আমার হাজার বছরের উদ্ভ্রান্ত ভালোবাসা, জনম জনমের উদ্বাস্তু আর দিশেহারা হৃদয়ের সুশীতল আশ্রয় হোক এই "ভালোবাসার কালোঘর"! আমায় পানের সুরায় পান করাও হে সাকী, রহমতের এ অমৃত সুধা! পাপের জলসায় জ্বলে-পুড়ে ছারখার এ হৃদয়, মাতাফের এই উচ্ছল ফল্গুধারায় প্রাণ ফিরে পেতে চায়! স্নাত-পবিত্র হতে চায়, ভেসে যেতে চায় প্রেমের বাসরে। কেউ কি আমায় একপশলা বৃষ্টি-মুখরিত ভোরের মাতাফে নিমন্ত্রণ করতে পারো? তবে তাঁর গোলাম হয়েই পার করে দেবো একলা একটা জনম।
পোস্টগুলি
দারিদ্রতা ও একটি আহ্বান
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
নামাজ শেষে সালাম ফেরানোর পরেই ইমাম সাহেব বললেন,এক মেয়ে এসেছে সাহায্যের জন্য। তার মায়ের......। সে বাহিরে দাঁড়িয়ে থাকবে। যে যা পারি, সাহায্য করি। . নামাজের পরে বাহিরে গিয়ে প্রথমে কাউকেই দেখতে পেলাম না। হঠাৎ আঁধারে দেয়ালের সাথে মিশে দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণীর দিকে নজর পড়লো। বুঝতে পারছি না,এই মেয়ে কি সেই, ইমাম সাহেব যাকে সাহায্যের ব্যাপারে বললেন! নিজের ভেতর এই দ্বিধাবোধের কারণটা হচ্ছে, অন্যান্য সাহায্যপ্রার্থী কিংবা অল্প বয়েসী তরুণীরাও যেভাবে সাহায্যের আওয়াজ তোলে,এই প্রার্থী একেবারেই তাদের ভিন্ন। তিনি দাঁড়িয়ে আছেন ভাবটা এমন যেনো,ছোট ভাই মসজিদে নামাজে এসেছে। বড় বোন বাহিরে প্রতিক্ষমান। . অবাক হবার বিষয় হলো,মেয়েটা আপাদমস্তক বোরকাবৃতা। হাতে হাতমোজা ও পায়ে পা মোজা ছিলো। তার মানে হলো, মেয়েটা হয়তো মাদ্রাসায় পড়েন নয়তো ধার্মিক কোনো পরিবারের। অভাব,দীনতা,মায়ের অসুখের যন্ত্রণা তাকে আজ হাত পাতায় মাজবূর করেছে। . আমার বাসায় বোন নেই। আত্মীয়দের ভেতরেও বোনের বড়ই অভাব। তাই মেয়েদের সংস্পর্শ থেকে আমি অনেকটাই দূরে৷ হয়তো এ কারণটাই আমাকে মেয়েটার সামনে গিয়ে সাহায্যের হাত বাড়াতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছিলো। ত...
আত্মহত্যা : যে জীবন ধূলিময়
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
আত্মহত্যা আমাদের সমাজে একটি সহজ ও বহুল প্রচলিত শব্দ। আত্মহত্যা প্রায় প্রতিটি যুগেই প্রাসঙ্গিক ছিলো। এমনকি এখনও আছে। এই আত্মহত্যা নিয়ে আমাদের কৌতুহলের শেষ নেই। রবের দেয়া কৃতজ্ঞতাময় জীবন যখন অকৃতজ্ঞতায় পরিণত হয়, এই মহামানিক্য যখন অমূলক মনে হয়, তখনই কেবল মানুষ বেছে নেয় এই হীন ও জঘন্যতম পথ। আত্মহত্যা অর্থ হলো স্বয়ং নিজেকে হত্যা করা। আরেকটু গুছিয়ে এবং সুন্দর করে বললে, সহস্তে আল্লাহর দেয়া আমানতের খেয়ানত করা। যে দায়িত্ব আমার নয়, ঔদ্ধত্যের সাথে তা আদায় করা এবং ছিনিয়ে নেয়া। নিজের প্রাণনাশের কাজ নিজেই করাটা তো একরকম নিজের প্রাণ নিজে ছিনিয়ে নেয়াই বটে। উইকিপিডিয়ার ভাষ্যমতে, আত্মহত্যা বা আত্মহনন (ইংরেজি: Suicide) হচ্ছে কোনো ব্যক্তি কর্তৃক ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের জীবন বিসর্জন দেয়া বা স্বেচ্ছায় নিজের প্রাণনাশের প্রক্রিয়াবিশেষ। ল্যাটিন ভাষায় “সুই সেইডেয়ার” থেকে সুইসাইড বা আত্মহত্যা শব্দটি এসেছে, যার অর্থ হচ্ছে নিজেকে হত্যা করা। যখন কেউ আত্মহত্যা করেন, তখন জনগণ এ প্রক্রিয়াকে “আত্মহত্যা করেছে” বলে প্রচার করে। “মানুষ আত্মহত্যা কেনো করে”, এ নিয়ে রয়েছে নানান ধরনের অভিজ্ঞতা। আছে বিচিত্র গবেষণাও। আসল কথ...
অন্তঃশূন্যে অন্ধ হিম; হিমায়িত এক রহস্যের উপাখ্যান
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
অন্তঃশূন্যে অন্ধ হিম; হিমায়িত এক রহস্যের উপাখ্যান লেখিকা- সুফাই রুমিন তাজিন প্রকাশনি- বুক স্ট্রিট পৃষ্ঠাসংখ্যা- ১৭১ মুদ্রিতমূল্য- ২৮০৳ • পাঠ সংক্ষেপঃ ঢাকায় বেড়ে ওঠা বড্ড খেয়ালি এবং অন্যরকম একটা ছেলে ‘রাশেদ খন্দকার’। চিলেকোঠার ছোট্ট একটি ঘর, একটি রকিং চেয়ার, মেঝেতে বিছানো জাজিম, আর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বইময় একটি মনোরমা জগতের ভেতর দিয়ে খুব সুন্দর যাচ্ছিল রাশেদের দিনকাল৷ যৌবনের শুরুর দিককার সর্বগ্রাসী অনিয়ন্ত্রিত একটি ঝড় যেন তার ভেতরকার যাবতীয় অস্থিরতা নিভিয়ে দিল। বান্ধবী ইরার চলে যাওয়ার পর থেকে একাকিত্বই তার নিত্যকার সঙ্গী। বড়ভাই মাহফুজের পরামর্শে ঘরকুনো স্বভাবের এই রাশেদ বাবা-মা’কে ছেড়ে পড়ালেখার জন্য পাড়ি জমায় সুদূর রাজশাহীতে। একাকিত্ব ঘুচিয়ে আনতে এবং বন্ধু নাজমুলের একান্ত আবদারে তার বাড়িতে বেড়াতে যায়। ঝিমিয়ে পড়া জীবনে রাশেদের জন্য এই সফরটা একটা প্রেরণা হিসেবে কাজ করে। তার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে পুঠিয়ার একটি পুরোনো জমিদার বাড়ি। জমিদার বাড়ির আঙিনায় সর্বশেষ জমিদার সোমনাথ বাবুর নিষিদ্ধ ‘নীলাম্বরী’র ধ্বংসস্তূপের হাতছানি ফিরে ফিরে ভাবিয়ে তোলে রাশেদকে। এখানকার সা...
একটুখানি তাদাব্বুর
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
❝এরপর সে (ফেরাউন) বলল, আমিই তোমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ মাবুদ। অত:পর আল্লাহ তাকে দুনিয়া ও আখিরাতের শাস্তিতে পাকড়াও করলেন। নিশ্চয়ই এতে রয়েছে শিক্ষা; যারা ভয় করে, তাদের জন্য❞। সুরা নাযিয়াতের ২৪-২৬ নং আয়াতে অভিশপ্ত ফেরাউনের ব্যাপারে বর্ণিত হয়েছে উপরোক্ত বাণীগুলো। আল্লাহ তায়ালা ফেরাউনের ঔদ্ধত্য এবং খোদায়ি দাবীকে তুলে ধরে তার শাস্তির কথা এখানে উল্লেখ করেছেন। বলেছেন তার নির্মম পরিণতির কথা। আর “যারা ভয় করে, তাদের জন্য এতে রয়েছে শিক্ষা” কথাটি বলার মাধ্যমে সুকৌশলে ইঙ্গিত করেছেন মানবসম্প্রদায়ের প্রতি। আয়াতত্রয়ে ফেরাউনের যেই উভজাগতিক শাস্তির কথা তুলে ধরা হয়েছে, তার একটি, অর্থাৎ আখেরাতের শাস্তির বিষয়টি তো সুনিশ্চিত। খোদায়ি দাবীদার একজনের জন্য যেই শাস্তি প্রযোজ্য হওয়ার কথা, তার তা-ই হবে। কিন্তু দুনিয়াবি শাস্তিটি কী, কিছু নিজস্ব ভাবনানুযায়ী আমি পাঠকের দৃষ্টি সেই দিকেই আকর্ষিত করতে চাচ্ছি। মারা গেলে হিন্দুধর্মে হিন্দুয়ানা পদ্ধতিতে শবদেহকে চিতায় রেখে দাহ করা হয়। মুসলিম সামাজের মৃত ব্যক্তিকে, এমনকি ইহুদী-নাসারাদেরকেও তাদের রেওয়াজ অনুযায়ী মাটি দেওয়া হয়। অগ্নিদগ্ধ ব্যক্তি জ্বলেপুড়ে ছাঁই হয়ে যায় এবং মাটির কোলে...
প্রেমের কাবা, মনের কাবা
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
❝তৃষিতের অমৃত তুমি, তুমি তাপিত হৃদের তামান্না! শেষ রাতের স্তুতি তুমি, এই গরীবের বন্দনা❞! আমার যুগযুগান্তরের আর্জিগুলো ভাবের ছন্দায়ন হয়ে এভাবেই তোমার আঁচলে জমা হচ্ছে দিনের পরে দিন! শত-সহস্র 'উন্মাদ' যেমন আবর্ত হয় তোমায় ঘিরে,তেমনি একবার হলেও জীবনে তোমার চারিপাশে তাওয়াফের 'আশিস', আমার উন্মাতাল হৃদয়ে বাঁধনহারা জোয়ার তোলে। আমি চেয়ে রই-কবে আসবে ডাক ভালোবাসার সেই ‘কালোঘরে’র। কবে আমিও পড়তে পারবো তালবিয়া- “লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইকের”। কবুল করো মাওলা!
রোজনামচাঃ জোৎস্নার চাদরে রাতের প্রেমময়তা...
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
নদীর বুকে, পূর্ণ চাঁদের রাতে, উচ্ছল জলাধারে একটু একটু ভেসে যাচ্ছে আমাদের কাফেলা। এই জলযাত্রায় পৃথিবীর আকাশে আজ পূর্ণিমা রাত, রাতের গায়ে চাঁদনী বন্দনা এবং জোৎস্নায় মাখামাখি আঁধার জলধি। যেন জোৎস্নার আলোয় ভেসে যাচ্ছে নদীর গায়ের যত ময়লা! এ এক অদ্ভুত রোমাঞ্চ; অন্যতম উন্মাদনা। নদীর বুকে জোৎস্নাস্নাত চাঁদ আমার মনের ভেতর অদ্ভুত অনুভূতিকে উস্কে দিচ্ছে। এক বাচ্চামো ভাবনায় মুখিয়ে আছে আমার পুরোটা সময়। জীবনের অবুঝ বেলায় ঠিক যেভাবে ভাবতাম- “আমি যেখানে যাই, সেখানেই যায় ঐ চাঁদ”! চাঁদকে আজও আমার সাথে যেতে দেখে ভাবছি, আসলেই কি চাঁদ আমার সাথে সাথে চলছে? যেখানে যাচ্ছি সেখানেই যাচ্ছে? নাকি এ কোনো ভ্রম, জানিনা। সেই অবুঝ ভাবনা আমাকে আজও তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। আজ রাতের এই পবিত্র অনুভূতি আর এ অবুঝ ভাবনা আমাকে আমার “বাচপ্যনা” মনে করিয়ে দিচ্ছে! আহা, কী পবিত্র ছিলো সেই দিনগুলো! দীর্ঘ তেরো বছর পরে আজকের লঞ্চযাত্রা। তেরো বছর আগের সেই যাত্রাও অবশ্য এতো দীর্ঘ ছিলো না। চাঁদপুরে এসে সেবার থামতে হয়েছিলো, কারণ চাঁদপুরই ছিলো আমাদের গন্তব্য। আজকের সফরে চাঁদপুর পেছনে ফেলে এসেছি সেই কখন! কেননা, গন্তব্যের টানে আমাদের এগোতে হবে বহুদ...