  আমাদের রুমের সামনের রুমটাই ছিল দাওরায়ে হাদীসের। দাওরা আর আমাদের রুমের মাঝে দুই-তিন হাতের ছোট্ট একটা করিডোর। একটুখানি উঁকি দিলেই সেখানের সকাল-সন্ধ্যা দেখা যায়৷ দুটো পা এগিয়ে গেলে সেখানে ঢুকে বসেও থাকা যায়। তাই মুখোমুখি হওয়ার কারণে আম...
ছবি
আমার হাজার বছরের উদ্ভ্রান্ত ভালোবাসা, জনম জনমের উদ্বাস্তু আর  দিশেহারা হৃদয়ের সুশীতল আশ্রয় হোক এই "ভালোবাসার কালোঘর"! আমায় পানের সুরায় পান করাও হে সাকী, রহমতের এ অমৃত সুধা! পাপের জলসায় জ্বলে-পুড়ে ছারখার এ হৃদয়, মাতাফের এই উচ্ছল ফল্গুধারায় প্রাণ ফিরে পেতে চায়! স্নাত-পবিত্র হতে চায়, ভেসে যেতে চায় প্রেমের বাসরে।  কেউ কি আমায় একপশলা বৃষ্টি-মুখরিত ভোরের মাতাফে নিমন্ত্রণ করতে পারো? তবে তাঁর গোলাম হয়েই পার করে দেবো একলা একটা জনম।

দারিদ্রতা ও একটি আহ্বান

নামাজ শেষে সালাম ফেরানোর পরেই ইমাম সাহেব বললেন,এক মেয়ে এসেছে সাহায্যের জন্য। তার মায়ের......। সে বাহিরে দাঁড়িয়ে থাকবে। যে যা পারি, সাহায্য করি।  . নামাজের পরে বাহিরে গিয়ে প্রথমে কাউকেই দেখতে পেলাম না। হঠাৎ আঁধারে দেয়ালের সাথে মিশে দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণীর দিকে নজর পড়লো। বুঝতে পারছি না,এই মেয়ে কি সেই, ইমাম সাহেব যাকে সাহায্যের ব্যাপারে বললেন! নিজের ভেতর এই দ্বিধাবোধের কারণটা হচ্ছে, অন্যান্য সাহায্যপ্রার্থী কিংবা অল্প বয়েসী তরুণীরাও যেভাবে সাহায্যের আওয়াজ তোলে,এই প্রার্থী একেবারেই তাদের ভিন্ন। তিনি দাঁড়িয়ে আছেন ভাবটা এমন যেনো,ছোট ভাই মসজিদে নামাজে এসেছে। বড় বোন বাহিরে প্রতিক্ষমান। . অবাক হবার বিষয় হলো,মেয়েটা আপাদমস্তক বোরকাবৃতা। হাতে হাতমোজা ও পায়ে পা মোজা ছিলো। তার মানে হলো, মেয়েটা হয়তো মাদ্রাসায় পড়েন নয়তো ধার্মিক কোনো পরিবারের। অভাব,দীনতা,মায়ের অসুখের যন্ত্রণা তাকে আজ হাত পাতায় মাজবূর করেছে।  . আমার বাসায় বোন নেই। আত্মীয়দের ভেতরেও বোনের বড়ই অভাব। তাই মেয়েদের সংস্পর্শ থেকে আমি অনেকটাই দূরে৷ হয়তো এ কারণটাই আমাকে মেয়েটার সামনে গিয়ে সাহায্যের হাত বাড়াতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছিলো। ত...