পোস্টগুলি

নতুনের আয়োজন

ছবি
এ ঘরের সাথে আমার ‘একযুগ’ কালের দীর্ঘতম পরিচয়। কাঠফাটা প্রখর রোদের দিনে, সর্বনাশা বৃষ্টির প্লাবিত রাতে, ক্লান্তিময় রোগের আতিশয্যে এবং সর্বহারা অসহ্য শোকে এ আমাকে মনভরে থাকতে দিয়েছে। আমার হাসির খলখলে শব্দ যেমন এর মনে থাকার কথা, আমার কান্নাভেজা দিনরাত্রিকেও এর পক্ষে ভুলে যাবার জো নেই। নিজেকে ভেঙেগড়ে পরিচয় দিয়েছি আমি এখানে। এখানে নিজের প্রতিটি অধ্যায় আদ্যোপান্ত বর্ণনা করেছি।  এখানকার দেয়ালের প্রতিটি কোণ জানে আমার পরিচয়। দেয়ালের বুকে কান পাতলে হয়তো শোনা যাবে আমাকে। শোনা যাবে আমার জীবনের গেঁয়ো গীত আর কোরানের শুদ্ধস্বর তিলাওয়াতকে। আমার নিস্তরঙ্গ জীবন এবং খরতর যৌবনের দ্বন্দ্বসমাস সম্পর্কে পরিপূর্ণ ওয়াকিবহাল এই চারদেয়ালে ঘেরা ঘরময় জগতটা। তাই একে ছেড়ে যেতে আমার কোন তাড়া নেই; তবে ভেতরে ভেতরে তাড়না আছে খুব। ঘরটা দেখতে দেখতে ফাঁকা হয়ে এসেছে। সামানপত্র ইতোমধ্যেই সরিয়ে ফেলা হয়েছে৷ আমার কোন বইপত্রও এখানে আর নেই৷ আমাদের নতুন ফ্ল্যাট বাসায় সেগুলো স্বস্তির নিঃশ্বাস নিচ্ছে। এই ছাঁদের নিচে আমাদের বসবাসের দীর্ঘতম ‘একযুগে’ কখনো এমন হুলুস্থুল পরিবেশ এবং বিরান চিত্র আমি দেখিনি।  মানুষ খুবই আয়েসি প্রাণ...

মৃত্যুমুখী জন্মদিন

ছবি
আমরা এমন একটা পরিবেশ ও পরিস্থিতির মধ্যে বড় হয়েছি, যেখানে সম্পর্কের তেমন একটা গুরুত্ব না থাকলেও সম্পর্কসূত্রে গড়ে ওঠা দিনগুলির খুব গুরুত্ব আছে। জন্মবার্ষিকী, মৃত্যুবার্ষিকী ও  বিবাহবার্ষিকী আমাদের সমাজে নানান কারণে খুবই গুরুত্ববহ। আমার পরিবারে এসবের পুরোটা না থাকলেও এর একটা ক্ষীণ ও প্রচ্ছন্ন প্রভাব সবসময়ই ছিলো।  ধর্মীয় চেতনা ও আদর্শগত দৃষ্টিকোণ থেকে বলতে লজ্জার এবং সংকোচ মনে হলেও এটাই সত্য যে, আমার ভেতরেও এই নামমাত্র আনুষ্ঠানিকতা সেই ছোট্ট বয়স থেকেই খুব সামান্য পরিসরে যেমন ছিলো, এখনও আছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বেরিয়ে আসতে আমার আরো অনেক সময়ের প্রয়োজন। আমাদের আত্মীয় স্বজনের মধ্যে মানুষের জন্ম মৃত্যু নিয়ে একটু বাড়াবাড়ি রকমের উত্তেজনা আমি সবসময়ই লক্ষ্য করে এসেছি। মানুষের জন্ম নিয়ে এতোটা উত্তেজিত না হলেও, আমি মানুষের মৃত্যুর বিষয়ে দিনমান বিস্তর ভাবি। যে জীবনের জন্য আমাদের এতো আয়োজন, যেই যৌবনের জন্য আমাদের ভেতরে বিপুল চর্চা এবং তেজস্বী উন্মাদনা– সেই জীবন-যৌবনের করুণ পরিণতি সম্পর্কে কুল-কিনার করতে না পেরে যেন আকুলপাথারে ডুবে আছি।  আগেই বলেছি, আমার জীবনে এইসব দিনগুলোর গুরুত্ব এখনো বি...

আক্ষেপ

কাউকে মনেরমত করে লিখতে দেখলে আমার বুকের ভেতর অকথ্য আদিম ও অপরিসীম বন্যব্যথা জেগে ওঠে। একটা আর্তক্লিষ্টতামোহিত গোপন অবসাদ আমি অনুভব করি। এখন কোনমতেই নিজেকে টেনেটুনে লিখতে বসাতে পারি না। কলম খাতার সাহচর্যহীন এই জীবন আমি চাইনি; এখানে আমার ভালো লাগে না। অথর্ব অপরিণত ও অস্বস্তিকর মনে হয়। থেকে থেকে দম বন্ধ হয়ে আসে। আমি এই জীবন থেকে পালিয়ে বাঁচতে চাই। স্থুল দেহের উন্মত্ত যৌবনের খোলস ছেড়ে কিম্বা অন্তত মরে গিয়ে হলেও। যে জীবনে সাহিত্য নেই– শব্দের ভার ও মর্মের বেদনারহিত যে জীবন– যেখানে ভালোবাসা অস্পৃশ্য, সেখানে, সে জীবনে আমার কী!  চলো অন্য কোথা, অন্য কোনখানে... || আক্ষেপ, ইসহাক নাজির || ||১৯ শে জুন, ২০২১ ইং, শনিবার ||

জলের গান

ছবি
দিবানিশির সন্ধিক্ষণে আঁধারে ছাওয়া এমনি এক সন্ধ্যায় উম্মে হানীতে বসে আমরা বাইতুল্লাহর সৌন্দর্য উপভোগ করবো। বাইতুল্লাহর কৃষ্ণাভ শরীর গলে অপূর্ব আলোকচ্ছটা বেরোবে। পূর্ণিমারাতের জোছনার মতো আমরা সেই আলো আঁজলা ভরে নেবো। প্রাণের ক্ষুধায় গিলবো। বলা নেই, কওয়া নেই, হঠাৎ একখণ্ড মেঘ তেড়ে আসবে। বাদলের আভাসে আমি ভয়ে কাঁপতে থাকবো। তুমি মুখোমুখি বসে অভয় জাগাবে।  এমনো বৃষ্টি-সুখের নিরব সন্ধ্যায় বাইতুল্লাহর সর্ব সৌন্দর্য এবং সমূহ বৈভব মাতাফে নেমে আসবে। তুমি ‘কী আনন্দ, কী আনন্দ’ বলে গড়াগড়ি খাবে। বৃষ্টি ভাঙার মহানন্দে গদগদ হবে। আমি সেই বেপরোয়া-বাতাসে উড়ে যেতে থাকবো নির্জীব নিরাশ্রয় তাবুর মতো। তুমি খুটি হয়ে আমায় বেঁধে রাখবে তোমার বুকের পাঁজরের সাথে। বেঁধে রাখবে গায়ের চাদরে; বেঁধে রাখবে কৃত্রিম শাসনের আদরে। পরম ভালোবাসায় আমি আরো আমুদে হবো।  খানিক বাদেই লীলুয়া বাতাসে তোমার শরীর আগাম জ্বরে প্রকম্পিত হবে। আমি সমুদয় ক্লান্তি ভুলে তোমাকে জড়িয়ে ধরবো। তোমার ঠোঁট কাঁপবে। ভীত–কম্পিত হবে সারা গা। চোখের পাতায় ঘনিয়ে আসবে গ্রাম্য–প্রাচীন অবসাদ। তোমায় কোলে তুলে নেবো আমি। শুরু হবে জীবনের প্রত্যাশাঘন মহাপ্রতীক্ষিত...

রোজনামচা- চাওয়া-পাওয়ার কাছে জীবন যখন মূল্যহীন

এক বন্ধু গ্রাম থেকে এসেছে। নতুন মাদ্রাসা দিয়েছে। মাদ্রাসার কিছু কালেকশনের জন্যই আসা। কথাবার্তার এক পর্যায়ে গ্রামে ওর মাদ্রাসার পার্শ্ববর্তী আরেক মাদ্রাসার কিছুদিন আগে ঘটে যাওয়া একটা ঘটনা শোনালো। আমি তো শুনেই অবাক। এ কী করে সম্ভব? চাওয়া-পাওয়ার কাছে জীবনের কি কোনোই মূল্য নেই?  ঘটনাটা পাশের মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগের ১১/১২ বছরের একটা ছেলের। ছেলেটা কলরবের ভিডিওগুলো দেখতো সবসময়। তাঁদের মুভমেন্ট, চলা-ফেরা, পোশাকাদি সবকিছুই ওকে আকর্ষণ করেছে। বাবা দিনমজুরও না বললে চলে। ৫০০ টাকা কামাই করতে দুই তিনদিন লেগে যায়। ছেলে বায়না ধরলো, একটা জুব্বা বানিয়ে দিতে হবে। কলরবের মতো। খুব কষ্টে ইনকামের টাকা জমিয়ে বাবা ওকে একটা জুব্বা বানিয়ে দিলো।  শুধু জুব্বায় নিজেকে মানাচ্ছে না দেখে আবারো একটা কেডস কেনার বায়না ধরলো। বাবা এখন কেডস কেনার টাকা পাবে কোথায়! যেনো ছেলেকে বুঝ দেয়া যায় এমনভাবে বাবা বললো এক দুইশোর মধ্যে কোনো কেডস কিনে দেবেন৷ ছেলের তাতে মন ভরে না। তার কথা, কমপক্ষে পাঁচশো টাকার কেডস তো কিনে দিতেই হবে। তার অনবরত বায়না আর জেদ দেখে একপর্যায়ে রাগ হয়ে বাবা বললেন, কিনে দেবেনই না। যেই কথা সেই কাজ। এখানে এক...

ভাষা সাহিত্য-সাংবাদিকতাঃ প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা

সাহিত্যের প্রতি আমার যে ভালোবাসা, তা আজন্ম এবং সহজাত বলেই আমার বিশ্বাস। আমার ধারণা, আমার সাহিত্য-প্রতিভা সেই মানের না হলেও সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা এবং হাহাকারটুকু সঙ্গে করেই নিয়ে এসেছিলাম। সেই ছোটবেলা থেকেই চারপাশে এতো আনন্দ, এতো আদর-আহ্লাদের আয়োজন এবং এতো এতো মানুষের সমাবেশে থেকেও নিজের মধ্যেই কেমন যেন একাকিত্ব বোধ করতাম। অবসরে নিজেরই অজান্তে আমার ভেতর থিতু হয়ে থাকা আমি'র সাথে কথা বলতাম। কখনো রেডিওতে আবেগঘন  আবৃত্তি শোনলে মনটা খুশিতে বাকবাকুম করে ওঠতো। ভাবতাম, এতো সুন্দর করে মানুষ কীভাবে লিখতে পারে! এতো সুন্দর কী করে বলতে পারে! সেসব কল্পনা শুধুই আমার ভাবনার সাগরে ঢেউয়ের ঝাপটার মতো দোলা দিতো। হিফজখানার পাঠ চুকিয়ে কিতাব বিভাগে উত্তীর্ণ হতেই আমি ধাক্কার মতো খেলাম। সেই ধাক্কার নাম আমার প্রিয় শিক্ষক মুহতারাম আবুবকর মুহাম্মদ আদনান ( আল্লাহ তাঁর হায়াতে বারাকাহ দান করুন-আমীন)। বোধকরি, আমার জীবনের প্রথম বিস্ময়মানব তিনিই। মাদরাসায় তাঁর নেগরানিতে কেটেছে দু' দুটো বছর। তিনি আমাদের উর্দূ পড়াতেন। উর্দূ শব্দগুলোর বিভিন্ন অর্থ তুলতেন এবং বাক্যের ছন্দায়নে আমাদের মুগ্ধ করতেন। তাঁর কথার মাধুর্য ...

গীর্জা ও আমি

ছবি
মুসলিম বিশ্ববাসী এটাকে খৃষ্টীয় প্রোপাগান্ডা বলেই বিশ্বাস করে। গহীন গ্রাম ও পার্বত্য এলাকাগুলোর দুস্থ-পীড়িত ও সুবিধাবঞ্চিত অসহায় নির্বোধ মুসলিমদেরকে  নানাবিধ  সাহায্য সহযোগিতা করে স্বীয় ধর্মের ভিত আরো মজবুত করছে তারা। দীর্ঘ করে চলছে উপাসনালয়ের কাতারগুলো। আমাদের দাঈ মুসলিমরা শুধু দাওয়াহ'র ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকলেও দরীদ্র কৃষকদের গবাদীপশু, অসুস্থদের ফ্রী ট্রিটমেন্ট আর এদের সন্তানদের বিনে পয়সায় অপশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তারা কিন্তু বেশ অগ্রগামী ভূমিকা পালন করছে। দুই. 'বেদ্বীন' ও 'নির্বোধ ইসলাম পরিত্যাগী'দের মাঝে  দাওয়াহ'র কাজ করার তীব্র আকাঙখা বুকে লালন করেই গিয়েছিলাম গাজীপুরের কালীগঞ্জে। 'এগারো' জনের সংক্ষিপ্ত একটি কাফেলা নিয়ে অবস্থান গেড়েছিলাম 'মেঘবাড়ী রিসোর্টে'র অপজিটে থাকা 'মাদ্রাসাতুল কাউসার আল ইসলামীয়া'য়। মাদ্রাসার ছাত্র- শিক্ষকদের আন্তরীকতায় এতটাই মুগ্ধ হয়েছি যে,তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতার ভাষা আপাতত আমার জানা নেই। প্রথম দু'দিন আমরা খৃষ্টীয় ধর্ম সম্পর্কে বিচিত্র বহু বিষয়ে জ্ঞান লাভ করি। তৃতীয় দিন যাই এলাকাধীন বিশাল 'গী...