পোস্টগুলি

মাদকঃ একটি আলোকচিত্র

ছবি
তাহযীব, সংস্কৃতি বা কালচার সমার্থবোধক শব্দ।পরিভাষায়, বিশ্বাসলব্ধ মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ পরিশীলিত ও মার্জিত মানসিকতাকে সংস্কৃতি বা তাহযীব বলে। ইসলামী তাহযীব বা সংস্কৃতি হলো ইসলামী কার্যকলাপ। আর এ কার্যকলাপের সবই কুরআন হাদীস ভিত্তিক। কিছুটা সুস্পষ্ট, কিছুটা অস্পষ্ট- তবে এর বহির্ভূত নয়৷ ইসলামী সংস্কৃতির ব্যাপ্তি জীবনের সর্বক্ষেত্রে।  ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় এবং  অর্থনৈতিকসহ এমন কোনো দিক নেই যেখানে ইসলাম বহির্ভূত পৃথক অথবা বিকল্প কোনো দর্শন জীবনের চালিকাশক্তি হিসেবে স্বীকৃতির দাবী রাখে। ইসলাম প্রতিটি মানুষকে আদর্শবান মানুষরূপে গড়ে তুলতে চায়। ইসলাম চায়, প্রতিটি মানব সন্তানকে সর্বপ্রকার অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা থেকে মুক্ত করে সৎ, আদর্শিক এবং পুতঃপবিত্র রূপে পরিচালনা করতে। আর এজন্যই ইসলাম যেমনিভাবে মানবজাতির উৎকর্ষসাধনে উৎকৃষ্ট ও পবিত্র বস্তুসমূহকে জায়েয এবং হালাল রেখেছে, ঠিক তেমনই নাপাক ও সর্বপ্রকার মন্দ বস্তুকে করেছে হারাম এবং নাজায়েয। প্রতিটি মানুষ শান্তশিষ্ট, বিবাদ-বিসম্বাদ ও কলহমুক্ত জীবন যাপন করুক,এটাই ইসলামী শরীয়াহ'র মূল লক্ষ্য। বেহায়াপনা উলঙ্গ ও অর্ধলঙ্গতা যেমনি...

আরযু হ্যায় ম্যায় তুঝে দেখা কারু!

ছবি
জান্নাত; পরম আরাধ্য একটি নাম। অশেষ এবং চিরস্থায়ী সুখময় জীবনের নিবাস পরম আরাধ্য হবারই কথা। একজন মুমিনের সারা জীবনকার স্বপ্ন এবং সাধনার গন্তব্য হলো কাঙ্খিত সেই “জান্নাত”। প্রেমাস্পদের পথচেয়ে প্রিয়তমের অস্থির প্রতিক্ষার মতো মুমিন তার ধ্যান-মন সব দিয়ে দাসত্বের নিষ্ঠতায় জান্নাতের আরাধনা করে যায়। সূরা কাহাফের একশো সাত নং আয়াতের ভাষ্যানুযায়ী সেই প্রতিক্ষিত জান্নাত ইমান ও নেক আমালের বিনিময়ে মুমিন তার প্রভুর পক্ষ থেকে উপহারস্বরূপ পেয়ে থাকেন।  প্রসঙ্গতই কথার পিঠে কথার মতো মাথা তুলে জেগে ওঠছে একটি প্রশ্ন। একজন মুমিনের জন্য উপহারের নামে জান্নাতই কি সর্বোচ্চ আকর্ষণ, নাকি তাক লাগিয়ে দেবার জন্য আরো বাকি কিছু আছে? যদি জান্নাতের পরেও সর্বোচ্চ আকর্ষণ বলতে কিছু থেকে থাকে, তাহলে কি নিঃসন্দেহে আরাধনা এবং সাধনার কেন্দ্রবিন্দু তাইই হবার কথা নয়? ধরাছোঁয়ার বাহিরে, শশুরালয়ে থাকা কন্যা যখন বহুদিন পরে বাবার বাড়ি আগমন করে, তখন নিশ্চয়ই এই আগমন বাবার বাড়ির ভোজনবিলাসের জন্য নয়! প্রিয় বাবার সোনামুখদর্শনই তখন মূখ্য হয়ে ওঠে। অথচ বাবার মুখদর্শনের পাশাপাশি ভোজনবিলাস পর্বও সানন্দেই সেরে যায়। ঠিক তেমনই একজন মুমিন কখনো ...

গল্পঃ আবিরা ও একটু জমিন

ছবি
এক] শরতের থমথমে বিষণ্ন আকাশ। মেঘে মেঘে গলাগলি করে যেনো একঘরে হয়ে আছে। একটু পরপর গুরুম গুরুম শব্দে বৃষ্টি ভাঙার জানান দিয়ে যাচ্ছে নীলাকাশ। ঘরে ফেরার তাড়ায় ব্যাকুল ভঙ্গিতে ছোটাছুটি করছে লোকজন। আজ শুধু তাড়া নেই 'আবিরা'র। এই তো ক'দিন আগেও একটা ঠিকানা ছিলো তার। বাস্তুহারা হওয়া সত্ত্বেও মাথা গোঁজার এক অনিশ্চিত অথচ প্রচ্ছন্ন ছায়া ছিলো। নিজেকে পুড়িয়ে যেমন দেবদারু বৃক্ষটা, আরামপ্রত্যাশী মানুষকে নিজ ছায়া বিলিয়ে চলে, ঠিক তেমনি রোদ্রের প্রখরতা,বাদলা দিনের তাণ্ডব আর সহস্র চোখ রাঙানী উপেক্ষা করে আবিরাকে তার মায়া বিতরণ করতো তার স্নেহময়ী মা; আলেয়া খন্দকার। তিনি বড্ড অবেলায় ছেড়ে গেছেন নয় বছরের আবিরাকে। চার বছরের আবরারকে সপে গেছেন তার হাতে। আজ মায়ের সর্বশেষ সম্বল আবরারকে বুকে আঁকড়ে ধরেই পথে পথে ঘুরছে আবিরা। পায়ে ছেঁড়া চটি,গায়ে একমাত্র জামা আর পেটে ক্ষুধার অন্ন তালাশে হন্যে হয়ে ঘুরছে সে। ক্ষুধার্ত আবিরা; ক্ষুধার্ত নিষ্পাপ আবরার। হাটতে হাটতে এক অভিজাত রেস্তোরার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে সে। বড় করুণ স্বরে হোটেলবয়কে বললো,"ভাইয়া! আমি আর আমার ছোটভাই সারাদিন কিছু খাইনি। কিছু খেতে দেবেন"? হোটেলব...

কবিতাঃ শোকার্ত

ছবি
ব্যাথা ছিলো বহু কথা ছিলো শত, ক্ষত ছিলো সারা গায়; ভুলিনি তো কভূ, বলিনি কো আগে, হৃদয় যে তড়পায়! এ বুকের মায়া ফোরাবার নারে, ক্ষণিকের এ ধরায়; এই ব্যাথাগুলো, ভারী হয়ে আজ, ঘোরে তোর পাড়া- গাঁয়!! -ইসহাক নাজির, ২৭-১১-২০১৮ ইং

কবিতাঃ নিখোঁজ তোমার খোঁজে...

তুমি আসতে পারতে 'কালোমেঘ' হয়ে, ভাসিয়ে নিতে পারতে এ নগরের রাজপথগুলো, তুমি আসোনি!  অথবা, তুমি আসতে পারতে চাঁদের কিরণ হয়ে, জোঁছনায় মাখিয়ে দিতে পারতে তোমার সৌরভ! তবুও তুমি আসোনি!  তুমি আসতে পারতে ভালোলাগা কলমের কালি হয়ে, সুর হয়ে, কবিতা হয়ে, কাগজের বুকে মিশিয়ে দিতে পারতে ভালোবাসাগুলো! তাও তুমি আসোনি! নতুবা, তুমি আসতে পারতে অন্তত একটি মাত্র মিসডকল হয়ে, যাকে ফের ফিরিয়ে দিয়ে হৃদয়ের স্নিগ্ধতা অনুভব করা যেতো হৃদয়ে! তারপরও তুমি আসোনি!  তুমি এসেছিলে একটি 'হারানো বিজ্ঞপ্তি' হয়ে! নিখোঁজ তোমার খোঁজে আলো খুইয়েছিলো এ শহরের চারপাশ, পোস্টারে পোস্টারে!! সেই তুমি এসেছিলে, বাতাস যে বলেনি.... -ইসহাক নাজির, ১৬-১১-২০১৮ ইং

বুক রিভিউঃ মির্জা কাদিয়ানীঃ বদমায়েশির আঁতুড়ঘর

ছবি
বইঃ বেত্তমিজ লেখকঃ রশীদ জামীল গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্স "খাতমে নাবুওয়াত"; ইসলামী আকিদার একটি অন্যতম মৌল ও প্রধান অনুষঙ্গ। বলতে গেলে,ঈমানিয়্যাতের প্রশ্নে যার শর্ত সর্বাগ্রে এবং সর্বোময়। সুবহে সাদিকের ন্যায় স্বচ্ছ ও পবিত্র এ অধ্যায়টি বিশ্বব্যাপী মুসলিম-হৃদে ভালোবাসার সর্বোচ্চে সংরক্ষিত। প্রাণোন্মাদনা ও আত্মতৃপ্তির উৎস। এতোদসত্ত্বেও কালের আবর্তন আর সময়ের ঘূর্ণিপাকে, যুগে যুগে অসাধু কিছু লম্পট ও বাটপার গোছের  মাথামোটা মাতালেরা প্রবৃত্তি-প্ররোচনায় পড়ে খাতমে নাবুওয়াতের ঝান্ডাকে দু' পায়ে দলবার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়ে পড়ে। এ তালিকার সবচেয়ে নিম্নস্তরের অথচ প্রধান ভূমিকা ছিলো 'মির্জা কাদিয়ানীর'। যদিও প্রতিশ্রুতই ছিলো," আনা খা-তামুন নাবিয়্যিন,লা-নাবিয়্যা বা'দী"। সে ছিলো "আ প্রোডাক্ট অফ ব্রিটিশ কামিউনিটি"। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ কোয়ার্টারে ভারতবর্ষে যখন ব্রিটিশদের আগ্রাসী অবস্থান নড়বড়ে হয়ে ওঠে,উলামায়ে হিন্দের তোপের মুখে পড়ে ব্রিটিশদের মাথাগোঁজার আকাশ সংকোচিত হয়ে যায় ও পায়ের নিচের মাটিও যখন সরে যেতে শুরু করে, তখন উলামায়ে হিন্দের " জিহাদ ফরজ...

দুপুরের কমলা রোদে হারাব একদিনঃ যেন সাহিত্য-সাগরে নাইতে নেমেছি

ছবি
বইঃ দুপুরের কমলা রোদে হারাব একদিন লেখকঃ কাজী সাইফুল ইসলাম হালের তুমুল জনপ্রিয় একজন লেখকের সামনে দাঁড়িয়ে আছি- বুঝতে পারিনি সেদিন। এবারের বইমেলায় পাঠকের চে' লেখকের আধিক্যতায় অন্য দশজন লেখকের মতোই মনে হয়েছিলো কাজী সাইফুল ইসলাম ভাইয়া-কে। প্রিয় বড় ভাই সাব্বির সা'দীকে অটোগ্রাফ দিয়ে চলে গেলেন কোনো এক অবসরে আড্ডা দেবার নিমন্ত্রণ করে। কিছু সাহিত্যপ্রেমির মুখে তাঁর লেখার প্রশংসা  শুনে পরিক্ষার ব্যস্ততায়- বলতে গেলে একরম রিস্ক নিয়েই হাতে নিলাম "দুপুরের কমলা রোদে হারাব একদিন"। এক বসায় শেষ করলে তো শেষই হয়ে যাবে, তখন হয়তো প্রিয় এ বইটিতে পরশ বুলিয়ে যাবে অন্য কোনো অচেনা আঙুল। আর কয়েক বসায় শেষ করলে হয়তো ভালোবাসার ঘ্রাণ লেগে থাকবে আমার আশেপাশে,বাতাসের গায়ে- এই ভেবেই কয়েক বসায় শেষ করা। বইয়ের সবকটি চরিত্রই জায়গামতো যথেষ্ট ছিলো। প্রত্যেকটি চরিত্রেরই উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিলো ঘটনার প্রবাহে। লেখকের লেখায় শব্দের গাঁথুনি, বাক্যের আবেদন ছিলো মনে লাগার মতো। ছিলো ব্যক্তিকেন্দ্রিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিক অবক্ষয়ের বুদ্ধিবৃত্তিক পর্যালোচনা। সময়ের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, দ্বিধা- দর্শনের নিগুঢ় তা...