পোস্টগুলি

আত্মহত্যা : যে জীবন ধূলিময়

ছবি
আত্মহত্যা আমাদের সমাজে একটি সহজ ও বহুল প্রচলিত শব্দ। আত্মহত্যা প্রায় প্রতিটি যুগেই প্রাসঙ্গিক ছিলো। এমনকি এখনও আছে। এই আত্মহত্যা নিয়ে আমাদের কৌতুহলের শেষ নেই। রবের দেয়া কৃতজ্ঞতাময় জীবন যখন অকৃতজ্ঞতায় পরিণত হয়, এই মহামানিক্য যখন অমূলক মনে হয়, তখনই কেবল মানুষ বেছে নেয় এই হীন ও জঘন্যতম পথ। আত্মহত্যা অর্থ হলো স্বয়ং নিজেকে হত্যা করা। আরেকটু গুছিয়ে এবং সুন্দর করে বললে, সহস্তে আল্লাহর দেয়া আমানতের খেয়ানত করা। যে দায়িত্ব আমার নয়, ঔদ্ধত্যের সাথে তা আদায় করা এবং ছিনিয়ে নেয়া। নিজের প্রাণনাশের কাজ নিজেই করাটা তো একরকম নিজের প্রাণ নিজে ছিনিয়ে নেয়াই বটে। উইকিপিডিয়ার ভাষ্যমতে, আত্মহত্যা বা আত্মহনন (ইংরেজি: Suicide) হচ্ছে কোনো ব্যক্তি কর্তৃক ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের জীবন বিসর্জন দেয়া বা স্বেচ্ছায় নিজের প্রাণনাশের প্রক্রিয়াবিশেষ। ল্যাটিন ভাষায় “সুই সেইডেয়ার” থেকে সুইসাইড বা আত্মহত্যা শব্দটি এসেছে, যার অর্থ হচ্ছে নিজেকে হত্যা করা। যখন কেউ আত্মহত্যা করেন, তখন জনগণ এ প্রক্রিয়াকে “আত্মহত্যা করেছে” বলে প্রচার করে। “মানুষ আত্মহত্যা কেনো করে”, এ নিয়ে রয়েছে নানান ধরনের অভিজ্ঞতা। আছে বিচিত্র গবেষণাও। আসল কথ...

অন্তঃশূন্যে অন্ধ হিম; হিমায়িত এক রহস্যের উপাখ্যান

ছবি
    অন্তঃশূন্যে অন্ধ হিম; হিমায়িত এক রহস্যের উপাখ্যান লেখিকা- সুফাই রুমিন তাজিন প্রকাশনি- বুক স্ট্রিট  পৃষ্ঠাসংখ্যা- ১৭১ মুদ্রিতমূল্য- ২৮০৳ • পাঠ সংক্ষেপঃ ঢাকায় বেড়ে ওঠা বড্ড খেয়ালি এবং অন্যরকম একটা ছেলে ‘রাশেদ খন্দকার’। চিলেকোঠার ছোট্ট একটি ঘর, একটি রকিং চেয়ার, মেঝেতে বিছানো জাজিম, আর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বইময় একটি মনোরমা জগতের ভেতর দিয়ে খুব সুন্দর যাচ্ছিল রাশেদের দিনকাল৷ যৌবনের শুরুর দিককার সর্বগ্রাসী অনিয়ন্ত্রিত একটি ঝড় যেন তার ভেতরকার যাবতীয় অস্থিরতা নিভিয়ে দিল। বান্ধবী ইরার চলে যাওয়ার পর থেকে একাকিত্বই তার নিত্যকার সঙ্গী।  বড়ভাই মাহফুজের পরামর্শে ঘরকুনো স্বভাবের এই রাশেদ বাবা-মা’কে ছেড়ে পড়ালেখার জন্য পাড়ি জমায় সুদূর রাজশাহীতে। একাকিত্ব ঘুচিয়ে আনতে এবং বন্ধু নাজমুলের একান্ত আবদারে তার বাড়িতে বেড়াতে যায়। ঝিমিয়ে পড়া জীবনে রাশেদের জন্য এই সফরটা একটা প্রেরণা হিসেবে কাজ করে। তার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে পুঠিয়ার একটি পুরোনো জমিদার বাড়ি। জমিদার বাড়ির আঙিনায় সর্বশেষ জমিদার সোমনাথ বাবুর নিষিদ্ধ ‘নীলাম্বরী’র ধ্বংসস্তূপের হাতছানি ফিরে ফিরে ভাবিয়ে তোলে রাশেদকে। এখানকার সা...

একটুখানি তাদাব্বুর

ছবি
❝এরপর সে (ফেরাউন) বলল, আমিই তোমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ মাবুদ। অত:পর আল্লাহ তাকে দুনিয়া ও আখিরাতের শাস্তিতে পাকড়াও করলেন। নিশ্চয়ই এতে রয়েছে শিক্ষা; যারা ভয় করে, তাদের জন্য❞। সুরা নাযিয়াতের ২৪-২৬ নং আয়াতে অভিশপ্ত ফেরাউনের ব্যাপারে বর্ণিত হয়েছে উপরোক্ত বাণীগুলো। আল্লাহ তায়ালা ফেরাউনের ঔদ্ধত্য এবং খোদায়ি দাবীকে তুলে ধরে তার শাস্তির কথা এখানে উল্লেখ করেছেন। বলেছেন তার নির্মম পরিণতির কথা। আর “যারা ভয় করে, তাদের জন্য এতে রয়েছে শিক্ষা” কথাটি বলার মাধ্যমে সুকৌশলে ইঙ্গিত করেছেন মানবসম্প্রদায়ের প্রতি। আয়াতত্রয়ে ফেরাউনের যেই উভজাগতিক শাস্তির কথা তুলে ধরা হয়েছে, তার একটি, অর্থাৎ আখেরাতের শাস্তির বিষয়টি তো সুনিশ্চিত। খোদায়ি দাবীদার একজনের জন্য যেই শাস্তি প্রযোজ্য হওয়ার কথা, তার তা-ই হবে। কিন্তু দুনিয়াবি শাস্তিটি কী, কিছু নিজস্ব ভাবনানুযায়ী আমি পাঠকের দৃষ্টি সেই দিকেই আকর্ষিত করতে চাচ্ছি। মারা গেলে হিন্দুধর্মে হিন্দুয়ানা পদ্ধতিতে শবদেহকে চিতায় রেখে দাহ করা হয়। মুসলিম সামাজের মৃত ব্যক্তিকে, এমনকি ইহুদী-নাসারাদেরকেও তাদের রেওয়াজ অনুযায়ী মাটি দেওয়া হয়। অগ্নিদগ্ধ ব্যক্তি জ্বলেপুড়ে ছাঁই হয়ে যায় এবং মাটির কোলে...

প্রেমের কাবা, মনের কাবা

ছবি
❝তৃষিতের অমৃত তুমি,  তুমি তাপিত হৃদের তামান্না! শেষ রাতের স্তুতি তুমি, এই গরীবের বন্দনা❞! আমার যুগযুগান্তরের আর্জিগুলো ভাবের ছন্দায়ন হয়ে এভাবেই তোমার আঁচলে জমা হচ্ছে দিনের পরে দিন! শত-সহস্র 'উন্মাদ' যেমন আবর্ত হয় তোমায় ঘিরে,তেমনি একবার হলেও জীবনে তোমার চারিপাশে তাওয়াফের 'আশিস', আমার উন্মাতাল হৃদয়ে বাঁধনহারা জোয়ার তোলে। আমি চেয়ে রই-কবে আসবে ডাক ভালোবাসার সেই ‘কালোঘরে’র। কবে আমিও পড়তে পারবো তালবিয়া- “লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইকের”। কবুল করো মাওলা!

রোজনামচাঃ জোৎস্নার চাদরে রাতের প্রেমময়তা...

ছবি
নদীর বুকে, পূর্ণ চাঁদের রাতে, উচ্ছল জলাধারে একটু একটু ভেসে যাচ্ছে আমাদের কাফেলা। এই জলযাত্রায় পৃথিবীর আকাশে আজ পূর্ণিমা রাত, রাতের গায়ে চাঁদনী বন্দনা এবং জোৎস্নায় মাখামাখি আঁধার জলধি। যেন জোৎস্নার আলোয় ভেসে যাচ্ছে নদীর গায়ের যত ময়লা! এ এক অদ্ভুত রোমাঞ্চ; অন্যতম উন্মাদনা। নদীর বুকে জোৎস্নাস্নাত চাঁদ আমার মনের ভেতর অদ্ভুত অনুভূতিকে উস্কে দিচ্ছে। এক বাচ্চামো ভাবনায় মুখিয়ে আছে আমার পুরোটা সময়। জীবনের অবুঝ বেলায় ঠিক যেভাবে ভাবতাম- “আমি যেখানে যাই, সেখানেই যায় ঐ চাঁদ”! চাঁদকে আজও আমার সাথে যেতে দেখে ভাবছি, আসলেই কি চাঁদ আমার সাথে সাথে চলছে? যেখানে যাচ্ছি সেখানেই যাচ্ছে? নাকি এ কোনো ভ্রম, জানিনা। সেই অবুঝ ভাবনা আমাকে আজও তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। আজ রাতের এই পবিত্র অনুভূতি আর এ অবুঝ ভাবনা আমাকে আমার “বাচপ্যনা” মনে করিয়ে দিচ্ছে! আহা, কী পবিত্র ছিলো সেই দিনগুলো! দীর্ঘ তেরো বছর পরে আজকের লঞ্চযাত্রা। তেরো বছর আগের সেই যাত্রাও অবশ্য এতো দীর্ঘ ছিলো না। চাঁদপুরে এসে সেবার থামতে হয়েছিলো, কারণ চাঁদপুরই ছিলো আমাদের গন্তব্য। আজকের সফরে চাঁদপুর পেছনে ফেলে এসেছি সেই কখন! কেননা, গন্তব্যের টানে আমাদের এগোতে হবে বহুদ...

রোজনামচা

ছবি
প্রেসক্লাবের সাংবাদিকতা ক্লাস শেষে জুমা পড়তে গেলাম বাইতুল মুকাররম। উত্তর গেইটের আঙিনায় আসতেই দেখি বিশাল পুলিশি বহর। তাদের প্রহরায় মেইন গেইট বন্ধ রেখে চেকিং গেইট দিয়ে মুছুল্লিদের ভেতরে ঢুকতে হচ্ছে। বাইতুল মুকাররমে পড়া এ আমার দ্বিতীয় জুমা। এর আগে গতো সপ্তাহেই প্রথম পড়েছিলাম৷ তাই মিছিল বা গণসমাবেশের সাথে আমার বোঝাপড়াটা খানিকটু কম। একেবারে যে নেই তাও না৷ আসা হয় না আরকি! এই-ই যা! আর এজন্যই এখানকার পুলিশি প্রহরা দেখে ভেবে বসেছিলাম ভিন্ন কিছু। সহপাঠি-সুহৃদ সালমান বললো, মিছিল কিংবা গণসমাবেশে তারা নাকি প্রটেকশন হিসেবে থাকে। কথাটা খুব একটা মনপুত না হলেও ফেলে দিলাম না।  নামাজ পড়ে বের হতেই দেখি গেইট থেকে না'রা দিতে দিতে কেবলই বেরিয়েছে একদল তৌহিদী জনতা। তবে সেখানেই তাদেরকে পুলিশি বাঁধার সম্মুখীন হতে হলো। মুখে শ্লোগান, শরীরে জোশ আর বুকে ঈমানি চেতনা। একেকজনের না'রায় ছিলো একেকরকম উচ্ছ্বাস, যেনো জলোচ্ছ্বাসের মতোন। তবুও, কোনো প্রতিশ্রুত নেতৃত্ব নেই, কোনো উচ্চকিত বয়ান-বক্তব্য নেই- এভাবেই নামাজ শেষে হুট করে বেরিয়ে পড়াটা আমার কাছে কেমন যেন ঠেকলো।  আরও কাজ আছে আমার। একজন আসবেন। তার অপেক্ষায় মসজিদে ...

একটি শুভ্র প্রার্থনা

ছবি
জায়নামাজে দুয়ায় বসে কাঁদছেন রোকেয়া। কান্নার দমকেই বোঝা যাচ্ছে কতোটা আকুলতা তাঁর মুনাজাতে। যেন অসহায় কোন বাঁদি মনিবের দুয়ারে প্রাণভিক্ষার দাবীতে ফোঁপাচ্ছে। মানুষ তার রবের নিকট কতোটা যে অসহায়, রোকায়া জামানিকে দেখে কিছুটা হলেও আঁচ করা যায়।  তিনি কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে বলছেন, “আয় আল্লাহ! আয় পরওয়ারদেগার! আর কত অপেক্ষা করা যায়! আর কতকাল এতোদূরে বসে থাকতে হবে! সারাজীবনের সাধ এবার তো পূরণ করুন! জীবনের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছি, সারাজীবনের যত পুঁজি একত্র করে আপনার দুয়ারে আঁচল পেতেছি। এবার তো দেখিয়ে দিন আপনার হারামাইনের আলো! এবার তো যেতে দিন আপনার ঘরের দরজায়! এবার একটু আশ্রয় দিন আপনার কাবার ছায়ায়! আপনার হাবীবের রওজায় গিয়ে সালাম পেশ করার তাওফিক দিন মালিক! আমার সারাজীবনের কষ্ট-সাধনা এবার কবুল করুন”! মুনাজাত শেষ করলেন রোকেয়া জামানি। খুবই আল্লাহভীরু নারী তিনি। স্বামী মারা যাবার পর একমাত্র ছেলে রাকিবকে নিয়েই কাটিয়ে দিয়েছেন সারাটা জীবন। আত্মীয়স্বজনের পীড়ায় পড়েও ছোট্ট রাকিবের মুখের দিকে তাকিয়ে আর বিয়ে করেননি তিনি।  একজন বিধবার এ সমাজে মূল্য কতোটুকু? তাই বিভিন্ন জায়গায় চাকরীর আবেদন করা সত্ত্বেও তার ...