পোস্টগুলি

আক্ষেপ

কাউকে মনেরমত করে লিখতে দেখলে আমার বুকের ভেতর অকথ্য আদিম ও অপরিসীম বন্যব্যথা জেগে ওঠে। একটা আর্তক্লিষ্টতামোহিত গোপন অবসাদ আমি অনুভব করি। এখন কোনমতেই নিজেকে টেনেটুনে লিখতে বসাতে পারি না। কলম খাতার সাহচর্যহীন এই জীবন আমি চাইনি; এখানে আমার ভালো লাগে না। অথর্ব অপরিণত ও অস্বস্তিকর মনে হয়। থেকে থেকে দম বন্ধ হয়ে আসে। আমি এই জীবন থেকে পালিয়ে বাঁচতে চাই। স্থুল দেহের উন্মত্ত যৌবনের খোলস ছেড়ে কিম্বা অন্তত মরে গিয়ে হলেও। যে জীবনে সাহিত্য নেই– শব্দের ভার ও মর্মের বেদনারহিত যে জীবন– যেখানে ভালোবাসা অস্পৃশ্য, সেখানে, সে জীবনে আমার কী!  চলো অন্য কোথা, অন্য কোনখানে... || আক্ষেপ, ইসহাক নাজির || ||১৯ শে জুন, ২০২১ ইং, শনিবার ||

জলের গান

ছবি
দিবানিশির সন্ধিক্ষণে আঁধারে ছাওয়া এমনি এক সন্ধ্যায় উম্মে হানীতে বসে আমরা বাইতুল্লাহর সৌন্দর্য উপভোগ করবো। বাইতুল্লাহর কৃষ্ণাভ শরীর গলে অপূর্ব আলোকচ্ছটা বেরোবে। পূর্ণিমারাতের জোছনার মতো আমরা সেই আলো আঁজলা ভরে নেবো। প্রাণের ক্ষুধায় গিলবো। বলা নেই, কওয়া নেই, হঠাৎ একখণ্ড মেঘ তেড়ে আসবে। বাদলের আভাসে আমি ভয়ে কাঁপতে থাকবো। তুমি মুখোমুখি বসে অভয় জাগাবে।  এমনো বৃষ্টি-সুখের নিরব সন্ধ্যায় বাইতুল্লাহর সর্ব সৌন্দর্য এবং সমূহ বৈভব মাতাফে নেমে আসবে। তুমি ‘কী আনন্দ, কী আনন্দ’ বলে গড়াগড়ি খাবে। বৃষ্টি ভাঙার মহানন্দে গদগদ হবে। আমি সেই বেপরোয়া-বাতাসে উড়ে যেতে থাকবো নির্জীব নিরাশ্রয় তাবুর মতো। তুমি খুটি হয়ে আমায় বেঁধে রাখবে তোমার বুকের পাঁজরের সাথে। বেঁধে রাখবে গায়ের চাদরে; বেঁধে রাখবে কৃত্রিম শাসনের আদরে। পরম ভালোবাসায় আমি আরো আমুদে হবো।  খানিক বাদেই লীলুয়া বাতাসে তোমার শরীর আগাম জ্বরে প্রকম্পিত হবে। আমি সমুদয় ক্লান্তি ভুলে তোমাকে জড়িয়ে ধরবো। তোমার ঠোঁট কাঁপবে। ভীত–কম্পিত হবে সারা গা। চোখের পাতায় ঘনিয়ে আসবে গ্রাম্য–প্রাচীন অবসাদ। তোমায় কোলে তুলে নেবো আমি। শুরু হবে জীবনের প্রত্যাশাঘন মহাপ্রতীক্ষিত...

রোজনামচা- চাওয়া-পাওয়ার কাছে জীবন যখন মূল্যহীন

এক বন্ধু গ্রাম থেকে এসেছে। নতুন মাদ্রাসা দিয়েছে। মাদ্রাসার কিছু কালেকশনের জন্যই আসা। কথাবার্তার এক পর্যায়ে গ্রামে ওর মাদ্রাসার পার্শ্ববর্তী আরেক মাদ্রাসার কিছুদিন আগে ঘটে যাওয়া একটা ঘটনা শোনালো। আমি তো শুনেই অবাক। এ কী করে সম্ভব? চাওয়া-পাওয়ার কাছে জীবনের কি কোনোই মূল্য নেই?  ঘটনাটা পাশের মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগের ১১/১২ বছরের একটা ছেলের। ছেলেটা কলরবের ভিডিওগুলো দেখতো সবসময়। তাঁদের মুভমেন্ট, চলা-ফেরা, পোশাকাদি সবকিছুই ওকে আকর্ষণ করেছে। বাবা দিনমজুরও না বললে চলে। ৫০০ টাকা কামাই করতে দুই তিনদিন লেগে যায়। ছেলে বায়না ধরলো, একটা জুব্বা বানিয়ে দিতে হবে। কলরবের মতো। খুব কষ্টে ইনকামের টাকা জমিয়ে বাবা ওকে একটা জুব্বা বানিয়ে দিলো।  শুধু জুব্বায় নিজেকে মানাচ্ছে না দেখে আবারো একটা কেডস কেনার বায়না ধরলো। বাবা এখন কেডস কেনার টাকা পাবে কোথায়! যেনো ছেলেকে বুঝ দেয়া যায় এমনভাবে বাবা বললো এক দুইশোর মধ্যে কোনো কেডস কিনে দেবেন৷ ছেলের তাতে মন ভরে না। তার কথা, কমপক্ষে পাঁচশো টাকার কেডস তো কিনে দিতেই হবে। তার অনবরত বায়না আর জেদ দেখে একপর্যায়ে রাগ হয়ে বাবা বললেন, কিনে দেবেনই না। যেই কথা সেই কাজ। এখানে এক...

ভাষা সাহিত্য-সাংবাদিকতাঃ প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা

সাহিত্যের প্রতি আমার যে ভালোবাসা, তা আজন্ম এবং সহজাত বলেই আমার বিশ্বাস। আমার ধারণা, আমার সাহিত্য-প্রতিভা সেই মানের না হলেও সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা এবং হাহাকারটুকু সঙ্গে করেই নিয়ে এসেছিলাম। সেই ছোটবেলা থেকেই চারপাশে এতো আনন্দ, এতো আদর-আহ্লাদের আয়োজন এবং এতো এতো মানুষের সমাবেশে থেকেও নিজের মধ্যেই কেমন যেন একাকিত্ব বোধ করতাম। অবসরে নিজেরই অজান্তে আমার ভেতর থিতু হয়ে থাকা আমি'র সাথে কথা বলতাম। কখনো রেডিওতে আবেগঘন  আবৃত্তি শোনলে মনটা খুশিতে বাকবাকুম করে ওঠতো। ভাবতাম, এতো সুন্দর করে মানুষ কীভাবে লিখতে পারে! এতো সুন্দর কী করে বলতে পারে! সেসব কল্পনা শুধুই আমার ভাবনার সাগরে ঢেউয়ের ঝাপটার মতো দোলা দিতো। হিফজখানার পাঠ চুকিয়ে কিতাব বিভাগে উত্তীর্ণ হতেই আমি ধাক্কার মতো খেলাম। সেই ধাক্কার নাম আমার প্রিয় শিক্ষক মুহতারাম আবুবকর মুহাম্মদ আদনান ( আল্লাহ তাঁর হায়াতে বারাকাহ দান করুন-আমীন)। বোধকরি, আমার জীবনের প্রথম বিস্ময়মানব তিনিই। মাদরাসায় তাঁর নেগরানিতে কেটেছে দু' দুটো বছর। তিনি আমাদের উর্দূ পড়াতেন। উর্দূ শব্দগুলোর বিভিন্ন অর্থ তুলতেন এবং বাক্যের ছন্দায়নে আমাদের মুগ্ধ করতেন। তাঁর কথার মাধুর্য ...

গীর্জা ও আমি

ছবি
মুসলিম বিশ্ববাসী এটাকে খৃষ্টীয় প্রোপাগান্ডা বলেই বিশ্বাস করে। গহীন গ্রাম ও পার্বত্য এলাকাগুলোর দুস্থ-পীড়িত ও সুবিধাবঞ্চিত অসহায় নির্বোধ মুসলিমদেরকে  নানাবিধ  সাহায্য সহযোগিতা করে স্বীয় ধর্মের ভিত আরো মজবুত করছে তারা। দীর্ঘ করে চলছে উপাসনালয়ের কাতারগুলো। আমাদের দাঈ মুসলিমরা শুধু দাওয়াহ'র ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকলেও দরীদ্র কৃষকদের গবাদীপশু, অসুস্থদের ফ্রী ট্রিটমেন্ট আর এদের সন্তানদের বিনে পয়সায় অপশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তারা কিন্তু বেশ অগ্রগামী ভূমিকা পালন করছে। দুই. 'বেদ্বীন' ও 'নির্বোধ ইসলাম পরিত্যাগী'দের মাঝে  দাওয়াহ'র কাজ করার তীব্র আকাঙখা বুকে লালন করেই গিয়েছিলাম গাজীপুরের কালীগঞ্জে। 'এগারো' জনের সংক্ষিপ্ত একটি কাফেলা নিয়ে অবস্থান গেড়েছিলাম 'মেঘবাড়ী রিসোর্টে'র অপজিটে থাকা 'মাদ্রাসাতুল কাউসার আল ইসলামীয়া'য়। মাদ্রাসার ছাত্র- শিক্ষকদের আন্তরীকতায় এতটাই মুগ্ধ হয়েছি যে,তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতার ভাষা আপাতত আমার জানা নেই। প্রথম দু'দিন আমরা খৃষ্টীয় ধর্ম সম্পর্কে বিচিত্র বহু বিষয়ে জ্ঞান লাভ করি। তৃতীয় দিন যাই এলাকাধীন বিশাল 'গী...

রোজনামচাঃ একটি বিকেল , একটি সন্ধ্যা

ছবি
১] একটি দেখা, স্কুল জীবন পার করে এসেছিলাম সেই দু হাজার  ০৬'এ। তখন ছিলো জীবনের উদয়নকাল। আজ দেখতে দেখতে পার হয়ে গেছে দীর্ঘ চৌদ্দ বছরের একটা জীবন। সাপ যেমন পুরোনো খোলস ফেলে নতুন শরীর ধারণ করে, স্কুল জীবনের দিনকাল ভুলে নতুন জীবনের তাকীদে তেমনি শুরু করেছিলাম সবকিছু। সেই সাথে আলাদা হয়েছিলো আমার পাঠ্যক্রম, আলাদা হয়েছিলো পাঠ্যবই, তেমনি বেশভূষা এবং জীবনযাত্রার সাথে সাথে আলাদা হয়েছিলো আমার সঙ্গী-সাথীরাও।  না পড়তে পড়তে বুক শেলফের পরিচর্যাহীন বইগুলো ধূলো-বালির আস্তরণে যেভাবে আঁধারে ছেয়ে যায়, সেভাবেই যোগাযোগের অভাবে পাশাপাশি এলাকায় থাকা সত্ত্বেও অদেখাই রয়ে গিয়েছিলো আমার সোনালি  শৈশবের সেই ‘ছোট্ট’ বন্ধুরা। কোথায় যেনো শুনেছিলাম, দুনিয়াটা গোল, তাই ঘুরে ফিরে একবার দেখা হওয়া কারো সাথে আবারো দেখা হয়ে যায়।নিয়তির ঘূর্ণিপাকে আমাদেরও দেখা হয়ে গেলো আজ। সেই আমি ছিলাম, সেই সাজ্জাদ ছিলো, সেই আলিফ, সেই আকাশ এবং সেই মাজহার ছিলো। যেখান থেকে আমরা হারিয়ে গিয়েছিলাম, সেই স্কুলেরই ত্রি-সীমানা ছিলো। শুধু সেই স্কুল ঘর ছিলো না। (কেননা, তা স্থানান্তর হয়ে গেছে আরেক জায়গায়) শুধু সেই শৈশবের সোনালী দিনগুলো হারিয়ে ...

রোজনামচাঃ ভাইয়া একটা কথা বলি?

ভাইয়া, একটা কথা বলি? আমার হাতে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের “নিষ্ফলা মাঠের কৃষক”। খন্ড খন্ড বিরতিতে পড়ছি তবুও বক্তব্যের প্রভাব হৃদয়ে বিস্তার করছে। বাস এবং যে কোনো দীর্ঘ পথযাত্রায় উপকারী হিসেবে বইকেই সর্বদা প্রাধান্য দিয়ে এসেছি। আজও বইয়ে মনোনিবেশ করেছিলাম। হঠাৎ পাশের সিটে একটু আগেই এসে বসা পিচ্চি ছেলেটা ডেকে বললো, ভাইয়া একটা কথা বলি? আমি অবাক হয়ে ছেলেটার দিকে তাকালাম। গায়ে হাতাকাটা গেঞ্জি আর নিচে হাফপ্যান্ট। ছেলেটা জিজ্ঞেস করলো, ভাইয়া আপনার কি কোনো ছোটভাই আছে? এই একটা বাক্য দিয়েই পিচ্চিটা আমার মনোযোগ আকর্ষণ করে ফেললো৷ ভাবলাম পিচ্চি হয়ে আরেক পিচ্চির কথা জিজ্ঞেস করে কেনো? - হ্যা আছে। কেনো? - আপনি কি আপনার ছোটভাইকে খেলনা কিনে দেন না? - হ্যা দেই। - তাহলে আমাকেও একটা খেলনা কিনে দেন না! এতোক্ষণে বুঝলাম ও আমার কোথায় কোপ মারতে চেয়েছিলো। তবু সেই কোপ উপভোগ করেই বললাম, আমার কাছে যে টাকা নেই! - বেশি না, শুধু পঞ্চাশ টাকা দিলেই হবে। - সত্যিই আমার কাছে নেই। - আচ্ছা, তাহলে আমার থেকে এই চারটা মাস্ক কিনেন। এতোক্ষণে খেয়াল করলাম ওর হাতে মাস্কের বক্স। আমি বললাম, না না আমার মাস্কের দরকার নেই, তুমিই রাখো। - না...