পোস্টগুলি

একটুখানি তাদাব্বুর

ছবি
❝এরপর সে (ফেরাউন) বলল, আমিই তোমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ মাবুদ। অত:পর আল্লাহ তাকে দুনিয়া ও আখিরাতের শাস্তিতে পাকড়াও করলেন। নিশ্চয়ই এতে রয়েছে শিক্ষা; যারা ভয় করে, তাদের জন্য❞। সুরা নাযিয়াতের ২৪-২৬ নং আয়াতে অভিশপ্ত ফেরাউনের ব্যাপারে বর্ণিত হয়েছে উপরোক্ত বাণীগুলো। আল্লাহ তায়ালা ফেরাউনের ঔদ্ধত্য এবং খোদায়ি দাবীকে তুলে ধরে তার শাস্তির কথা এখানে উল্লেখ করেছেন। বলেছেন তার নির্মম পরিণতির কথা। আর “যারা ভয় করে, তাদের জন্য এতে রয়েছে শিক্ষা” কথাটি বলার মাধ্যমে সুকৌশলে ইঙ্গিত করেছেন মানবসম্প্রদায়ের প্রতি। আয়াতত্রয়ে ফেরাউনের যেই উভজাগতিক শাস্তির কথা তুলে ধরা হয়েছে, তার একটি, অর্থাৎ আখেরাতের শাস্তির বিষয়টি তো সুনিশ্চিত। খোদায়ি দাবীদার একজনের জন্য যেই শাস্তি প্রযোজ্য হওয়ার কথা, তার তা-ই হবে। কিন্তু দুনিয়াবি শাস্তিটি কী, কিছু নিজস্ব ভাবনানুযায়ী আমি পাঠকের দৃষ্টি সেই দিকেই আকর্ষিত করতে চাচ্ছি। মারা গেলে হিন্দুধর্মে হিন্দুয়ানা পদ্ধতিতে শবদেহকে চিতায় রেখে দাহ করা হয়। মুসলিম সামাজের মৃত ব্যক্তিকে, এমনকি ইহুদী-নাসারাদেরকেও তাদের রেওয়াজ অনুযায়ী মাটি দেওয়া হয়। অগ্নিদগ্ধ ব্যক্তি জ্বলেপুড়ে ছাঁই হয়ে যায় এবং মাটির কোলে...

প্রেমের কাবা, মনের কাবা

ছবি
❝তৃষিতের অমৃত তুমি,  তুমি তাপিত হৃদের তামান্না! শেষ রাতের স্তুতি তুমি, এই গরীবের বন্দনা❞! আমার যুগযুগান্তরের আর্জিগুলো ভাবের ছন্দায়ন হয়ে এভাবেই তোমার আঁচলে জমা হচ্ছে দিনের পরে দিন! শত-সহস্র 'উন্মাদ' যেমন আবর্ত হয় তোমায় ঘিরে,তেমনি একবার হলেও জীবনে তোমার চারিপাশে তাওয়াফের 'আশিস', আমার উন্মাতাল হৃদয়ে বাঁধনহারা জোয়ার তোলে। আমি চেয়ে রই-কবে আসবে ডাক ভালোবাসার সেই ‘কালোঘরে’র। কবে আমিও পড়তে পারবো তালবিয়া- “লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইকের”। কবুল করো মাওলা!

রোজনামচাঃ জোৎস্নার চাদরে রাতের প্রেমময়তা...

ছবি
নদীর বুকে, পূর্ণ চাঁদের রাতে, উচ্ছল জলাধারে একটু একটু ভেসে যাচ্ছে আমাদের কাফেলা। এই জলযাত্রায় পৃথিবীর আকাশে আজ পূর্ণিমা রাত, রাতের গায়ে চাঁদনী বন্দনা এবং জোৎস্নায় মাখামাখি আঁধার জলধি। যেন জোৎস্নার আলোয় ভেসে যাচ্ছে নদীর গায়ের যত ময়লা! এ এক অদ্ভুত রোমাঞ্চ; অন্যতম উন্মাদনা। নদীর বুকে জোৎস্নাস্নাত চাঁদ আমার মনের ভেতর অদ্ভুত অনুভূতিকে উস্কে দিচ্ছে। এক বাচ্চামো ভাবনায় মুখিয়ে আছে আমার পুরোটা সময়। জীবনের অবুঝ বেলায় ঠিক যেভাবে ভাবতাম- “আমি যেখানে যাই, সেখানেই যায় ঐ চাঁদ”! চাঁদকে আজও আমার সাথে যেতে দেখে ভাবছি, আসলেই কি চাঁদ আমার সাথে সাথে চলছে? যেখানে যাচ্ছি সেখানেই যাচ্ছে? নাকি এ কোনো ভ্রম, জানিনা। সেই অবুঝ ভাবনা আমাকে আজও তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। আজ রাতের এই পবিত্র অনুভূতি আর এ অবুঝ ভাবনা আমাকে আমার “বাচপ্যনা” মনে করিয়ে দিচ্ছে! আহা, কী পবিত্র ছিলো সেই দিনগুলো! দীর্ঘ তেরো বছর পরে আজকের লঞ্চযাত্রা। তেরো বছর আগের সেই যাত্রাও অবশ্য এতো দীর্ঘ ছিলো না। চাঁদপুরে এসে সেবার থামতে হয়েছিলো, কারণ চাঁদপুরই ছিলো আমাদের গন্তব্য। আজকের সফরে চাঁদপুর পেছনে ফেলে এসেছি সেই কখন! কেননা, গন্তব্যের টানে আমাদের এগোতে হবে বহুদ...

রোজনামচা

ছবি
প্রেসক্লাবের সাংবাদিকতা ক্লাস শেষে জুমা পড়তে গেলাম বাইতুল মুকাররম। উত্তর গেইটের আঙিনায় আসতেই দেখি বিশাল পুলিশি বহর। তাদের প্রহরায় মেইন গেইট বন্ধ রেখে চেকিং গেইট দিয়ে মুছুল্লিদের ভেতরে ঢুকতে হচ্ছে। বাইতুল মুকাররমে পড়া এ আমার দ্বিতীয় জুমা। এর আগে গতো সপ্তাহেই প্রথম পড়েছিলাম৷ তাই মিছিল বা গণসমাবেশের সাথে আমার বোঝাপড়াটা খানিকটু কম। একেবারে যে নেই তাও না৷ আসা হয় না আরকি! এই-ই যা! আর এজন্যই এখানকার পুলিশি প্রহরা দেখে ভেবে বসেছিলাম ভিন্ন কিছু। সহপাঠি-সুহৃদ সালমান বললো, মিছিল কিংবা গণসমাবেশে তারা নাকি প্রটেকশন হিসেবে থাকে। কথাটা খুব একটা মনপুত না হলেও ফেলে দিলাম না।  নামাজ পড়ে বের হতেই দেখি গেইট থেকে না'রা দিতে দিতে কেবলই বেরিয়েছে একদল তৌহিদী জনতা। তবে সেখানেই তাদেরকে পুলিশি বাঁধার সম্মুখীন হতে হলো। মুখে শ্লোগান, শরীরে জোশ আর বুকে ঈমানি চেতনা। একেকজনের না'রায় ছিলো একেকরকম উচ্ছ্বাস, যেনো জলোচ্ছ্বাসের মতোন। তবুও, কোনো প্রতিশ্রুত নেতৃত্ব নেই, কোনো উচ্চকিত বয়ান-বক্তব্য নেই- এভাবেই নামাজ শেষে হুট করে বেরিয়ে পড়াটা আমার কাছে কেমন যেন ঠেকলো।  আরও কাজ আছে আমার। একজন আসবেন। তার অপেক্ষায় মসজিদে ...

একটি শুভ্র প্রার্থনা

ছবি
জায়নামাজে দুয়ায় বসে কাঁদছেন রোকেয়া। কান্নার দমকেই বোঝা যাচ্ছে কতোটা আকুলতা তাঁর মুনাজাতে। যেন অসহায় কোন বাঁদি মনিবের দুয়ারে প্রাণভিক্ষার দাবীতে ফোঁপাচ্ছে। মানুষ তার রবের নিকট কতোটা যে অসহায়, রোকায়া জামানিকে দেখে কিছুটা হলেও আঁচ করা যায়।  তিনি কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে বলছেন, “আয় আল্লাহ! আয় পরওয়ারদেগার! আর কত অপেক্ষা করা যায়! আর কতকাল এতোদূরে বসে থাকতে হবে! সারাজীবনের সাধ এবার তো পূরণ করুন! জীবনের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছি, সারাজীবনের যত পুঁজি একত্র করে আপনার দুয়ারে আঁচল পেতেছি। এবার তো দেখিয়ে দিন আপনার হারামাইনের আলো! এবার তো যেতে দিন আপনার ঘরের দরজায়! এবার একটু আশ্রয় দিন আপনার কাবার ছায়ায়! আপনার হাবীবের রওজায় গিয়ে সালাম পেশ করার তাওফিক দিন মালিক! আমার সারাজীবনের কষ্ট-সাধনা এবার কবুল করুন”! মুনাজাত শেষ করলেন রোকেয়া জামানি। খুবই আল্লাহভীরু নারী তিনি। স্বামী মারা যাবার পর একমাত্র ছেলে রাকিবকে নিয়েই কাটিয়ে দিয়েছেন সারাটা জীবন। আত্মীয়স্বজনের পীড়ায় পড়েও ছোট্ট রাকিবের মুখের দিকে তাকিয়ে আর বিয়ে করেননি তিনি।  একজন বিধবার এ সমাজে মূল্য কতোটুকু? তাই বিভিন্ন জায়গায় চাকরীর আবেদন করা সত্ত্বেও তার ...

নতুনের আয়োজন

ছবি
এ ঘরের সাথে আমার ‘একযুগ’ কালের দীর্ঘতম পরিচয়। কাঠফাটা প্রখর রোদের দিনে, সর্বনাশা বৃষ্টির প্লাবিত রাতে, ক্লান্তিময় রোগের আতিশয্যে এবং সর্বহারা অসহ্য শোকে এ আমাকে মনভরে থাকতে দিয়েছে। আমার হাসির খলখলে শব্দ যেমন এর মনে থাকার কথা, আমার কান্নাভেজা দিনরাত্রিকেও এর পক্ষে ভুলে যাবার জো নেই। নিজেকে ভেঙেগড়ে পরিচয় দিয়েছি আমি এখানে। এখানে নিজের প্রতিটি অধ্যায় আদ্যোপান্ত বর্ণনা করেছি।  এখানকার দেয়ালের প্রতিটি কোণ জানে আমার পরিচয়। দেয়ালের বুকে কান পাতলে হয়তো শোনা যাবে আমাকে। শোনা যাবে আমার জীবনের গেঁয়ো গীত আর কোরানের শুদ্ধস্বর তিলাওয়াতকে। আমার নিস্তরঙ্গ জীবন এবং খরতর যৌবনের দ্বন্দ্বসমাস সম্পর্কে পরিপূর্ণ ওয়াকিবহাল এই চারদেয়ালে ঘেরা ঘরময় জগতটা। তাই একে ছেড়ে যেতে আমার কোন তাড়া নেই; তবে ভেতরে ভেতরে তাড়না আছে খুব। ঘরটা দেখতে দেখতে ফাঁকা হয়ে এসেছে। সামানপত্র ইতোমধ্যেই সরিয়ে ফেলা হয়েছে৷ আমার কোন বইপত্রও এখানে আর নেই৷ আমাদের নতুন ফ্ল্যাট বাসায় সেগুলো স্বস্তির নিঃশ্বাস নিচ্ছে। এই ছাঁদের নিচে আমাদের বসবাসের দীর্ঘতম ‘একযুগে’ কখনো এমন হুলুস্থুল পরিবেশ এবং বিরান চিত্র আমি দেখিনি।  মানুষ খুবই আয়েসি প্রাণ...

মৃত্যুমুখী জন্মদিন

ছবি
আমরা এমন একটা পরিবেশ ও পরিস্থিতির মধ্যে বড় হয়েছি, যেখানে সম্পর্কের তেমন একটা গুরুত্ব না থাকলেও সম্পর্কসূত্রে গড়ে ওঠা দিনগুলির খুব গুরুত্ব আছে। জন্মবার্ষিকী, মৃত্যুবার্ষিকী ও  বিবাহবার্ষিকী আমাদের সমাজে নানান কারণে খুবই গুরুত্ববহ। আমার পরিবারে এসবের পুরোটা না থাকলেও এর একটা ক্ষীণ ও প্রচ্ছন্ন প্রভাব সবসময়ই ছিলো।  ধর্মীয় চেতনা ও আদর্শগত দৃষ্টিকোণ থেকে বলতে লজ্জার এবং সংকোচ মনে হলেও এটাই সত্য যে, আমার ভেতরেও এই নামমাত্র আনুষ্ঠানিকতা সেই ছোট্ট বয়স থেকেই খুব সামান্য পরিসরে যেমন ছিলো, এখনও আছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বেরিয়ে আসতে আমার আরো অনেক সময়ের প্রয়োজন। আমাদের আত্মীয় স্বজনের মধ্যে মানুষের জন্ম মৃত্যু নিয়ে একটু বাড়াবাড়ি রকমের উত্তেজনা আমি সবসময়ই লক্ষ্য করে এসেছি। মানুষের জন্ম নিয়ে এতোটা উত্তেজিত না হলেও, আমি মানুষের মৃত্যুর বিষয়ে দিনমান বিস্তর ভাবি। যে জীবনের জন্য আমাদের এতো আয়োজন, যেই যৌবনের জন্য আমাদের ভেতরে বিপুল চর্চা এবং তেজস্বী উন্মাদনা– সেই জীবন-যৌবনের করুণ পরিণতি সম্পর্কে কুল-কিনার করতে না পেরে যেন আকুলপাথারে ডুবে আছি।  আগেই বলেছি, আমার জীবনে এইসব দিনগুলোর গুরুত্ব এখনো বি...