পোস্টগুলি

এমন দরদি মালী কোথায় পাব খুঁজে

ছবি
  রায়বেন্ডের তরে জীবনকাল ওয়াকফ করার জন্য নাম লেখালেন তিনি। বিবির কাছে অনুমতি চাইতে এসে বললেন, “আপনার হক আপনাকে সম্পূর্ণরূপে বুঝিয়ে দেওয়া আমার পক্ষে কখনোই সম্ভব না। তাই নিজের হক ছেড়ে দিয়ে আপনি আমায় যদি রায়বেন্ডের জন্য অনুমতি দিতেন, অনেক ভালো হতো”। কথাটা আনুমানিক এমনই ছিল। দীর্ঘ পীড়াপীড়ির পর্ব শেষে বিবি সাহেবার অনুমতি পাওয়া গেল শেষমেশ। স্বামীর হক ছেড়ে দেওয়ার কষ্ট তবুও হয়তো খচখচ করে যাচ্ছিল বিবি সাহেবার বুকে। এই অনুমতি যে আর সব অনুমতির ন্যায় সীমিত ও সামান্য নয়, এ যে জীবনকালব্যাপী, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।  চূড়ান্ত হলো পরদিন সকালের নাশতা খেয়ে তিনি রায়বেন্ডের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। সেই মোতাবেক সকালের নাশতার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। একইসাথে ঘরের খোঁজে আজীবনের জন্য ঘরহীন হবার তাড়া। এমনই সময় নাশতার জন্য কালবিলম্ব না করে এই মুহূর্তে যেন তিনি বেরিয়ে পড়েন, এটাই হলো বিবির আকুতি। ঠিক বোঝা গেল না এর পেছনকার যথার্থ কারণ। একি স্বামীকে চিরতরে ঘর থেকে বের করে দেবার, নাকি স্বামীর স্বপ্নে নিজেকে সাজিয়ে নেবার? কেন এ আকুতি? গতরাতে যাকে মানাতে হাজারো কাঠখড় পোহাতে হলো, সেই তিনিই কিনা সকালে উঠে ...

কুরবানির মর্মকথা

ছবি
আমরা যেবার প্রথম কুরবানি করি, তখন আমার বয়স আনুমানিক ছয় কি সাত৷ ঈদেরদিন সকালে আম্মু আমাকে ঘুম থেকে ডেকে ওঠালেন, “বারান্দায় গিয়ে দেখ, তোমার আব্বু একটা ছাগল এনেছে কুরবানির জন্য“। আমি একলাফে বিছানা থেকে নামলাম। বারান্দায় গিয়ে দেখি একটা ছাগল থামের সাথে বাঁধা। ছাগলটা ছোট, আমার বয়েসও কম–এজন্যই কিনা জানি না, ওর উপর আমার খুব মায়া পড়ে গেল। আমি বায়না ধরলাম– এটাকে আমরা কুরবানী দেব না, লালনপালন করে বড় করব৷   যেই ভাবা সেই কাজ। নামাজের পর আব্বু নানাভাইকে প্রস্তুত হয়ে আসতে বললেন কুরবানির জন্য; তাঁরই জবাই করার কথা৷ অথচ আমি বেঁকে বসলাম। একে আমি মোটেও কুরবানি করতে রাজি নই। একে পালব, এবং এটাই আমার চূড়ান্ত কথা। তাই নানাভাইকে নামাজের পরে আর আসতে হবে না বলে নিষেধ করে দিলাম।  এখানে আমার অস্থির সময় কাটতে লাগল। এই ‘অবুঝ বাচ্চা’ ছাগলটাকে আমরা কী করে জবাই করব? ও তো খুবই ছোট এবং নিরীহ একটা প্রাণী। ওকে জবাই করতে কি একটুও খারাপ লাগবে না আব্বুর? জবাই যদি করেও ফেলা হয়, খাওয়ার সময় তো আমাদের বিবেকে বাঁধার কথা, নাকি? আব্বু এত নির্দয় আর পাষণ্ড কী করে হতে পারেন, ভেবে ভেবে আমি এর কূলকিনারা করতে পারলাম না। আমার...

মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি

ছবি
  প্রায় দেড় হাজার বছর আগের কথা। আরবের মাটি তখন অন্যায়-অপরাধ আর পাপাচার-অনাচারে উত্তপ্ত হয়ে ওঠেছিল। শত শত বছর ধরে পৌত্তলিকতা, অশ্লীলতা, শিরক, বিদ'আত ও বহুত্ববাদের জমাট অন্ধকারে ছেয়ে গিয়েছিল আরব্য উপত্যকার আকাশ-বাতাস। জাহেলিয়াতের নানাবিধ ঘৃণ্য এবং অসুস্থচর্চায় নৈতিক অবক্ষয়ের পথে পুরোপুরি পিছলে গিয়েছিল সমাজ। ইয়াতিম-গরিবের সম্পদহনন কিংবা একের মাল অপরে বলপূর্বক হাতিয়ে নেয়াটা তথাকার সভ্যতার অহঙ্কার হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল। ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সর্বতভাবে পর্যুদস্ত সমাজের চিত্রই যখন এক, যখন মানবিক বিপর্যয়ে জর্জরিত ও পরাজিত হয়েছিল গোটা সিস্টেম, তখন জীবনবারি হিসেবে এমন এক সঞ্জীবনীর প্রয়োজন অনুভূত হলো, খাদে পড়া এই পঙ্গু ও নতজানু সমাজটাকে তুলে ধরার ক্ষেত্রে যার ভূমিকা হবে শেষ বিকেলে হাল ধরা নাবিকের ন্যায়। হলোও তাই। একদা দিবানিশির সন্ধিক্ষণে আলোর ফুল হিসেবে প্রস্ফুটিত হলেন এক মহামানব। কালের কোলে শোভিত হলেন একজন মহীরুহ রূপে। যার নৈতিক আলো ও আত্মিক আলোড়নে আলোকিত হলো সাগর-ভূধর, ঝর্ণা-নহর। আলোড়িত হলো গোটা জগত-সংসারের সবটাই। যার ছায়ায় আশ্রিত হলো মানব-দানব নির্বিশেষে অবোধ পশু-পক্...

ব্যথার দান

ছবি
ক্লাস ফোরের বইয়ে যতীন্দ্রমোহন বাগচীর ‘কাজলা দিদি’ নামে একটা কবিতা ছিল। আমি তখন মাদ্রাসার মক্তবে থ্রিতে পড়ি৷ শুধু ‘কাজলা দিদি’ কেন, ফোরের কোন কবিতা বা গদ্যের সাথে স্বাভাবিক অর্থেই আমার তখন পরিচিত হবার কথা না। খুবই দুর্বল স্মৃতির মানুশ আমি। বিবাদমান বয়েসের তাড়নায় এই সামান্য সময়ে আজ অনেক কিছুই ভুলে গেছি৷ তবু সেই কবিতাটা একটা করুণ সুর এবং কান্নার গোটা গোটা আখরে স্মৃতির পাতায় এখনো জ্বলজ্বল করছে। মনের দেয়ালে এমনভাবে সেঁটে আছে, চাইলেই যাকে মিটিয়ে দেওয়া যায় না।  পনের বছরের সুদীর্ঘ পথ মাড়িয়ে আমি যখন ছোট্ট একটা বাগানের বিপরীতে দাঁড়ানো আমাদের সেই মক্তবের সাদা দেয়ালে ঘেরা ঘরটায় উঁকি দেই, তখন শৈশবের কিছু সোনালি মুখ দেখে আমি যেন গলে যাই। ওদের সাথে পড়তে পড়তে খেলতে খেলতে বইয়ের ওপর মাথা রেখে আমি ঘুমিয়ে পড়ি। অথচ প্রতিবার একটা কোমল ব্যথাময় কবিতার কণ্ঠ আমার সর্ব সত্তাকে নাড়া দিয়ে ওঠে। স্বপ্নের ঘুম থেকে জেগে দেখি কেউ পড়ছে কেউ খেলছে। আর একটা ছেলে...! একলা একা নিঃসঙ্গ বসে কবিতাটা আবৃত্তি করে চলেছে। দুপুরের নিস্তব্ধ নিরবতায় দূর বনের গহীন হতে ভেসে আসা ঘুঘুর ডাকের মতো করুণ সেই কণ্ঠস্বর। বেদনার গহনে কাঁদতে থ...

স্বপ্নের সাগরে...

ছবি
হেফজখানার ছোট্ট পরিসর ভেদ করে কিতাবখানায় পা রাখতেই বুঝলাম আমি এক মহাসমুদ্রে এসে নেমেছি। মক্তব আর হেফজখানা যেখানে পড়েছি, পরবর্তীকালে সেখানে কিতাব বিভাগ হলেও আমাদের তখনকার সময়ে ছিল না। আর ছিল না বলেই কিতাব বিভাগের উন্মুক্ত পাঠশালা, বড় বড় কিতাব, হিজিবিজি আঁকাবাঁকা হরফের কিছুই আমি ইতোপূর্বে দেখিনি। তাই এখানে আসামাত্রই এ যে এক বিস্তৃত গহীন সাম্রাজ্য; তা বুঝতে আমার খুব একটা বেগ পেতে হলো না। কিতাব বিভাগে ভর্তি হওয়ার আগে ভাবতাম এ-ও বুঝি হেফজখানার মতোই দীর্ঘ একটা কোর্স। আলাদা কোন শ্রেণির বিভাজন এখানে নেই। কিন্তু ভর্তি হওয়ার পরেই দেখি একের পর এক শ্রেণির বিভক্তি এবং সে-সব শ্রেণির সর্বনিম্নে আমার স্থান। ইবতেদায়ী আওয়াল থেকে শুরু করে দাওরা পর্যন্ত যেতে হলে একে একে দশটা সিঁড়ি আমায় চড়তে হবে। তবে মাঝখানে পা ফসকে গেলে এর লজ্জা অপমান তিরস্কার এবং গ্লানিবোধ–সবই আমার একার।  আমাদের রুমের সামনের রুমটাই ছিল দাওরায়ে হাদীসের। দাওরা আর আমাদের রুমের মাঝে দুই-তিন হাতের ছোট্ট একটা করিডোর। একটুখানি উঁকি দিলেই সেখানের সকাল-সন্ধ্যা দেখা যায়৷ দুটো পা এগিয়ে গেলে সেখানে ঢুকে বসেও থাকা যায়। তাই মুখোমুখি হওয়ার কারণে আম...
ছবি
আমার হাজার বছরের উদ্ভ্রান্ত ভালোবাসা, জনম জনমের উদ্বাস্তু আর  দিশেহারা হৃদয়ের সুশীতল আশ্রয় হোক এই "ভালোবাসার কালোঘর"! আমায় পানের সুরায় পান করাও হে সাকী, রহমতের এ অমৃত সুধা! পাপের জলসায় জ্বলে-পুড়ে ছারখার এ হৃদয়, মাতাফের এই উচ্ছল ফল্গুধারায় প্রাণ ফিরে পেতে চায়! স্নাত-পবিত্র হতে চায়, ভেসে যেতে চায় প্রেমের বাসরে।  কেউ কি আমায় একপশলা বৃষ্টি-মুখরিত ভোরের মাতাফে নিমন্ত্রণ করতে পারো? তবে তাঁর গোলাম হয়েই পার করে দেবো একলা একটা জনম।

দারিদ্রতা ও একটি আহ্বান

নামাজ শেষে সালাম ফেরানোর পরেই ইমাম সাহেব বললেন,এক মেয়ে এসেছে সাহায্যের জন্য। তার মায়ের......। সে বাহিরে দাঁড়িয়ে থাকবে। যে যা পারি, সাহায্য করি।  . নামাজের পরে বাহিরে গিয়ে প্রথমে কাউকেই দেখতে পেলাম না। হঠাৎ আঁধারে দেয়ালের সাথে মিশে দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণীর দিকে নজর পড়লো। বুঝতে পারছি না,এই মেয়ে কি সেই, ইমাম সাহেব যাকে সাহায্যের ব্যাপারে বললেন! নিজের ভেতর এই দ্বিধাবোধের কারণটা হচ্ছে, অন্যান্য সাহায্যপ্রার্থী কিংবা অল্প বয়েসী তরুণীরাও যেভাবে সাহায্যের আওয়াজ তোলে,এই প্রার্থী একেবারেই তাদের ভিন্ন। তিনি দাঁড়িয়ে আছেন ভাবটা এমন যেনো,ছোট ভাই মসজিদে নামাজে এসেছে। বড় বোন বাহিরে প্রতিক্ষমান। . অবাক হবার বিষয় হলো,মেয়েটা আপাদমস্তক বোরকাবৃতা। হাতে হাতমোজা ও পায়ে পা মোজা ছিলো। তার মানে হলো, মেয়েটা হয়তো মাদ্রাসায় পড়েন নয়তো ধার্মিক কোনো পরিবারের। অভাব,দীনতা,মায়ের অসুখের যন্ত্রণা তাকে আজ হাত পাতায় মাজবূর করেছে।  . আমার বাসায় বোন নেই। আত্মীয়দের ভেতরেও বোনের বড়ই অভাব। তাই মেয়েদের সংস্পর্শ থেকে আমি অনেকটাই দূরে৷ হয়তো এ কারণটাই আমাকে মেয়েটার সামনে গিয়ে সাহায্যের হাত বাড়াতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছিলো। ত...

আত্মহত্যা : যে জীবন ধূলিময়

ছবি
আত্মহত্যা আমাদের সমাজে একটি সহজ ও বহুল প্রচলিত শব্দ। আত্মহত্যা প্রায় প্রতিটি যুগেই প্রাসঙ্গিক ছিলো। এমনকি এখনও আছে। এই আত্মহত্যা নিয়ে আমাদের কৌতুহলের শেষ নেই। রবের দেয়া কৃতজ্ঞতাময় জীবন যখন অকৃতজ্ঞতায় পরিণত হয়, এই মহামানিক্য যখন অমূলক মনে হয়, তখনই কেবল মানুষ বেছে নেয় এই হীন ও জঘন্যতম পথ। আত্মহত্যা অর্থ হলো স্বয়ং নিজেকে হত্যা করা। আরেকটু গুছিয়ে এবং সুন্দর করে বললে, সহস্তে আল্লাহর দেয়া আমানতের খেয়ানত করা। যে দায়িত্ব আমার নয়, ঔদ্ধত্যের সাথে তা আদায় করা এবং ছিনিয়ে নেয়া। নিজের প্রাণনাশের কাজ নিজেই করাটা তো একরকম নিজের প্রাণ নিজে ছিনিয়ে নেয়াই বটে। উইকিপিডিয়ার ভাষ্যমতে, আত্মহত্যা বা আত্মহনন (ইংরেজি: Suicide) হচ্ছে কোনো ব্যক্তি কর্তৃক ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের জীবন বিসর্জন দেয়া বা স্বেচ্ছায় নিজের প্রাণনাশের প্রক্রিয়াবিশেষ। ল্যাটিন ভাষায় “সুই সেইডেয়ার” থেকে সুইসাইড বা আত্মহত্যা শব্দটি এসেছে, যার অর্থ হচ্ছে নিজেকে হত্যা করা। যখন কেউ আত্মহত্যা করেন, তখন জনগণ এ প্রক্রিয়াকে “আত্মহত্যা করেছে” বলে প্রচার করে। “মানুষ আত্মহত্যা কেনো করে”, এ নিয়ে রয়েছে নানান ধরনের অভিজ্ঞতা। আছে বিচিত্র গবেষণাও। আসল কথ...

অন্তঃশূন্যে অন্ধ হিম; হিমায়িত এক রহস্যের উপাখ্যান

ছবি
    অন্তঃশূন্যে অন্ধ হিম; হিমায়িত এক রহস্যের উপাখ্যান লেখিকা- সুফাই রুমিন তাজিন প্রকাশনি- বুক স্ট্রিট  পৃষ্ঠাসংখ্যা- ১৭১ মুদ্রিতমূল্য- ২৮০৳ • পাঠ সংক্ষেপঃ ঢাকায় বেড়ে ওঠা বড্ড খেয়ালি এবং অন্যরকম একটা ছেলে ‘রাশেদ খন্দকার’। চিলেকোঠার ছোট্ট একটি ঘর, একটি রকিং চেয়ার, মেঝেতে বিছানো জাজিম, আর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বইময় একটি মনোরমা জগতের ভেতর দিয়ে খুব সুন্দর যাচ্ছিল রাশেদের দিনকাল৷ যৌবনের শুরুর দিককার সর্বগ্রাসী অনিয়ন্ত্রিত একটি ঝড় যেন তার ভেতরকার যাবতীয় অস্থিরতা নিভিয়ে দিল। বান্ধবী ইরার চলে যাওয়ার পর থেকে একাকিত্বই তার নিত্যকার সঙ্গী।  বড়ভাই মাহফুজের পরামর্শে ঘরকুনো স্বভাবের এই রাশেদ বাবা-মা’কে ছেড়ে পড়ালেখার জন্য পাড়ি জমায় সুদূর রাজশাহীতে। একাকিত্ব ঘুচিয়ে আনতে এবং বন্ধু নাজমুলের একান্ত আবদারে তার বাড়িতে বেড়াতে যায়। ঝিমিয়ে পড়া জীবনে রাশেদের জন্য এই সফরটা একটা প্রেরণা হিসেবে কাজ করে। তার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে পুঠিয়ার একটি পুরোনো জমিদার বাড়ি। জমিদার বাড়ির আঙিনায় সর্বশেষ জমিদার সোমনাথ বাবুর নিষিদ্ধ ‘নীলাম্বরী’র ধ্বংসস্তূপের হাতছানি ফিরে ফিরে ভাবিয়ে তোলে রাশেদকে। এখানকার সা...

একটুখানি তাদাব্বুর

ছবি
❝এরপর সে (ফেরাউন) বলল, আমিই তোমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ মাবুদ। অত:পর আল্লাহ তাকে দুনিয়া ও আখিরাতের শাস্তিতে পাকড়াও করলেন। নিশ্চয়ই এতে রয়েছে শিক্ষা; যারা ভয় করে, তাদের জন্য❞। সুরা নাযিয়াতের ২৪-২৬ নং আয়াতে অভিশপ্ত ফেরাউনের ব্যাপারে বর্ণিত হয়েছে উপরোক্ত বাণীগুলো। আল্লাহ তায়ালা ফেরাউনের ঔদ্ধত্য এবং খোদায়ি দাবীকে তুলে ধরে তার শাস্তির কথা এখানে উল্লেখ করেছেন। বলেছেন তার নির্মম পরিণতির কথা। আর “যারা ভয় করে, তাদের জন্য এতে রয়েছে শিক্ষা” কথাটি বলার মাধ্যমে সুকৌশলে ইঙ্গিত করেছেন মানবসম্প্রদায়ের প্রতি। আয়াতত্রয়ে ফেরাউনের যেই উভজাগতিক শাস্তির কথা তুলে ধরা হয়েছে, তার একটি, অর্থাৎ আখেরাতের শাস্তির বিষয়টি তো সুনিশ্চিত। খোদায়ি দাবীদার একজনের জন্য যেই শাস্তি প্রযোজ্য হওয়ার কথা, তার তা-ই হবে। কিন্তু দুনিয়াবি শাস্তিটি কী, কিছু নিজস্ব ভাবনানুযায়ী আমি পাঠকের দৃষ্টি সেই দিকেই আকর্ষিত করতে চাচ্ছি। মারা গেলে হিন্দুধর্মে হিন্দুয়ানা পদ্ধতিতে শবদেহকে চিতায় রেখে দাহ করা হয়। মুসলিম সামাজের মৃত ব্যক্তিকে, এমনকি ইহুদী-নাসারাদেরকেও তাদের রেওয়াজ অনুযায়ী মাটি দেওয়া হয়। অগ্নিদগ্ধ ব্যক্তি জ্বলেপুড়ে ছাঁই হয়ে যায় এবং মাটির কোলে...

প্রেমের কাবা, মনের কাবা

ছবি
❝তৃষিতের অমৃত তুমি,  তুমি তাপিত হৃদের তামান্না! শেষ রাতের স্তুতি তুমি, এই গরীবের বন্দনা❞! আমার যুগযুগান্তরের আর্জিগুলো ভাবের ছন্দায়ন হয়ে এভাবেই তোমার আঁচলে জমা হচ্ছে দিনের পরে দিন! শত-সহস্র 'উন্মাদ' যেমন আবর্ত হয় তোমায় ঘিরে,তেমনি একবার হলেও জীবনে তোমার চারিপাশে তাওয়াফের 'আশিস', আমার উন্মাতাল হৃদয়ে বাঁধনহারা জোয়ার তোলে। আমি চেয়ে রই-কবে আসবে ডাক ভালোবাসার সেই ‘কালোঘরে’র। কবে আমিও পড়তে পারবো তালবিয়া- “লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইকের”। কবুল করো মাওলা!

রোজনামচাঃ জোৎস্নার চাদরে রাতের প্রেমময়তা...

ছবি
নদীর বুকে, পূর্ণ চাঁদের রাতে, উচ্ছল জলাধারে একটু একটু ভেসে যাচ্ছে আমাদের কাফেলা। এই জলযাত্রায় পৃথিবীর আকাশে আজ পূর্ণিমা রাত, রাতের গায়ে চাঁদনী বন্দনা এবং জোৎস্নায় মাখামাখি আঁধার জলধি। যেন জোৎস্নার আলোয় ভেসে যাচ্ছে নদীর গায়ের যত ময়লা! এ এক অদ্ভুত রোমাঞ্চ; অন্যতম উন্মাদনা। নদীর বুকে জোৎস্নাস্নাত চাঁদ আমার মনের ভেতর অদ্ভুত অনুভূতিকে উস্কে দিচ্ছে। এক বাচ্চামো ভাবনায় মুখিয়ে আছে আমার পুরোটা সময়। জীবনের অবুঝ বেলায় ঠিক যেভাবে ভাবতাম- “আমি যেখানে যাই, সেখানেই যায় ঐ চাঁদ”! চাঁদকে আজও আমার সাথে যেতে দেখে ভাবছি, আসলেই কি চাঁদ আমার সাথে সাথে চলছে? যেখানে যাচ্ছি সেখানেই যাচ্ছে? নাকি এ কোনো ভ্রম, জানিনা। সেই অবুঝ ভাবনা আমাকে আজও তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। আজ রাতের এই পবিত্র অনুভূতি আর এ অবুঝ ভাবনা আমাকে আমার “বাচপ্যনা” মনে করিয়ে দিচ্ছে! আহা, কী পবিত্র ছিলো সেই দিনগুলো! দীর্ঘ তেরো বছর পরে আজকের লঞ্চযাত্রা। তেরো বছর আগের সেই যাত্রাও অবশ্য এতো দীর্ঘ ছিলো না। চাঁদপুরে এসে সেবার থামতে হয়েছিলো, কারণ চাঁদপুরই ছিলো আমাদের গন্তব্য। আজকের সফরে চাঁদপুর পেছনে ফেলে এসেছি সেই কখন! কেননা, গন্তব্যের টানে আমাদের এগোতে হবে বহুদ...

রোজনামচা

ছবি
প্রেসক্লাবের সাংবাদিকতা ক্লাস শেষে জুমা পড়তে গেলাম বাইতুল মুকাররম। উত্তর গেইটের আঙিনায় আসতেই দেখি বিশাল পুলিশি বহর। তাদের প্রহরায় মেইন গেইট বন্ধ রেখে চেকিং গেইট দিয়ে মুছুল্লিদের ভেতরে ঢুকতে হচ্ছে। বাইতুল মুকাররমে পড়া এ আমার দ্বিতীয় জুমা। এর আগে গতো সপ্তাহেই প্রথম পড়েছিলাম৷ তাই মিছিল বা গণসমাবেশের সাথে আমার বোঝাপড়াটা খানিকটু কম। একেবারে যে নেই তাও না৷ আসা হয় না আরকি! এই-ই যা! আর এজন্যই এখানকার পুলিশি প্রহরা দেখে ভেবে বসেছিলাম ভিন্ন কিছু। সহপাঠি-সুহৃদ সালমান বললো, মিছিল কিংবা গণসমাবেশে তারা নাকি প্রটেকশন হিসেবে থাকে। কথাটা খুব একটা মনপুত না হলেও ফেলে দিলাম না।  নামাজ পড়ে বের হতেই দেখি গেইট থেকে না'রা দিতে দিতে কেবলই বেরিয়েছে একদল তৌহিদী জনতা। তবে সেখানেই তাদেরকে পুলিশি বাঁধার সম্মুখীন হতে হলো। মুখে শ্লোগান, শরীরে জোশ আর বুকে ঈমানি চেতনা। একেকজনের না'রায় ছিলো একেকরকম উচ্ছ্বাস, যেনো জলোচ্ছ্বাসের মতোন। তবুও, কোনো প্রতিশ্রুত নেতৃত্ব নেই, কোনো উচ্চকিত বয়ান-বক্তব্য নেই- এভাবেই নামাজ শেষে হুট করে বেরিয়ে পড়াটা আমার কাছে কেমন যেন ঠেকলো।  আরও কাজ আছে আমার। একজন আসবেন। তার অপেক্ষায় মসজিদে ...

একটি শুভ্র প্রার্থনা

ছবি
জায়নামাজে দুয়ায় বসে কাঁদছেন রোকেয়া। কান্নার দমকেই বোঝা যাচ্ছে কতোটা আকুলতা তাঁর মুনাজাতে। যেন অসহায় কোন বাঁদি মনিবের দুয়ারে প্রাণভিক্ষার দাবীতে ফোঁপাচ্ছে। মানুষ তার রবের নিকট কতোটা যে অসহায়, রোকায়া জামানিকে দেখে কিছুটা হলেও আঁচ করা যায়।  তিনি কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে বলছেন, “আয় আল্লাহ! আয় পরওয়ারদেগার! আর কত অপেক্ষা করা যায়! আর কতকাল এতোদূরে বসে থাকতে হবে! সারাজীবনের সাধ এবার তো পূরণ করুন! জীবনের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছি, সারাজীবনের যত পুঁজি একত্র করে আপনার দুয়ারে আঁচল পেতেছি। এবার তো দেখিয়ে দিন আপনার হারামাইনের আলো! এবার তো যেতে দিন আপনার ঘরের দরজায়! এবার একটু আশ্রয় দিন আপনার কাবার ছায়ায়! আপনার হাবীবের রওজায় গিয়ে সালাম পেশ করার তাওফিক দিন মালিক! আমার সারাজীবনের কষ্ট-সাধনা এবার কবুল করুন”! মুনাজাত শেষ করলেন রোকেয়া জামানি। খুবই আল্লাহভীরু নারী তিনি। স্বামী মারা যাবার পর একমাত্র ছেলে রাকিবকে নিয়েই কাটিয়ে দিয়েছেন সারাটা জীবন। আত্মীয়স্বজনের পীড়ায় পড়েও ছোট্ট রাকিবের মুখের দিকে তাকিয়ে আর বিয়ে করেননি তিনি।  একজন বিধবার এ সমাজে মূল্য কতোটুকু? তাই বিভিন্ন জায়গায় চাকরীর আবেদন করা সত্ত্বেও তার ...

নতুনের আয়োজন

ছবি
এ ঘরের সাথে আমার ‘একযুগ’ কালের দীর্ঘতম পরিচয়। কাঠফাটা প্রখর রোদের দিনে, সর্বনাশা বৃষ্টির প্লাবিত রাতে, ক্লান্তিময় রোগের আতিশয্যে এবং সর্বহারা অসহ্য শোকে এ আমাকে মনভরে থাকতে দিয়েছে। আমার হাসির খলখলে শব্দ যেমন এর মনে থাকার কথা, আমার কান্নাভেজা দিনরাত্রিকেও এর পক্ষে ভুলে যাবার জো নেই। নিজেকে ভেঙেগড়ে পরিচয় দিয়েছি আমি এখানে। এখানে নিজের প্রতিটি অধ্যায় আদ্যোপান্ত বর্ণনা করেছি।  এখানকার দেয়ালের প্রতিটি কোণ জানে আমার পরিচয়। দেয়ালের বুকে কান পাতলে হয়তো শোনা যাবে আমাকে। শোনা যাবে আমার জীবনের গেঁয়ো গীত আর কোরানের শুদ্ধস্বর তিলাওয়াতকে। আমার নিস্তরঙ্গ জীবন এবং খরতর যৌবনের দ্বন্দ্বসমাস সম্পর্কে পরিপূর্ণ ওয়াকিবহাল এই চারদেয়ালে ঘেরা ঘরময় জগতটা। তাই একে ছেড়ে যেতে আমার কোন তাড়া নেই; তবে ভেতরে ভেতরে তাড়না আছে খুব। ঘরটা দেখতে দেখতে ফাঁকা হয়ে এসেছে। সামানপত্র ইতোমধ্যেই সরিয়ে ফেলা হয়েছে৷ আমার কোন বইপত্রও এখানে আর নেই৷ আমাদের নতুন ফ্ল্যাট বাসায় সেগুলো স্বস্তির নিঃশ্বাস নিচ্ছে। এই ছাঁদের নিচে আমাদের বসবাসের দীর্ঘতম ‘একযুগে’ কখনো এমন হুলুস্থুল পরিবেশ এবং বিরান চিত্র আমি দেখিনি।  মানুষ খুবই আয়েসি প্রাণ...

মৃত্যুমুখী জন্মদিন

ছবি
আমরা এমন একটা পরিবেশ ও পরিস্থিতির মধ্যে বড় হয়েছি, যেখানে সম্পর্কের তেমন একটা গুরুত্ব না থাকলেও সম্পর্কসূত্রে গড়ে ওঠা দিনগুলির খুব গুরুত্ব আছে। জন্মবার্ষিকী, মৃত্যুবার্ষিকী ও  বিবাহবার্ষিকী আমাদের সমাজে নানান কারণে খুবই গুরুত্ববহ। আমার পরিবারে এসবের পুরোটা না থাকলেও এর একটা ক্ষীণ ও প্রচ্ছন্ন প্রভাব সবসময়ই ছিলো।  ধর্মীয় চেতনা ও আদর্শগত দৃষ্টিকোণ থেকে বলতে লজ্জার এবং সংকোচ মনে হলেও এটাই সত্য যে, আমার ভেতরেও এই নামমাত্র আনুষ্ঠানিকতা সেই ছোট্ট বয়স থেকেই খুব সামান্য পরিসরে যেমন ছিলো, এখনও আছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বেরিয়ে আসতে আমার আরো অনেক সময়ের প্রয়োজন। আমাদের আত্মীয় স্বজনের মধ্যে মানুষের জন্ম মৃত্যু নিয়ে একটু বাড়াবাড়ি রকমের উত্তেজনা আমি সবসময়ই লক্ষ্য করে এসেছি। মানুষের জন্ম নিয়ে এতোটা উত্তেজিত না হলেও, আমি মানুষের মৃত্যুর বিষয়ে দিনমান বিস্তর ভাবি। যে জীবনের জন্য আমাদের এতো আয়োজন, যেই যৌবনের জন্য আমাদের ভেতরে বিপুল চর্চা এবং তেজস্বী উন্মাদনা– সেই জীবন-যৌবনের করুণ পরিণতি সম্পর্কে কুল-কিনার করতে না পেরে যেন আকুলপাথারে ডুবে আছি।  আগেই বলেছি, আমার জীবনে এইসব দিনগুলোর গুরুত্ব এখনো বি...

আক্ষেপ

কাউকে মনেরমত করে লিখতে দেখলে আমার বুকের ভেতর অকথ্য আদিম ও অপরিসীম বন্যব্যথা জেগে ওঠে। একটা আর্তক্লিষ্টতামোহিত গোপন অবসাদ আমি অনুভব করি। এখন কোনমতেই নিজেকে টেনেটুনে লিখতে বসাতে পারি না। কলম খাতার সাহচর্যহীন এই জীবন আমি চাইনি; এখানে আমার ভালো লাগে না। অথর্ব অপরিণত ও অস্বস্তিকর মনে হয়। থেকে থেকে দম বন্ধ হয়ে আসে। আমি এই জীবন থেকে পালিয়ে বাঁচতে চাই। স্থুল দেহের উন্মত্ত যৌবনের খোলস ছেড়ে কিম্বা অন্তত মরে গিয়ে হলেও। যে জীবনে সাহিত্য নেই– শব্দের ভার ও মর্মের বেদনারহিত যে জীবন– যেখানে ভালোবাসা অস্পৃশ্য, সেখানে, সে জীবনে আমার কী!  চলো অন্য কোথা, অন্য কোনখানে... || আক্ষেপ, ইসহাক নাজির || ||১৯ শে জুন, ২০২১ ইং, শনিবার ||

জলের গান

ছবি
দিবানিশির সন্ধিক্ষণে আঁধারে ছাওয়া এমনি এক সন্ধ্যায় উম্মে হানীতে বসে আমরা বাইতুল্লাহর সৌন্দর্য উপভোগ করবো। বাইতুল্লাহর কৃষ্ণাভ শরীর গলে অপূর্ব আলোকচ্ছটা বেরোবে। পূর্ণিমারাতের জোছনার মতো আমরা সেই আলো আঁজলা ভরে নেবো। প্রাণের ক্ষুধায় গিলবো। বলা নেই, কওয়া নেই, হঠাৎ একখণ্ড মেঘ তেড়ে আসবে। বাদলের আভাসে আমি ভয়ে কাঁপতে থাকবো। তুমি মুখোমুখি বসে অভয় জাগাবে।  এমনো বৃষ্টি-সুখের নিরব সন্ধ্যায় বাইতুল্লাহর সর্ব সৌন্দর্য এবং সমূহ বৈভব মাতাফে নেমে আসবে। তুমি ‘কী আনন্দ, কী আনন্দ’ বলে গড়াগড়ি খাবে। বৃষ্টি ভাঙার মহানন্দে গদগদ হবে। আমি সেই বেপরোয়া-বাতাসে উড়ে যেতে থাকবো নির্জীব নিরাশ্রয় তাবুর মতো। তুমি খুটি হয়ে আমায় বেঁধে রাখবে তোমার বুকের পাঁজরের সাথে। বেঁধে রাখবে গায়ের চাদরে; বেঁধে রাখবে কৃত্রিম শাসনের আদরে। পরম ভালোবাসায় আমি আরো আমুদে হবো।  খানিক বাদেই লীলুয়া বাতাসে তোমার শরীর আগাম জ্বরে প্রকম্পিত হবে। আমি সমুদয় ক্লান্তি ভুলে তোমাকে জড়িয়ে ধরবো। তোমার ঠোঁট কাঁপবে। ভীত–কম্পিত হবে সারা গা। চোখের পাতায় ঘনিয়ে আসবে গ্রাম্য–প্রাচীন অবসাদ। তোমায় কোলে তুলে নেবো আমি। শুরু হবে জীবনের প্রত্যাশাঘন মহাপ্রতীক্ষিত...

রোজনামচা- চাওয়া-পাওয়ার কাছে জীবন যখন মূল্যহীন

এক বন্ধু গ্রাম থেকে এসেছে। নতুন মাদ্রাসা দিয়েছে। মাদ্রাসার কিছু কালেকশনের জন্যই আসা। কথাবার্তার এক পর্যায়ে গ্রামে ওর মাদ্রাসার পার্শ্ববর্তী আরেক মাদ্রাসার কিছুদিন আগে ঘটে যাওয়া একটা ঘটনা শোনালো। আমি তো শুনেই অবাক। এ কী করে সম্ভব? চাওয়া-পাওয়ার কাছে জীবনের কি কোনোই মূল্য নেই?  ঘটনাটা পাশের মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগের ১১/১২ বছরের একটা ছেলের। ছেলেটা কলরবের ভিডিওগুলো দেখতো সবসময়। তাঁদের মুভমেন্ট, চলা-ফেরা, পোশাকাদি সবকিছুই ওকে আকর্ষণ করেছে। বাবা দিনমজুরও না বললে চলে। ৫০০ টাকা কামাই করতে দুই তিনদিন লেগে যায়। ছেলে বায়না ধরলো, একটা জুব্বা বানিয়ে দিতে হবে। কলরবের মতো। খুব কষ্টে ইনকামের টাকা জমিয়ে বাবা ওকে একটা জুব্বা বানিয়ে দিলো।  শুধু জুব্বায় নিজেকে মানাচ্ছে না দেখে আবারো একটা কেডস কেনার বায়না ধরলো। বাবা এখন কেডস কেনার টাকা পাবে কোথায়! যেনো ছেলেকে বুঝ দেয়া যায় এমনভাবে বাবা বললো এক দুইশোর মধ্যে কোনো কেডস কিনে দেবেন৷ ছেলের তাতে মন ভরে না। তার কথা, কমপক্ষে পাঁচশো টাকার কেডস তো কিনে দিতেই হবে। তার অনবরত বায়না আর জেদ দেখে একপর্যায়ে রাগ হয়ে বাবা বললেন, কিনে দেবেনই না। যেই কথা সেই কাজ। এখানে এক...

ভাষা সাহিত্য-সাংবাদিকতাঃ প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা

সাহিত্যের প্রতি আমার যে ভালোবাসা, তা আজন্ম এবং সহজাত বলেই আমার বিশ্বাস। আমার ধারণা, আমার সাহিত্য-প্রতিভা সেই মানের না হলেও সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা এবং হাহাকারটুকু সঙ্গে করেই নিয়ে এসেছিলাম। সেই ছোটবেলা থেকেই চারপাশে এতো আনন্দ, এতো আদর-আহ্লাদের আয়োজন এবং এতো এতো মানুষের সমাবেশে থেকেও নিজের মধ্যেই কেমন যেন একাকিত্ব বোধ করতাম। অবসরে নিজেরই অজান্তে আমার ভেতর থিতু হয়ে থাকা আমি'র সাথে কথা বলতাম। কখনো রেডিওতে আবেগঘন  আবৃত্তি শোনলে মনটা খুশিতে বাকবাকুম করে ওঠতো। ভাবতাম, এতো সুন্দর করে মানুষ কীভাবে লিখতে পারে! এতো সুন্দর কী করে বলতে পারে! সেসব কল্পনা শুধুই আমার ভাবনার সাগরে ঢেউয়ের ঝাপটার মতো দোলা দিতো। হিফজখানার পাঠ চুকিয়ে কিতাব বিভাগে উত্তীর্ণ হতেই আমি ধাক্কার মতো খেলাম। সেই ধাক্কার নাম আমার প্রিয় শিক্ষক মুহতারাম আবুবকর মুহাম্মদ আদনান ( আল্লাহ তাঁর হায়াতে বারাকাহ দান করুন-আমীন)। বোধকরি, আমার জীবনের প্রথম বিস্ময়মানব তিনিই। মাদরাসায় তাঁর নেগরানিতে কেটেছে দু' দুটো বছর। তিনি আমাদের উর্দূ পড়াতেন। উর্দূ শব্দগুলোর বিভিন্ন অর্থ তুলতেন এবং বাক্যের ছন্দায়নে আমাদের মুগ্ধ করতেন। তাঁর কথার মাধুর্য ...